× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৩ আগস্ট ২০১৯, শুক্রবার

কয়রায় ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীদের মারধর, হামলা ও কার্যালয় ভাঙচুর

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে | ১৬ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ৮:৪৪

খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগে অনুপ্রবেশকারী নেতাকর্মীরা। হামলায় ৪ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ২নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি আশিকুজ্জামান রাহাতকে গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে। থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মামলা নেননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। হামলার শিকার ছাত্রলীগ নেতা হাফিজুল ইসলাম বলেন, রোববার সন্ধ্যায় তারা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কার্যালয়ে বসে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। এ সময় কয়রা উপজেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি শরিফুল ইসলাম টিংকুর ভগ্নিপতি কয়রা থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ কাজলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। সেখানে উপস্থিত উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সভাপতি আশিকুজ্জামান রাহাত, যুগ্ম-আহ্বায়ক শাহিন, সদস্য ইমরান ও যুবলীগ নেতা হাফিজুল ইসলাম আহত হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় কয়রা উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সভাপতি আশিকুজ্জামান রাহাতকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর পরই বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। হামলায় ছাত্রলীগের কার্যালয়টিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এদিকে এ ঘটনার পর দোষীদের শাস্তির দাবিতে গতকাল দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে আহত নেতাকর্মীরা। এ সময় লিখিত বক্তব্যে তারা উল্লেখ করেন, কয়রায় বিএনপির কতিপয় সন্ত্রাসীরা নব্য ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মুখোশ পরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। কয়রা উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সরদার মতিউর রহমানের ছেলে হলেন কয়রা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ। আর তারই শ্যালক হলেন ছাত্রলীগ কয়রা থানার নবগঠিত কমিটির সভাপতি শরিফুল ইসলাম টিংকু। ফলে আত্মীয়স্বজন মিলে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রণ করছে। এলাকার নিরীহ মানুষের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করেই চলেছে। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর কয়রা উত্তর বেতকাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সরদার মতিউর রহমানের নেতৃত্বে যে নির্যাতন নিপীড়ন হয়েছে তারই পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উল্লেখ করা হয়, কয়রা থানার নতুন সভাপতি শরিফুল ইসলাম টিংকু কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের সঙ্গে ছবি তুলে তা এলাকায় দেখিয়ে শরিফুল ইসলাম টিংকু ব্যাপক চাঁদাবাজি শুরু করেছে। বিদেশে পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে ৮৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার এসব কর্মকাণ্ডে কয়রার ৫ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা তার বিপক্ষে অভিযোগও দিয়েছেন। এ ছাড়া ছাত্র না হয়েও ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ায় এলাকায় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এ পর্যন্ত শরিফুল ইসলাম টিংকুর নামে থানায় ৮টি জিডি হয়েছে। কাজেই এই সন্ত্রাসী চাঁদাবাজের কাছে কয়রা থানা ছাত্রলীগ নিরাপদ নয়। তারা শরিফুল ইসলাম টিংকুর বহিষ্কারসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম টিংকু বলেন, হামলার ঘটনার সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কোনো নেতাকর্মী দায়ী নয়। ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ আমার ভগ্নিপতি সে গত সংসদ নির্বাচনের আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। হামলার সময় কাজল আমার সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছিল না। অভিযোগকারীরা যা বলছে সেটি সঠিক নয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর