× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার

জাহালমের কারাভোগে দায় স্বীকার দুদকের

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১২ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, ৯:৩৬

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ভুল মামলায় ‘ভুল আসামি’ হিসেবে তিন বছর কারাভোগ করা পাটকল শ্রমিক জাহালমের ঘটনায় নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে এ প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল হাইকোর্টে দাখিল করা প্রতিবেদনে দায় স্বীকার করে দুদক। বিচাপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও কামরুল কাদেরের গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান প্রতিবেদনটি দাখিল করেন। ২৪ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা, সরকারের পিপির সঙ্গে সমন্বয়হীনতার অভাবে এ ভুলের ঘটনা ঘটেছে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার, ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান ও জাহালমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ অলম খান বলেন, সমন্বয়হীনতার কারণেই এমনটা হয়েছে। জাহালম তিন বছরের জেল খেটেছে। এখন এর জন্য কে কতটুকু দায়ী তা আদালত নির্ধারণ করবেন।
অপরদিকে জাহালমের আইনজীবী অমিত দাস গুপ্ত বলেন, আমি মনে করি প্রকৃত দোষীদের বের করে আনার জন্য দুদকের তদন্তটি সঠিক ও যথার্থ হয়েছে। এখানে কার কি দায় তা খুব সতর্কতার সঙ্গে তুলে আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে দুদক যাতে এরকম ভুল আর না করে তার জন্য সুপারিশও আছে প্রতিবেদনে। সেই সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন হলে এমনটা আর ঘটবে না বলে আমি মনে করি। যেখানে দুদক নিজেই নিজেদের দায় স্বীকার করে নিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভুলে জাহালমকে আবু সালেক হিসেবে শনাক্ত করার ঘটনাটি ঘটে। আর দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভুল পথে চালিত করতে ভূমিকা রেখেছেন ব্র্যাক ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংকের কর্মকর্তারা এবং অ্যাকাউন্টের (ব্যাংক হিসাব) ভুয়া ব্যক্তিকে পরিচয় দানকারীরা। সঠিক ঘটনা তথা সত্য উদ?ঘাটন করে আদালতের কাছে উপস্থাপন করা তদন্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক কর্মকর্তা বা অন্য কারও ওপর এই দায়িত্ব অর্পণের কোনো সুযোগ নেই। দুদকের আইনজীবীর সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আগামী মঙ্গলবার বেলা দুইটায় শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন। প্রতিবেদনে  জাহালমের জেল খাটার বিষয়ে দুদক ও মামলার পিপিসহ সব পক্ষের দায় রয়েছে। মূলত সমন্বয়হীনতার কারণেই এতগুলি মামলা হয়েছে নিরাপরাধ জাহালমের বিরুদ্ধে।
জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ৩৩টি মামলা করে দুদক। ওই মামলার ২৬টিতে আসামি করা হয় জাহালমকে। এজন্য তিন বছর কারাভোগ করেন তিনি। গত ২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট কারাগারে থাকা জাহালমকে মুক্তির নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে ২৬ মামলায় আসামি করার ঘটনায় কারা জড়িত সে বিষয়ে দুদককে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। ওই নির্দেশের প্রেক্ষিতে দুদকের পরিচালক (লিগ্যাল) আবুল হাসনাত মো. আব্দুল ওয়াদুদ তদন্ত করে প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ কোটি টাকা অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় করা মামলাগুলো দুদকের ১২ জন তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত করেন। কিন্তু এদের কেউই জাহালমের বাড়ি যাননি। তদন্তকালে আমি জাহালমের বাড়ি যাই। তার বাড়ির দৈন্যদশা খুবই প্রকট। যদি ১৮ কোটি টাকা আত্মসাত করে থাকে তাহলে তার বাড়ির এই দৈন্যদশা কেন? ওই বাড়ি পরিদর্শন করলে আই.ওদের মনে সন্দেহ দেখা দিত। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৩ মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা সিরিয়াস/সঠিকভাবে মামলার তদন্ত করেননি। দুদকের কর্মকর্তারা প্রত্যেকেই একে অন্যের উপর নির্ভরশীল ছিলেন। প্রত্যেই আশায় ছিলো অন্যরা তদন্তে কোন অগ্রগতি করলে তারা সেটি কপি করবে এবং সেটিই তারা করেছে। এর মধ্যে শুধু ব্যতিক্রম ছিলো সেলিনা আখতার মনি। সেই আবু সালেককে সনাক্ত করার জন্য তৎপর ছিলো। কিন্তু সেও কাজটি নিজে না করে ব্যাংক কর্মকর্তাদের দিয়ে সেটা করাতে চেয়েছিলো। এখানে তদন্ত তদারককারী কর্মকর্তার কোন ভূমিকাই দেখা যাচ্ছে না। যিনি তদন্ত তদারক করছিলেন ওই কর্মকর্তাই এ ঘটনায় ৩৩ মামলা দায়েরের সুপারিশ করেছিলেন। তার উচিত ছিলো এসব নবীন ও অনভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের গাইড করা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহালমের লেখা পড়া না জানা, তার সামাজিক অবস্থান ও আর্থিক সঙ্গতি ঠিকমত বিবেচনা করলে সে যে প্রকৃত আসামি নয় তখনই তা উদঘাটিত হত। আত্মসাতকৃত ১৮ কোটি টাকা কোথায় গেল তদন্তকারী কর্মকর্তারা সে বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করেনি।
 এটা তদন্তকারী কর্মকর্তাদের একটি ব্যর্থতা/অযোগ্যতা ছিলো। ব্যাংক কর্মকর্তারা জড়িত থাকলেও তাদের কাউকে আসামি করা হয়নি। কিন্তু তাদের দুদক আইনের ৫(২) ধারায় চার্জশিটভুক্ত করা উচিত ছিলো। যেসব ব্যাংক কর্মকর্তা জাহালমকে মূল অপরাধী আবু সালেক হিসেবে সনাক্ত করেছিলেন তাদের দায় এড়ানোর কোন সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, একটি জাতীয় দৈনিকে ‘৩৩ মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে’, ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুরের ডুমুরিয়া গ্রামের জাহালম ‘ভুল আসামি’ হয়ে বিনা দোষে তিন বছর জেল খাটার ঘটনায় প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের  আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত। প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপনের পর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ আদেশে  দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ৩৩ মামলার মধ্যে মোট ২৬ টিতে ‘ভুল’ আসামি হয়ে জেল খাটার অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে দুদক চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি ও মামলার বাদীসহ চারজনের ব্যাখ্যা শোনেন আদালত। এরপর জাহালমকে ২৬ মামলায় জামিন দেন হাইকোর্ট।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর