× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার

সন্ত্রাস উইপোকার মতো রাষ্ট্র-সমাজকে ভেতর থেকে খেয়ে ফেলছে: রিজভী

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৭ জুলাই ২০১৯, বুধবার, ৯:৫১

 সন্ত্রাস উইপোকার মতো রাষ্ট্র-সমাজকে ভেতর থেকে খেয়ে ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। গতকাল নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কুমিল্লা আদালতে বিচারক, কর্মকর্তা, পুলিশ, আইনজীবী ও বিচার প্রার্থীদের সামনে একজন আসামি আরেকজন আসামিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এটা একটি নজিরবিহীন নৃশংস হত্যাকাণ্ড। দেশে আইনশৃঙ্খলার ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। রিজভী আহমেদ বলেন, কুমিল্লার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক বেগম ফাতেমা ফেরদৌস সাংবাদিকদের বলেছেন- এই হত্যার শিকার আমিও হতাম কিংবা আমার কোনো সহযোগী বা কোনো আইনজীবীও হতে পারতেন। আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? আমাদের আসলে কোনো নিরাপত্তাই নেই। বিএনপির এই নেতা বলেন, সন্ত্রাস উইপোকার মতো রাষ্ট্র-সমাজকে ভেতর থেকে খেয়ে ফেলছে।
দেশে কি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি হলে একজন বিচারক এজলাসে তার নিজের নিরাপত্তা নিয়ে এমন আতঙ্কবোধ করেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসের নিরবচ্ছিন্নতা ও প্রসারে দেশজুড়ে জনগণের মধ্যে নীরব আতঙ্ক বিরাজ করছে। দেশজুড়ে কেবল গুম, খুন, ধর্ষণ, হামলা-মামলা, নারী-শিশুদের ওপর পাশবিক নির্যাতন চলছে। প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা, আগুনে পুড়িয়ে লোমহর্ষক কায়দায় হত্যাসহ দেশ ভরে গেছে অনাচার-অবিচার ও মহামারিতে। অন্যদিকে, সরকার ব্যস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে। রিজভী বলেন, প্রশাসন, বিচার ও আইনী ব্যবস্থায় গণবিরোধী প্রতারণামূলক নীতি কার্যকর আছে বলেই এই সকল সরকারি যন্ত্র ক্ষমতাসীনদের পক্ষে কাজ করে আসছে। তাই এই যন্ত্রই ২৯শে ডিসেম্বর মধ্যরাতে ভোট বাক্স ভর্তিতে সহযোগিতা করে এবং জনগণকে ভোট কেন্দ্রের ত্রিসীমানায় ঢুকতে না দিয়ে অবৈধভাবে গদি দখলে সরকারকে সহযোগিতা করে কৃপাধন্য হয়েছে। ফলে তারা আর সরকারের আদেশ নির্দেশ তোয়াক্কা করছে না। তারাও এই অবৈধ সরকারকে রক্ষার ব্রত নিয়ে ভোট বঞ্চিত জনগণের প্রতিপক্ষ হিসাবে কাজ করছে। এই রাষ্ট্র কার্যত অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। এখন পরিস্থিতি দেখে মনে হয় দেশে কোন সরকারই নেই। তাই আমি এই ব্যর্থ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবো-ক্ষমতা জোর করে বেশি দিন ধরে রাখা যায় না। জোর জবরদস্তির পরিণতি বড় করুণ এবং ভয়ঙ্কর। তাই ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। তিনি বলেন, সরকারের বিকট অমানবিকতা, নির্দয়-নিষ্ঠুরতার কোপানলে পড়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এখন কারাগারে, তিনি গুরুতর অসুস্থ। দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রাণপ্রিয় নেত্রীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ১৮ই জুলাই বরিশাল, ২০শে জুলাই চট্টগ্রাম ও ২৫শে জুলাই খুলনায় মহাসমাবেশ করবে বিএনপি। কর্মসূচি সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। জেলা-উপজেলায় প্রস্তুতি সভা হচ্ছে। এই শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশগুলোতে যোগ দিতে মানুষের আগ্রহের কোনো কমতি নেই। মহাসমাবেশ ঘিরে সাধারণ জনগণের অভাবনীয় সাড়া দেখে সরকারের চিত্তচাঞ্চল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সুকোমল বড়ূয়া, কবির মুরাদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর