× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৮ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার

সিলেটে অসময়ে উন্নয়ন কাজে ভোগান্তি চরমে

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ১৩ জুলাই ২০১৯, শনিবার, ৮:৫৭

উন্নয়ন কাজ নিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। শীত মৌসুমে শুরু হওয়া প্রায় ৪০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ এখনো শেষ করতে পারেননি। কাজের প্ল্যানিং না থাকায় বর্ষা মৌসুমে কাজ হওয়ার কারণে নাগরিক দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে বলে অভিমত অনেকেরই। এ নিয়ে এবার নগরবাসীর ‘কাঠগড়ায়’ মেয়র আরিফ। প্রবল বর্ষণে ডুবে যাচ্ছে সিলেট নগরীও। নির্মাণ কাজের কারণে দীর্ঘমেয়াদে দুর্দশায় নাকাল হয়ে পড়েছেন নগরের বাসিন্দারা। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বিশেষ করে নগরীর ড্রেনের কাজে হাত দেন। গত জানুয়ারির পর থেকে পর্যায়ক্রমে এই কাজ শুরু হয়।
কিন্তু তার আগে সিটি ও জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি নগরীর রাস্তাঘাটের কাজ করিয়েছিলেন। কিন্তু নতুন করে ড্রেনের কাজ শুরু করায় এই রাস্তাঘাটের এখন বেহালদশা। খুঁড়ে ফেলা হয়েছে নতুন পিচঢালা রাস্তা। সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারে রমজানের আগে থেকেই ড্রেনের কাজ চলছে। এখনো কাজ শেষ হয়নি। ফলে, রমজান থেকেই ব্যস্ততম জিন্দাবাজারে দুর্ভোগ চলছে। নির্মাণ সামগ্রী ও ড্রেনের ময়লা আবর্জনা রাস্তায় পড়ে থাকায় পথচারী ও ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে রয়েছে। ঠিকাদারও ঢিলেতালে চালাচ্ছেন কাজ।

বৃষ্টির কারণেও কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের অভিযোগ- টাকা ছাড় না হওয়ার কারণে তারা দ্রুত কাজ করাতে পারছেন না। এদিকে- গত দুই মাস ধরে আম্বরখানা-বন্দরবাজার সড়কে ভূ-গর্ভস্থ পাইপলাইনের কাজ চলছে। বর্ষার মৌসুমে রাস্তায় খুঁড়াখুঁড়ি করে কাজ করায় এ সড়কে যানজট নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কাজও চলছে দ্রুত গতিতে। জিন্দাবাজারের শুকরিয়া, আহমদ ম্যানশন, লন্ডন ম্যানশন, প্লাজা মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- রমজানের আগে কালভার্ট নির্মাণের কাজে টানা দুই মাস রাস্তা বন্ধ করে রেখেছিল সিটি করপোরেশন। ওই কালভার্টের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ঝুঁকি নিয়ে কালভার্ট দিয়ে চলছে যানবাহন। আর এখন পাইপলাইনের কাজের জন্য ঈদের পর থেকে খুঁড়াখুঁড়ি চলছে। এতে করে তাদের ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বললেও কোনো লাভ হয়নি। এ ছাড়া নগরীর মীরাবাজার, মদিনা মার্কেট, পল্লবী আবাসিক এলাকা, বন্দরবাজার, আম্বরখানাসহ ৩০ থেকে ৩৫টি স্থানে উন্নয়ন কাজ চলছে। এসব কাজে নগরবাসীর দুর্ভোগের অন্ত নেই। নগর সূত্র জানিয়েছে- নগরীর উন্নয়নে চারাদিঘীরপাড়ে স্কুল, ধোপাদিঘীরপাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, পরিচ্ছন্নকর্মীদের জন্য ৬ তলা ভবন নির্মাণ কাজ চলছে। সিলেটের ছড়া ড্রেন নির্মাণ কাজে ২০ কোটি টাকার কাজ, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের জন্য ৬০ কোটি টাকার কাজ, ভূ-গর্ভস্থ লাইনের ৫৫ কোটি টাকার কাজ চলছে। ২৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছড়া ও খাল উদ্ধারের কাজ বর্ষার জন্য আপাতত বন্ধ রয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রায় ৪০০ কোটি কাজ চলছে। অন্যদিকে, বর্ষার মৌসুমে হওয়া কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে অনেকেই। এই কাজ তড়িঘড়ি করায় মানসম্পন্ন হবে না। এতে করে সুফল নগরবাসী ভোগ করবে না। তামাবিল সড়কের একটি ছড়ায় ৭ মাস আগে কাজ শুরু হলেও এখনো শেষ হয়নি। কালভার্টের পাশে মাসের পর মাস রাখা হচ্ছে নির্মাণ সামগ্রী। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের যানজট কমছে না। কয়েক দিন আগে মানবজমিনের কাছে বর্ষাকালে এসব কাজ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের সিনিয়র কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ ও রেজাউল হাসান কয়েস লোদি। তাদের মতে- বর্ষাকালে কেন কাজ চলবে? কাজের টাইমফ্রেম দরকার। এ ছাড়া কবে কাজ শুরু হবে, আর কবে শেষ করা হবে সেটিই প্রকল্প গ্রহণের সময়ই নির্ধারণ করা দরকার। কিন্তু এসব কাজ পরিকল্পনা মতো হচ্ছে না। এ কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নগরবাসী। আর সরকার থেকে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে টাকা দেয়া হচ্ছে। এসব টাকার যথাযথ ব্যবহার প্রয়োজন। তবে- সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী গণমাধ্যমের কাছে এ ব্যাপারে জানিয়েছেন- নাগরিক দুর্ভোগ কমানোর জন্যই এ কাজএ চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল নগরবাসীই ভোগ করবে। এজন্য কিছুটা ভোগান্তি মেনে নেয়ার কথা জানান তিনি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর