× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার মন ভালো করা খবর
ঢাকা, ১৫ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার

নতুনের জয়গানে ভাঙলো ক্রিকেটের উৎসব

ক্রিকেট বিশ্বকাপ-২০১৯

ইশতিয়াক পারভেজ, লর্ডস (ইংল্যান্ড) থেকে | ১৫ জুলাই ২০১৯, সোমবার, ৮:৫৯

দেড় মাস ধরে চলেছে ব্যাট-বলের লড়াই। অবশেষে ভাঙলো ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের মিলন মেলা। প্রায় ২৬০ কোটি দর্শক উপভোগ করেছেন এই বিশ্বকাপ, দাবি আইসিসির। ১১ ভেন্যুতে ১০ দল ছুটেছে ট্রফির পেছনে। তবে একে একে ঝরে পড়েছে ৮ দল। বিশেষ করে বিদায় নিয়েছে আগের বিশ্বকাপ জয়ী রাজারা। শেষ পর্যন্ত ৪৮তম ও শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ড মুখোমুখি হয় নিউজিল্যান্ডের। ফাইনালে মিলেছে ওয়ানডে ক্রিকেটের নতুন রাজার দেখা।
৩০শে মে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিকরা। নিজেদের মাঠে নেমেছিল আক্ষেপ ভোলার মিশনে। ২৭ বছর পর ইংলিশরা জায়গা করে নিয়েছে ফাইনালে। আগের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া-ভারত বিদায় নিয়েছে সেমিফাইনাল থেকে। তার আগে আরো তিন চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিদায় নেয় লীগ পর্ব থেকেই। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশের স্বপ্ন ছিল সেটিও শেষ হয়েছে রাউন্ড রবিন লীগ পর্বে। শেষ চারেতো নয়ই শেষ পর্যন্ত টাইগাররা ৮ম স্থানে থেকে শেষ করেছে বিশ্বকাপ অভিযান। ১৯৭৫-এ মঞ্চস্থ হয়েছিল ওয়ানডে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই আসর। টানা তিনবার আয়োজক ছিল ইংল্যান্ড। এরপর ইউরোপের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বকাপের আয়োজন হয় উপমহাদেশেও। অনেক জল গড়িয়ে আবারো আয়োজক হয় ক্রিকেটের জন্মভূমি ইংল্যান্ড। তবে সব শেষেও প্রশ্ন বিশ্ব ক্রিকেটকে কি দিতে পারলো বিশ্বকাপ? লর্ডসের ফাইনালে প্রেসবক্সে বসে বাংলাদেশের অন্যতম ক্রীড়া সাংবাদিক দৈনিক কালের কন্ঠের উপসম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেন, ‘আমি মনে করি উপমহাদেশের যে একচ্ছত্র কর্তৃত্ব ছিল তা এখন অনেকটাই কমবে। ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠায় এই অঞ্চলের ক্রিকেট আবারো জেগে উঠবে। তারা নতুন করে ক্রিকেট নিয়ে ভাববে। এতে করে ক্রিকেট বিশ্বে একটি ভারসাম্যই আসবে বলে মনে করি।’
ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ নানা কারণে ছিল আলোচনাতে। আলোচনার শুরুটা হয়েছিল কন্ডিশন নিয়ে। এখানকার উইকেট নিয়ে। কারা রাজত্ব করবে শেষ পর্যন্ত তাই নিয়ে ছিল প্রশ্ন। ধারণা করা হচ্ছিল উইকেট হবে ব্যাটিং স্বর্গ। হবে রানের বন্যা। তাই ট্রফির অন্যতম দাবিদার হিসেবে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতকেই ধরা হচ্ছিল। নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে কারো ভাবনাও ছিলনা তেমন। সেই কিইউদের কাছে হেরেই বিদায় নিয়েছে শক্তিশালী ভারত। তাদের বিদায়ে ধারণা করা হচ্ছিল ভাটা পড়বে ক্রিকেট উৎসবের। কিন্তু ইংলিশরা তা হতে দেয়নি। মাঠে হাজির হয়েছেন ক্রিকেটের প্রতি নিজ দলের প্রতি নিখাদ ভালবাসা থেকে। অন্যদিকে পাঁচ বারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ানদের বিদায় করে দিয়েছে ইংলিশরা। নিজেদের মাটিতে প্রথম ট্রফি জয়ের স্বপ্নে বিভোর দলটি অবশ্য লীগ পর্বে বিপদেই পড়েছিল। কিন্তু ভারতকে হারিয়ে তারা সেই বিপদ মুক্ত হয়। নিশ্চিত করে সেমিফাইনাল। এরপর তারা হয়ে ওঠে অপ্রতিরোদ্ধ। যাদের সামনে শেষ পর্যন্ত অজিরাও নত করেছে মাথা।
তবে এই বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষন ছিল বাংলাদেশ। গেল চার বছরে ওয়ানডে ক্রিকেটে তাদের ক্রম উন্নতি যে কোন দলের জন্য ভয়ের কারণও ছিল যথেষ্ট। ২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠায় এবার টাইগারদের কেউ কেউ ফাইনালের স্বপ্নও দেখেছিল। দলের লক্ষ্যও ছিল যেভাবেই হোক সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা। কিন্তু হয়নি। অবশ্য শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। দক্ষিণ আফ্রিকার মত শক্তিশালী দলকে হারিয়ে মাশরাফিরা স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু পরের ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে হয় ছন্দপতন। এরপর একে একে হার ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। নিশ্চিত জয়ের ভাবনায় থাকা শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে গেলে ধীরে ধীরে স্বপ্নের রংটা ধূসর হয়ে আসে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানকে হারিয়ে ফের জেগে উঠেছিল। কিন্তু ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে বিদায় নিতে হয়। শেষ পর্যন্ত এই বিশ্বকাপে কি বার্তা পেল বিশ্ব? মোস্তফা মামুন বলেন, ‘ বোলিং! হ্যা, এই বিশ্বকাপকে বলা হচ্ছিল ব্যাটসম্যানদের। শুধু এটাই নয় ওয়ানডেই এখন হয়েছে ব্যাটসম্যানদের জন্য। এখানে বোলাররা পাত্তাই পাচ্ছিল না। কিন্তু দেখেন নিউজিল্যান্ড দেখালো অল্প রান করেও জেতা যায়। শুরুটা ব্যাটসম্যানদের হলেও ধীরে ধীরে বোলাররা বুঝিয়েছে ওয়ানডেতে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজনীয়তাও কম নয়।’

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর