× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার

চট্টগ্রামে অপরাধের মূলে অন্য জেলার অপরাধীরা

দেশ বিদেশ

ইব্রাহিম খলিল, চট্টগ্রাম থেকে | ১৩ জুলাই ২০১৯, শনিবার, ৮:৪৮

স্থানীয় অপরাধী নেই তা নয়। তবে, এ সংখ্যা হাতে গোনা। অপরাধীদের অধিকাংশই অন্য জেলার বাসিন্দা। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) শীর্ষ কর্মকর্তাগণ এ বিষয়টি স্বীকারও করেছেন।  
সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আবদুর রউফ এ প্রসঙ্গে বলেন, নগরীতে যাবতীয় অপরাধ সংঘটনের মূলে অন্য জেলার অপরাধীরা। তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এদের কেউ বহু আগে চট্টগ্রামে এসে বিভিন্ন বস্তি ও পাহাড়ে বসতি গেড়েছে। আবার কিছু আছে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতেই বস্তিতে বস্তিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও তা তার বাড়ির ঠিকানায় যাচ্ছে। এখানে দিব্যি ভালো মানুষ সেজে প্রতিনিয়ত অপরাধ করেই যাচ্ছে। পুলিশ তাকে খুঁজলেও পাচ্ছে না। এ অবস্থায় হাতে গোনা কয়েকজন নগর পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর তাদের কাছ থেকে ভয়ঙ্কর অপরাধের তথ্য মিলছে।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রতিদিন খুন গুম, ছিনতাই, ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য পাচার, অজ্ঞান কিংবা মলম পার্টির দৌরাত্ম্য, মোটরসাইকেল-সিএনজি অটোরিকশা চুরি থেকে মহাসড়কে ডাকাতি, সিঁদেল চুরি, জাল টাকার ব্যবসাসহ সকল অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এসব অপরাধের শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা ও বরিশালের অপরাধীরা। এরপর নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, ঢাকা, বরগুনা অঞ্চলের বাসিন্দা। প্রতি মাসে নগরীতে এ ধরনের অন্তত ত্রিশজন অপরাধী ধরা পড়ছে পুলিশের হাতে। সূত্রমতে, নগরীতে ছিনতাই কাজে জড়িতদের কেউই চট্টগ্রামের স্থানীয় নয়। ছিনতাই গ্রুপগুলোর মধ্যে ঢাকা থেকে দুটি গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করে জামাল, কামাল দুই ভাই। এ দুটি গ্রুপের ৩৫ জন সদস্যের প্রায় সকলেই বরিশালের লোক।
রয়েছে হামকা গ্রুপ, নুরুল আলম গ্রুপ, নূর হোসেন গ্রুপ ও আলমগীর গ্রুপ। এসব গ্রুপ আগে এক থাকলেও পরে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়। নোয়াখালী কেন্দ্রিক এসব গ্রুপের সদস্যরা সক্রিয় রয়েছে চট্টগ্রামে।
কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোটের নোয়াপাড়া গ্রামের জসিমের নেতৃত্বে কুমিল্লা গ্রুপ, কুমিল্লার নাজির উদ্দিন নাইজ্যা গ্রুপ, ফেনী ও ব্রাক্ষণবাড়িয়ার রফিক-কবির গ্রুপ, নোয়াখালীর নাজিম গ্রুপ ও নোয়াখালীর আপেল মিন্টু গ্রুপ, যশোরের সাইফুল আলম স্বপন গ্রুপ ছিনতাই করে বেড়াচ্ছে।
এর মধ্যে সাম্প্রতিক অভিযানে বেশ ক’জন ধরা পড়েছে কিন্তু বাকিরা ঠিকই সক্রিয় রয়েছে। অজ্ঞান ও মলম পার্টির একটি বৃহৎ অংশ বাইরের জেলা থেকে এসে নগর জুড়ে অপরাধ করছে। নগরীতে ২০০ জনেরও অধিক সিএনজি অটোরিকশা চালকের তথ্য আছে যারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত এবং অন্য জেলার বাসিন্দা। সিএনজি চালানোর ভান করে তারা নগরীতে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে।
বিশেষ করে নগরীর বায়েজীদ, অক্সিজেন, দুই নম্বর গেট, সিআরবি, ঝাউতলা, পাহাড়তলি, সদরঘাট, রেলওয়ে কলোনি, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহদ্দারহাট, ইপিজেড, বন্দরটিলা এলাকায় ছিনতাই করে তারা। পাচার করে ইয়াবাসহ নানা মাদকদ্রব্য। শাহ মো. আবদুর রউফ জানান, গত ২৫শে মে গ্রিলকাটা চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে সদরঘাট থানা পুলিশ। নগরের ইপিজেড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলো-কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি এলাকার নাজমুল হোসেনের ছেলে মো. রুবেল প্রকাশ বুড়া রুবেল (২৮) ও একই এলাকার মো. রফিকের ছেলে মো. খোকন (৩০)।
২২শে মে নগরের ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ এলাকায় সাইফুল ইসলাম ইমন (২৩) নামে এক ছিনতাইকারীকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে ডবলমুরিং থানার পুলিশ। সাইফুল ইসলাম ইমন গোপালগঞ্জ জেলার পোপিনাথপুর এলাকার মো. ছিদ্দিকের ছেলে। তার কাছ থেকে একটি এলজি উদ্ধার করা হয়েছে। একই দিন নগরের বাকলিয়া থানার মিয়াখান নগর ইসহাকের পুল এলাকা থেকে দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় দুইটি কিরিচ উদ্ধার করেছে বাকলিয়া থানা পুলিশ। এই দু’জন হলো- মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি এলাকার শাহেদ আলীর ছেলে রমজান (১৯) ও বরিশাল জেলার রাজাপুর এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে ইমন (২০)। শিক্ষা উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সমপাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সেজে প্রতারণার অভিযোগে মো. ওসমান (২৬) নামে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। ২১শে মে ভোররাতে ডবলমুরিং থানার ঝর্ণাপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওসমান খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি এলাকার আবদুল ওয়াদুদের ছেলে। তার মূল বাড়ি কুমিল্লায় বলে জানান কোতোয়ালি থানার ওসি মোহম্মদ মহসিন।
১৩ই মে নগরের সদরঘাট এলাকা থেকে সিএনজি অটোরিকশা চোর চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সদরঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমীন জানান, গ্রেপ্তার দুইজন হলো- লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর এলাকার আবদুল মান্নানের ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (৩৩) ও চাঁদপুর জেলার কচুয়া এলাকার নুর ইসলামের ছেলে মো. শরীফ।
৬ই মে নগরীর বাকলিয়া থানার ইসহাকের পুল এলাকা থেকে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ মনির হোসেন প্রকাশ কেহেরমান (২৮) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নেজাম উদ্দিন জানান, কেহেরমান কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার আলীরচর এলাকার মোতালেব হোসেনের ছেলে। তার  কাছ থেকে একটি এলজি, দুই রাউন্ড কার্তুজ ও ৫২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। একইদিন বিকালে কোতোয়ালি থানার ফিরিঙ্গীবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩১) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার মো. জাহাঙ্গীর আলম কুমিল্লা জেলার সদর উপজেলার কৃষ্ণপুরা এলাকার আবদুল রশিদের ছেলে। চট্টগ্রাম মহানগরীতে রয়েছে নারী পকেটমারদের কয়েকটি চক্রও। যাদের বাড়ি মূলতঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে। এদের সঙ্গে রোহিঙ্গা নারীরাও যুক্ত হয়েছে। গত ২৩শে এপ্রিল চট্টগ্রামে এক নারী সাংবাদিকের স্বর্ণের চেইন নেয়ার সময় ধরা পড়ে দুই নারী। যারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে রুবিনা নামের এক নারী জানিয়েছে, প্রতি সপ্তাহে তার চট্টগ্রামে আসতে হয় মামলার হাজিরা দিতে। এ সময় সুযোগ বুঝে ব্যাগ থেকে মোবাইল, চেইন, টাকা হাতিয়ে নেয় সে। কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন জানান, শুক্রবার রাতে সিনেমা প্যালেস এলাকা থেকে নুর ফাতেমা নামে ২০ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা তরুণীকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা চারটি মোবাইল ফোনের মধ্যে দুইটি মোবাইল ফোন সে শনিবার সন্ধ্যায় ও অপরটি গত ১৬ই মে দুই নারীর কাছ থেকে চুরি করে। শুক্রবার বিকালে টেরিবাজার এলাকায় এক নারীর ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন সেট সরানোর সময় রত্না নামের এক নারীকে আটক করে পুলিশে দেয় লোকজন। রত্নার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর হলেও থাকেন ঢাকায়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর