× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার

রূপগঞ্জে ধর্ষকের সঙ্গে কুমারী মাতার বিয়ে

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) থেকে | ১১ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৯:০১

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পিতৃহীন ৬ দিনের নবজাতক সন্তানকে কোলে নিয়েই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন কনে। সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিয়ের কাজ সম্পন্ন হচ্ছে উপজেলা অডিটরিয়ামে। বর প্রবাসে থাকায় টেলিফোনের মাধ্যমে করা হচ্ছে সকল আনুষ্ঠানিকতা। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এ নারীকে ধর্ষণের কারণে গর্ভবতী হয়ে পড়ে সে। সন্তান প্রসবের দ্বারপ্রান্তে এসে সামাজিক চাপে বিদেশে পালিয়ে যায় ধর্ষক। ৬ দিন পূর্বে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন কুমারী মা। এ অবস্থায় উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ের মাধ্যমে নবজাতক কন্যা ফিরে পায় তার পিতার পরিচয়। গত মঙ্গলবার বিকালে সম্পন্ন হয় এ আলোচিত বিয়ে।
জানা যায়, প্রায় ১ বছর পূর্বে ভোলাবো এলাকার সালাউদ্দিন ভূইয়ার ছেলে মোবারক হোসেন তার আত্মীয় একই এলাকার নাঈম মিয়ার মেয়ে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নাদিয়া আক্তারকে নানাভাবে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করে।
পরে এ ঘটনা কাউকে প্রকাশ করলে মেরে মাটিতে পুঁতে রাখার কথা বলে ভয়ভীতি দেখায়। একই কায়দায় বহুবার ধর্ষণের ঘটনা ঘটায় মোবারক। ঘটনার অনেক পরে নাদিয়ার পরিবার টের পায় সে গর্ভবতী। পরে নাদিয়ার কাছে বিস্তারিত জেনে তার পরিবার মোবারককে বিয়ের প্রস্তাব দিলে সে নাকচ করে। এ সময় মাস্তান দিয়ে ধর্ষিতার পরিবারকে বারবার হুমকিও দেয় মোবারক। নাদিয়া সন্তান প্রসবের দ্বারপ্রান্তে এলে সামাজিক চাপের মুখে মালয়েশিয়া পালিয়ে যায় ধর্ষক মোবারক। গত ৬ দিন আগে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়েটি একটি কন্যা শিশুর জন্ম দেয়। পরে স্থানীয়দের বিচারের আশায় ৫ দিন ঘুরেও বিষয়টির উপযুক্ত কোনো সমাধান করতে না পেরে মেয়েটির পরিবার রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মমতাজ বেগমের কাছে এসে নবজাতকের পিতৃপরিচয় পেতে বিচার দাবি করেন। ইউএনও কঠোর অবস্থান নিয়ে ছেলের অপকর্মের কথা জানিয়ে মেয়েটিকে বিয়ে করার কথা বললে উভয় পরিবার বিষয়টি মেনে নেয়। মঙ্গলবার বিকালে উভয় পরিবারের সম্মতিক্রমে ১০ লাখ টাকা কাবিন ও নবজাতকের নামে ২ শতক জমি লিখে দেয়ার চুক্তি সাপেক্ষে প্রবাসী মোবারকের সঙ্গে ভিডিও কলে নাদিয়ার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের শাড়ি, কাবিনের ফি ও বিভিন্ন খরচাদি ইউএনও নিজেই বহন করেন। বিষয়টির সুষ্ঠু ও সামাজিকভাবে সমাধান হওয়ায় স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূইয়া, ভোলাব ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটু, ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসান আশকারী, কাজী আব্দুল মতিনসহ ভোলাব এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
shishir
১০ জুলাই ২০১৯, বুধবার, ১২:০১

Cogratulations UNO!!!সরকারি করমচারিদের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখে ভালো লাগলো।সবার জন্য একটা উদাহরনও বটে।

অন্যান্য খবর