× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৪ আগস্ট ২০১৯, শনিবার

বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নির্দেশ

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৪ জুলাই ২০১৯, রবিবার, ৯:৩৫

 বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। দলের নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর গতকাল রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের এই নির্দেশনার কথা জানান। তিনি বলেন, অতিসম্প্রতি দেশে অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে ছেড়ে দেয়া পানি ভাটিতে নেমে আসায় বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে বন্যাপীড়িত দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলের সর্বস্তরেরে নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। দলের কেন্দ্রীয় ত্রাণ কমিটিকে সক্রিয় করে দূর্গত এলাকায় ত্রান সমাগ্রি পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি দেশের অর্থনীতি, দেশের স্বাধীনতার ওপরে বড় রকমের চাপ সৃষ্টি করেছে। এক্ষেত্রে এই সমস্যার সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু করতে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সরকার কোনো কার্যকরী উদ্যোগ নিতে পারছে না সরকার। তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চীনে গিয়েছিলেন। আমরা আশা করেছিলাম সেখান থেকে একটা পজেটিভ উত্তর পাব। কিন্তু সেটাও দেখতে পাচ্ছিনা। আমরা বরঞ্চ দেখলাম, চীন তার একই অবস্থানেই রয়েছে এবং আমাদের জন্য উপযোগী কেনো কথা চীনা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাইনি। এ বিষয়ে আমরা কূটনীতিকদের ব্রিফিং করবো এবং তার আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানাবো।
ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে দাবি করে মির্জা আলমগীর বলেন, আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা চরমভাবে ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং ব্যবস্থা একেবারে ভেঙে পড়েছে। তিনদিন আগে পিপলস লিজিং ফাইন্যান্স কোম্পানিকে বাংলাদেশ ব্যাংক অবসান করেছে। আমরা মনে করি, এ বিষয়টি গোটা ব্যাংকিং খাতের সিস্টেমের একটা প্রতিকী ঘটনা। এইভাবে গোটা ব্যাংকিং সিস্টেম ভেঙে পড়েছে। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এককভাবে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা না করে এবং ওই প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করে বন্ধ করে দেয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারি ও আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেয়ার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবি জানাচ্ছি।
এব্যাপারে পূঁজিবাজারের আমানতকারীসহ ব্যাংকিং ব্যবস্থার বেহাল অবস্থার বিষয়ে ভবিষ্যতে দলীয় কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানান বিএনপি মহাসচিব। এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় শহরে সমাবেশের কর্মসূচি শুরু হবে শিগগিরিই। ১৮ তারিখে বরিশালে, ২০ তারিখ চট্টগ্রাম ও ২৫ তারিখ খুলনায় সমাবেশ। আশা করছি আগামী ৩০ তারিখের মধ্যে বাকী বিভাগীয় শহরগুলো সমাবেশ করতে পারবো। মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দলের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে কারারুদ্ধ। চিকিৎসার জন্য এখন হাসপাতালে রয়েছেন। কিন্তু আমরা খোঁজ-খবর নিয়ে জেনেছি, তার স্বাস্থ্যের কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। তার শারীরিক যেসব সমস্যা ছিলো তার কোনো সমাধানই হয়নি। উপরন্তু সমস্যা বেড়েই চলেছে। সেই কারণে আমরা অবিলম্বে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। একাদশ সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল এবং সারাদেশে সংঘটিত নারী-শিশু ধর্ষন-হত্যা-গুমের বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে কয়েকদিনের মধ্যে আলাদা আলাদাভাবে সংবাদ সম্মেলন করে করণীয় তুলে ধরা হবে দেশবাসীর কাছে।
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিকালে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির এই বৈঠক হয়। লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৈঠকে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর