× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২০ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার

দিনহাটার পেয়ারার জানাজায় অংশ নিতে স্বজনরা ঢাকায়

এক্সক্লুসিভ

কলকাতা প্রতিনিধি | ১৬ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ৮:২৯

পশ্চিমবঙ্গের দিনহাটার মানুষের কাছে তিনি পেয়ারা নামেই পরিচিত ছিলেন। সেই পেয়ারা তথা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর খবর রোববার দুপুরেই পৌঁছেছিল দিনহাটায়  এরশাদের ভাইদের পরিবার এবং বাল্যবন্ধুদের কাছে। সেই থেকে শোকস্তব্ধ ভাইদের পরিবার। রোববার কোনো রান্নাই হয়নি সেই পরিবারে। এরশাদের শেষ জানাজায় যোগ দিতে জন্মভূমি থেকে রোববারই গিয়েছেন ভাইপো আহসান হাবিব। গতকাল পৌঁছেছেন আর এক ভাইয়ের ছেলে জাকারিয়া হোসেন ও বোন বেগম নাজিমা আসমানি। দিনহাটা শহরের পুরনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এরশাদের পৈতৃক বাড়ি। এই বাড়িতেই বসবাস করেন তার দুই চাচাতো ভাই তোজাম্মেল হোসেন, মোসাব্বের হোসেন ও তাদের পরিবার।
এরশাদের ভ্রাতৃবধূ জেবুন্নেসা বলেছেন, বড়দা বাড়িতে এলেই বরোলি মাছের ঝোল ও খেজুরের রসের মিষ্টি খেতে ভালোবাসতেন। কৈশোরের সহপাঠী ও বন্ধুদের মধ্যে যে কয়জন বেঁচে রয়েছেন তাদের মুখে এখন শুধুই পুরনো দিনের কথা। যতবার দিনহাটায় এসেছেন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে থাকতেন। ছেলে এরিককে সঙ্গে নিয়ে আসতেন। শোনাতেন দিনহাটার গল্প। এমনকি ডুয়ার্সেও ঘুরে গিয়েছেন। এরশাদ নেই জানার পর দিনহাটায় এরশাদের আপনজনদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শূন্যতা। জেবুন্নেসাই বলছিলেন, পরিবারের ছাদ ছিলেন বড়দা। দুই মাস আগেই ভাইদের পরিবারের সকলে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তখন থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। দিনহাটার পরতে পরতে এরশাদের অনেক স্মৃতি রয়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার দিনহাটাতেই এরশাদের জন্ম। কৈশোরের একটা বড় সময় কাটিয়েছেন দিনহাটাতেই। দিনহাটায় এরশাদের পিতা ছিলেন খুবই প্রভাবশালী ব্যক্তি। তবে দেশভাগের সময় এরশাদের পিতা সীমান্তের ওপারে চলে গেলেও এরশাদের চাচারা থেকে গিয়েছেন দিনহাটাতেই। আর ছোটবেলায় কাটানো এই দিনহাটার টানে মাঝে মধ্যেই চলে আসতেন তিনি। প্রথমে ২০০৯ সালে এবং পরে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তিনি দিনহাটায় এসেছিলেন। দিনহাটা হাইস্কুলে পড়াশোনা করার সময় তার সহপাঠী ছিলেন রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত কমল গুহ, চিকিৎসক প্রয়াত অসিত চক্রবর্তী, সংগীতশিল্পী প্রয়াত সুনীল দাস ছাড়াও দিনহাটা পুঁটিমারী হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক সুধীর সাহা প্রমুখ। দিনহাটায় এলেই বন্ধুদের সঙ্গে মেতে উঠতেন পুরনো দিনের আলোচনায়। সাইকেলে চড়ে দিনহাটা ঘুরে বেড়ানোর দিনগুলোতে ফিরে যেতে চাইতেন। এমনই জানিয়েছেন তার বাল্যবন্ধু সুধীর সাহা। দিনহাটায় এলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাকে সংবর্ধনা দিলে তিনি খুশি হতেন। এরশাদের মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করে দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ বলেছেন, বাবার সহপাঠী ছিলেন এরশাদ। যে কয়েকবার তিনি দিনহাটা এসেছেন ততবারই তার সঙ্গে কথা হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর