× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৪ আগস্ট ২০১৯, শনিবার

বাঁচানো গেল না সার্জেন্ট কিবরিয়াকে

অনলাইন

স্টাফ রিপোর্টার বরিশাল থেকে | ১৬ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ১:৪৩

আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছিল সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়াকে বাঁচানোর। শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপতালে রক্ত দেয়ার জন্য সহকর্মীদের ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিকালে হেলিকপ্টারে করে আনা হয় ঢাকায়। ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চলে চিকিৎসা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে আজ সকালে মারা যান তিনি। তার মৃত্যুতে বরিশাল পুলিশ প্রশাসনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এর আগে সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে একটি ক্যাভার্ডভ্যান কিবরিয়াকে চাপা দিলে গুরুতর আহত হন।   

জানা যায়, সোমবার সকাল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের কর্নকাঠী জিরো পয়েন্ট এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া। বেলা সোয়া ১২টার দিকে পটুয়াখালীগামী যমুনা গ্রুপের বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ডভ্যানকে (ঢাকা মেট্রো উ-১২-২০৫৪) থামার সংকেত দেন।
কাভার্ডভ্যানটি ট্রাফিক সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সার্জেন্ট কিবরিয়া একটি মোটরসাইকেলে ধাওয়া করে কাভার্ডভ্যানটির সামনে গিয়ে ফের তাকে থামার সংকেত দেন। কিন্তু না থামিয়ে কাভার্ডভ্যানচালক জলিল মিয়া সার্জেন্ট কিবরিয়াকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যান।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় সার্জেন্টকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। জানা যায়, তার দুই পায়ের ৪টি স্থান ভেঙে যায় এবং মূত্রথলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার রক্তের প্রয়োজন হওয়ায় ওয়ালেস বার্তা পেয়ে হাসপাতালে অগণিত সহকর্মী হাজির হন। কিন্তু কিবরিয়ার অবস্থার অবনতি হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল থেকে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় আনা হয়।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কিবরিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর পরপরই তাকে জরুরি বিভাগের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্ট রাখা হয়। তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। রাতেই বরিশালের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ তাকে দেখতে ঢাকা মেডিকেলে ছুটে আসেন। আজ সকালে সকলকে কাঁদিয়ে চলে যান না ফেরার দেশে।

এদিকে সার্জেন্টকে চাপা দেয়ার খবর পেয়ে পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠির নলছিটি থানা পুলিশ ধাওয়া করে চালক জলিল সিকদারসহ কাভার্ডভ্যানটি আটক করে। আটক যমুনা গ্রুপের কাভার্ডভ্যানচালক মো. জলিল মিয়ার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বন্দর থানায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় চালক মো. জলিল মিয়ার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৭টি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। বেপরোয়া গতিতে যান চালানো, সিগন্যাল অমান্য, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, সরকারি সম্পত্তির (মোটরসাইকেল) ক্ষতিসাধন, হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণসহ ৭টি অভিযোগ মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সার্জেন্ট গোলাম কিবরিয়া দীর্ঘদিন ধরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত। তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলায়। আটক যমুনা গ্রুপের কাভার্ডভ্যানচালক মো. জলিল মিয়া টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকার মৃত জলিল সিকদারের ছেলে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Ahmed Babla Malak
১৬ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ১০:০৬

এই সার্জেন্ট জন্য দুংখ হয় নিজের ডিউটি পালন করতে গিয়ে জীবন দিতে হল।উনার যেন জাননাত নচিব হয় । কিন্তু তিনি একটি ভুল করছিলেন আনাড়ির মত গাড়ির সামনে গিয়ে গাড়ি থামানোর চিন্তা মাথায় কি ভাবে আসল। এক বার যখন ছিকনাল দেওয়ার পর গাড়ি থামায় নাই ।তখন কি ভাবে ধাওয়া করে গাড়ি থামাতে হয় ।উনার জানা উচিত ছিল । যখন পয়লা বার গাড়ি থামায় নাই তখনই ওনার বুঝা উচিত ছিল ।গাড়িতে দুই নম্বরি কিছু আছে । তাই কি ভাবে গাড়ী এঠাক করতে হবে তিনি সেই টেনিঃ বযবহা করেন নাই ।

Sayed zaman
১৬ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ৫:৩৯

সম্ভবত কাভার্ড ভ্যানে নিষিদ্ধ মাল পরিবহন করা হচ্ছিলো। দু-বার থামানোর নির্দেশ দেয়ার পর ও চালক কেনো গাড়ি থামায়নি?

অন্যান্য খবর