× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার

যেভাবে জঙ্গি দলে চট্টগ্রামের মেয়ে তানজি

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে | ১২ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, ৯:০০

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, টুইটার ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কথিত ধর্মযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া জঙ্গি সংগঠন আইএস-এ যোগ দেয় হাজার হাজার তরুণী। তেমনি এক তরুণী চট্টগ্রামের সাফিয়া আক্তার তানজি। যাকে একই কায়দায় দলে ভেড়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আনসার আল ইসলাম।
সোমবার মধ্যরাতে বরিশালের একটি মাদ্রাসা থেকে তানজিকে উদ্ধার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর কাওরানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লে. কর্নেল এমরানুল হাসান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া সাফিয়া আক্তার ওরফে তানজি চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর থানার সল্টগোলা ক্রসিং এলাকার বাসিন্দা হাফেজ আবদুস সালামের মেয়ে। গত ২৬শে জুন বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন তানজি। এ ঘটনায় তার বাবা বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
ডায়েরিতে তানজির বাবা উল্লেখ করেন, ২৬শে জুন সকাল ১০টায় কোনো কারণ ছাড়াই বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিরুদ্দেশ হন তানজি। বের হওয়ার সময় মাকে বলে যায়, তাকে যেন খোঁজা না হয়।
সে যেখানে যাচ্ছে সেখান থেকে আর ফিরে আসা সম্ভব নয়।
অনুসন্ধানে নেমে র‌্যাব পরিবারের সঙ্গে তানজির ম্যাসেজ আদান-প্রদান ও ফোন কলের সূত্র ধরে জানতে পারে, বাসা থেকে বেরিয়ে তানজি আনসার আল ইসলামের নারী সদস্য নাঈমার সঙ্গে দেখা করে। সেখান থেকে নাঈমা তার সংগঠনের নির্দেশে তানজিকে নিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তানজি ও নাঈমা গত ২৬শে জুন রাত ৯টায় বরিশাল শহরের একটা বাসস্ট্যান্ডে বাস থেকে নামেন।
এরপর পূর্ব থেকে অপেক্ষমাণ আনসার আল ইসলামের স্থানীয় সংগঠক সাইফ পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শহরের একটি মাদ্রাসায় তানজিকে ভর্তি করান। তানজিকে জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্যে নাঈমা নিজেও ছাত্রী হিসেবে স্থানীয় আরেকটি মাদ্রাসায় ভর্তি হন।
তানজির বাবার জিডির সূত্র ধরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর তার বিভিন্ন ইউনিটকে কাজে লাগায়। পরে প্রযুক্তির সাহায্যে তানজির অবস্থান শনাক্ত হলে বিশেষ অভিযানে নামে র‌্যাব-২ এর একটি আভিযানিক দল। যার নেতৃত্ব দেন ক্রাইম প্রিভেনশন কোমপানি-৩ এর কোমপানি কমান্ডার পুলিশ সুপার মো. মহিউদ্দিন ফারুকী।
সূত্র জানায়, আনসার আল ইসলামের সদস্যরা সাইফা আক্তার তানজিকে তাদেরই আরেক নারী সদস্যের সহযোগিতায় জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য বের করে নিয়ে গেছে। সেখানেই তানজিকে সাইফের সঙ্গে বিবাহ দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়। এরই মাঝে সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে র‌্যাব-২ এর আভিযানিক দল বরিশাল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ওই আবাসিক মহিলা মাদ্রাসা থেকে তানজিকে উদ্ধার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানজি র‌্যাবকে জানায়, তার ফেসবুক বন্ধু নাঈমা ও অন্য সঙ্গীদের প্ররোচনায় সে আনসার আল ইসলামের নেতৃস্থানীয় সদস্য সাইফকে বিবাহ করে স্বামীর চাহিদা অনুযায়ী জিহাদে শামিল হবার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তানজি জানায়, সাইফ জিহাদি মনোভাবাসম্পন্ন ব্যক্তি। ফেসবুক বা ফোনে যখনই তার সঙ্গে কথা হতো, সাইফ প্রকারান্তরে তানজিকে জিহাদে শামিল হওয়া, একই সঙ্গে শাহাদাতের মৃত্যু কামনা করা, শহীদের রাস্তায় মৃত্যু কামনা করাসহ সর্বাবস্থায় তাকে জিহাদে শামিল বা কালো পতাকার নিচে শামিল হওয়ার আহ্বান জানাত।
তানজি আরো জানায়, মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার সময় সাইফের কথা অনুযায়ী তানজি ও তার সঙ্গী বোন নাঈমা একই পিতার কন্যা পরিচয় দিয়ে মাদ্রাসায় ভর্তি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাইফা আক্তার তানজি গ্রামের (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) কলেজে লেখাপড়ার সময় ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ইসলামী রাজনীতিতে আসক্ত হয়ে পড়েন। দুই বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রাম শহরে থাকলেও তার সে আসক্তি কমেনি। তানজির সেই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম দলে টানে তাদের আরেক নারী সদস্যকে ব্যবহার করে।
র‌্যাব সূত্র জানায়, একটি ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত থেকে তানজি আনসার আল ইসলামের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। সেই গ্রুপের আরেক সদস্য নাইমার সহায়তায় আইএস স্টাইলে তানজিকে নিজেদের দলে ভেড়ায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আনসার আল ইসলাম। তাদের টার্গেট হিসেবে তানজি ছিল ধর্মভীরু, সহজ-সরল ও শান্তিপ্রিয় মেয়ে। যাকে সহজে নাশকতা সৃষ্টি ও জিহাদে উদ্বুদ্ধ করা যায়। এ ক্ষেত্রে দলে ধরে রাখতে আইএসের আরেক কৌশল অনুসারে তানজিকে আনসার আল ইসলামের অপর সদস্য সাইফের সঙ্গে বিয়ের প্রলোভনও দেখানো হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ৩১শে অক্টোবর লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে ঢুকে শুদ্ধস্বর প্রকাশনার কর্ণধার আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুলকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। সে হামলায় অংশ নেয় আনসার আল ইসলামের সদস্য সুমন হোসেন পাটোয়ারী। সুমনের বাড়ি চাঁদপুরে হলেও বড় হয়েছেন চট্টগ্রামের হালিশহরে। সেখানেই বাবা-মা, ভাই-বোনের সঙ্গে থাকতেন। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন কিন্তু পাস করতে পারেন নি। এ তরুণ চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লায় একটি মেডিকেল ইকুইপমেন্টের দোকানে সেলসম্যানের কাজ করত। সে সময় সুমন আদালতকে দেয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে জানান, সদস্য সংগ্রহে আল-কায়েদা বা আইএসের ম্যানুয়াল অনুসরণ করে আনসার আল ইসলাম।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর