× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৪ আগস্ট ২০১৯, শনিবার

স্তব্ধ প্রেসিডেন্ট পার্ক

অনলাইন

মোহাম্মদ ওমর ফারুক | ১৪ জুলাই ২০১৯, রবিবার, ৯:৪০

প্রেসিডেন্ট পার্কে আর ‘প্রেসিডেন্ট’ আসবেন না। যেখানে জীবনের বিশটি বছর কাটিয়েছিলেন তিনি। সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে ১০ বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে এখন শোকাতুর পরিবেশ। নেতাকর্মীদের কেউ কেউ এসে বাড়ির সামনে বসে সাবেক প্রেসিডেন্টের জন্য দোয়া করে যাচ্ছেন। কথা হয় একসময়ে এরশাদের বাসার ইলেক্ট্রটিশিয়ান সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। বিদিশার সঙ্গে যখন এই বাসায় সংসার শুরু করেছিলেন এরশাদ, তখন তিনি এই বাসায় কাজ করতেন। সাইফুল বলেন, আমি গোপালগঞ্জ থেকে এসেছি। সকাল বেলায় যখন শুনেছি এরশাদ স্যার মারা গেছেন, তখনই আমি এখানে এসেছি।
স্যার আমাকে জীবনে অনেক সহযোগিতা করেছেন। জীবনে যখন প্রথম ব্যবসা শুরু করেছি তখন তিনি আমাকে লাখ খানেক টাকা দিয়েছিলেন। সেই টাকা দিয়েই ব্যবসা করে আজ আমি কোটিপতি। সবটাই স্যারের দয়া। এই বাসায় দশ বছর কাজ করেছি। এই মায়ায় এখানে এসেছি।  প্রেসিডেন্ট পার্কে সারাদিনে সাইফুলের মতো বেশ কয়েকজন মানুষের সঙ্গে দেখা হয়। যারা এরশাদের শুভাকাঙ্খি।

বাসাটিতে এরশাদ বসবাস শুরু করেন ২০০১ সাল থেকে। পরে  প্রায় ১৯ বছর এখানে তিনি ছিলেন তার ছোট ছেলে এরিক এরশাদকে নিয়ে। প্রেসিডেন্ট পার্কের ছয় তলায় ৭ হাজার ৪’শ স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাটটিতে থাকতেন তিনি। এরশাদের এই বাড়িটির জায়গার মালিক ছিলেন সাবেক জ্বালানী মন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন। পরে জায়গাটি কয়েকটি হাত ঘুরে এইচএম মোর্শেদের হাতে আসে। মোর্শেদ এরশাদকে জায়গাটি দানপত্র করে দেন। ১৯৯৯ সালে কনকর্ড গ্রুপকে এই জায়গাটি দেয়া হয় ভবন বানাতে। নিয়ম অনুযায়ী এই বাড়িটির ৬০ ভাগ অংশ পায় কনকর্ড আর বাকি ৪০ ভাগ পান এরশাদ। সেই হিসেবে এরশাদ এখানে পেয়েছিলেন চারটি ফ্ল্যাট। এর মধ্যে পাঁচতলায় দু’টি ফ্ল্যাট লিখে দেন সাবেক স্ত্রী বিদিশার নামে। পরে এরশাদের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে ফ্ল্যাটটি বিদিশা এক প্রবাসীর কাছে বিক্রি করে দেন। এর আগে পাঁচ তলায় এই ফ্ল্যাটটিতে বিদিশাকে নিয়ে সংসার শুরু করেছিলেন এরশাদ।

এরশাদ সর্বশেষ ছয়তলায় দু’টি ফø্যাট ভেঙ্গে এক করে সেখানে থাকতেন । এই ফ্ল্যাটটি ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক লিমিটেডের কাছে বন্ধক দেয়া। বাড়িটির ছাদে এরশাদের ব্যায়ামাগার ছিলো। প্রতিদিন সকালে তিনি সেখানে ব্যায়াম করতেন। এরশাদের এ বাড়িতেই ছিলো তার ব্যাক্তিগত ৬টি গাড়ি। প্রাডো, মার্সিডিজ বেঞ্জ, ল্যান্ডক্রুজার, নিশান আর ছিলো দু’টি মাইক্রোবাস। এরশাদ চারটি গাড়িতেই নিয়মিত চলতেন। তার এসব গাড়ি চালানোর জন্য তিনজন ব্যক্তিগত চালক ছিলেন। তারা হলেন আব্দুল মান্নান, আব্দুল আজিজ ও ওয়াদুদ।

সর্বশেষ ব্যক্তিগত গাড়ি চালক আব্দুল আজিজের গাড়িতে করেই  সিএমএইচ এ যান এরশাদ। আজিজ বলেন, স্যার প্রায় সময় বলতেন আমি আর মনে হয় বাঁচবো না। আমাকে কেন হাসপাতালে নেয়া হয়। আজিজ আরো বলেন, স্যার শেষ সময়ে খুব নার্ভাস ছিলেন। অল্পতেই কেঁদে ফেলতেন। শুধু মৃত্যু নিয়ে কথা বলতেন। এরশাদ ব্যায়াম করতে পছন্দ করলেও শেষ সময়ে অসুস্থ থাকার কারণে তিনি ব্যায়ম করতে পারেননি। জীবনের শেষ সময়ে তিনজন লোক তার বাসায় সার্বক্ষনিক দেখাশুনা করতেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর