× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার
চার দফা দাবিতে আবারো অবরোধ

বিক্ষোভ সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের

দেশ বিদেশ

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার | ১৭ জুলাই ২০১৯, বুধবার, ৯:৩৩

চার দফা দাবিতে আবারো নিউ মার্কেট মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত তারা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি অবরোধ করে রাখে। এ সময় আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে সাক্ষাতের আশ্বাস পেয়ে দুপুর দেড়টায় অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় এ পথে। তবে বিকালে ভিসির কার্যালয়ে গেলেও শিক্ষার্থীরা ভিসির সাক্ষাৎ পাননি। এ সময় তারা প্রক্টরের সঙ্গে নিজেদের দাবি দাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী দাবিগুলো পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নির্ধারণী ফোরামে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন শিক্ষার্থীদের।
এদিকে সাত কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার পরও প্রশাসন কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নেয়া, গতকাল সাত কলেজের আন্দোলনকারীদের কর্তৃক শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাস আটকিয়ে দেয়া ও ছাত্রীদের হেনস্তার প্রতিবাদে আজ আবারো বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। জানা গেছে, সকাল ১০টায় চার দফা দাবিতে নিউ মার্কেট মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। দ্বিতীয় দিনের মতো চলা এ আন্দোলনেও অধিভুক্ত সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীর ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলো- ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় বর্ষে প্রমোশন; গণহারে ফেল রোধ করে পুনরায় খাতা মূল্যায়ন; অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষার মাধ্যমে দ্বিতীয় বর্ষে ওঠার সুযোগ এবং পরীক্ষার ফল তিন মাসের মধ্যে দেয়া। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন না করায় ২০১৭-১৮ সেশনের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ‘গণহারে’ অকৃতকার্য হয়েছেন। নির্দিষ্ট গ্রেড পয়েন্ট না পাওয়ায় তাদের দ্বিতীয় বর্ষে উত্তীর্ণ করা হচ্ছে না। তারা বলেন, অধিভুক্ত করার পরে বার্ষিক ক্যালেন্ডার নেই, সিলেবাস নেই, রেজাল্ট দেয়ার আগে কোনো নোটিশ দেয় না। চরম অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তাদের শিক্ষাজীবন পার করতে হচ্ছে। তারা বলেন, আমাদের দায়িত্ব নিতে না পারলে তারা কেন আমাদের অধিভুক্ত করলো? ফারজানা ইসলাম নামে ইডেন কলেজের এক ছাত্রী জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে তাদের প্রথম বর্ষের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। যার পরীক্ষা হয়েছিল গত বছরের ডিসেম্বরে। সাত মাসের মাথায় এসে ফল পেয়ে সেখানে শিক্ষার্থীরা দেখেন অকৃতকার্যের সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া সিজিপিএ ২.০০ এর নিচে পেলে দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ নেই। তারা এসবের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন। ফারজানা অভিযোগ করে আরো বলেন, তাদের একেক বর্ষে একেক রকম সিজিপিএ। আমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। দুপুর পৌনে ১টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষক। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রক্টরের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করবেন বলে আশ্বাস দেন। শিক্ষার্থীরা জানান, সমাধান না হলে আবারো তারা আন্দোলন করবেন। এরপর তারা সড়ক ছেড়ে দেন। এরপর বিকালে সাত কলেজের আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। কিন্তু ভিসির সাক্ষাৎ না পেয়ে তারা প্রক্টর অধ্যাপক ড. কে এম গোলাম রব্বানীর সঙ্গে আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে প্রতিনিধিরা জানান, সাত কলেজের গণহারে বিষয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিবেচনায় নিয়েছে। সাত কলেজের প্রথম বর্ষ পরীক্ষায় যারা অকৃতকার্য হয়েছে তাদের একটি বিশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে পরবর্তী বছরে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ দেয়া হবে। তবে তিনের অধিক বিষয়ে কোনো শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হলেও সে শিক্ষার্থী শুধুমাত্র তিনটি পরীক্ষা দিতে পারবে। এ তিনটি পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে তাকে পরবর্তী বছরের সুযোগ দেয়া হবে। আন্দোলনের মুখপাত্র ইসমাইল সম্রাট বলেন, আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যারা গণহারে ফেল করেছে তাদের একটি বিশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে পরবর্তী বছরে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ দেয়া হবে। তবে সর্বোচ্চ তিনটি সাবজেক্টে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারবে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড.এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, সাত কলেজের প্রতিনিধিদল আমার কাছে এসেছিল। আমি তাদের দাবিগুলো শুনেছি। আমরা তাদের দাবিগুলো উপস্থাপন করবো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছিল। আমাদের প্রতিনিধি সেখানে গিয়ে তাদের আন্দোলন স্থগিত করতে অনুরোধ করে। তারা যে দাবিগুলো উত্থাপন করেছে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ামানুযায়ী সমাধান করা হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর