× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২০ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার

বাসর হলো না নবদম্পতির

শেষের পাতা

ইসরাইল হোসেন বাবু, সিরাজগঞ্জ থেকে | ১৭ জুলাই ২০১৯, বুধবার, ১০:০০

একমাত্র ছেলের বিয়ের আয়োজনে কোনো কমতি ছিল না পরিবারে। আনন্দ উৎসবের প্রস্তুতিও নেয়া হয়েছিল। প্রায় সপ্তাহখানেক আগে সুমাইয়া খাতুন (২১)-এর সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়েছিল রাজন শেখের (৩২)। সোমবার যথারীতি ২টি মাইক্রোবাসে বর সেজে কনের বাড়িতে গিয়েছিল রাজন। উৎসবমুখর পরিবেশে বর-কনে কবুল পাঠ করে একে অপরকে জীবনসঙ্গী করে নেয় তারা। নব-দম্পতির চোখজুড়ে যখন একের পর এক সোনালী স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছিল নিয়তি তখন আড়াল থেকে মিটিমিটি হাসছিল। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বপ্নগুলো পড়ে রইলো স্বপ্নের জায়গায়। রইলো না স্বপ্ন বোনার মানুষগুলো।
একটি ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন বর-কনে দু’জনেই। একই সঙ্গে প্রাণ গেলো বিয়ে উৎসবের সফরসঙ্গী আট জনের। দুর্ঘটনায় আহত হলো আরও চারজন। আর নিয়তির এ নিষ্ঠুর খেলায় বিয়ে হলেও ফুলশয্যা হলো না রাজন আর সুমাইয়া দম্পতির। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর কান্দাপাড়ার গরু ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন ও উল্লাপাড়া উপজেলার এনায়েতপুর গুচ্ছগ্রামের মৃত গফুর শেখের বাড়িতে এখন উৎসবের পরিবর্তে চলছে শোকের মাতম। মঙ্গলবার সকালে উত্তর কান্দাপাড়া গ্রামে আলতাফ হোসেনের বাড়িতে গেলে দেখা যায় হাজারও মানুষের ভিড়। সবারই চোখ ছিল অশ্রুসজল। হাজার লোকের ভিড়েও একটি শোকাবহ পরিবেশ  পুরো  গ্রামজুড়ে।

২ বোনের একমাত্র ভাই টুইস্টিং মিলের শ্রমিক বর রাজন শেখের বাসরঘরটি তখনও তরতাজা ফুলে সজ্জিত। তবে তাতে ছিল না কোনো সুভাষ। এই খাটে যাদের ঘুমানোর কথা ছিল আজ তারা শেষ বিদায়ের খাটিয়ায় চড়ে মাটির বিছানা চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। রাজনের মা-বাবা ছেলের শোকে তখনও বার বার মূর্চ্ছা যাচ্ছিলেন। কোন কথা বলার মত অবস্থায় নেই তারা। ছোট বোনটিও কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। শোকে পাথর পুরো পরিবার। প্রতিবেশী কান্দাপাড়া গ্রামের সোহরাব আলী, আসমা খাতুন,  রুবিয়া খাতুন ও বাবলু শেখ জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে সুমাইয়ার সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয় রাজনের। সোমবার দু’টি মাইক্রোবাসে প্রায় ৩০ জন বরযাত্রী নিয়ে যান তারা। উৎসবমুখর পরিবেশে খানা-পিনা শেষে কলেমা পড়ে বিয়ে সম্পন্ন হয় তাদের। বিকেলে নব-দম্পতিকে নিয়ে কনের বাড়ি থেকে কামারখন্দ-উল্লাপাড়া আঞ্চলিক সড়ক পথে আনন্দের সঙ্গে ফিরছিলেন তারা। এ পথেই শাহিকোলা এলাকায় অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয় বর-কনে বাহী মাইক্রোবাসটি। আর এ দুর্ঘটনাতেই পরিসমাপ্তি ঘটে নব-দম্পতি রাজন-সুমাইয়ার জীবনের।  স্থানীয়রা জানান, দুপুরের আগেই রাজন ও তার মামাতো ভাই আলিফের (৯) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। দুপুরের পর উল্লাপাড়ায় সুমাইয়া ও তার ভাইয়ের স্ত্রী মমতার মরদেহ দাফন করা হয়। পর্যায়ক্রমে নিহত বাকিদের মরদেহ নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় ২টি তদন্ত কমিটি গঠন
এদিকে, দুর্ঘটনায় ১০জন নিহতের ঘটনায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে বিভাগ পাকশী ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক ২টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে দপ্তর থেকে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
অপরদিকে, মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছয় সদস্যের পৃথক আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ছয় কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা  হয়েছে। এছাড়াও নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঢাকা-ঈশ্বরদী রেলপথের উল্লাপাড়ার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়নে শাহীকোলা এলাকার অরক্ষিত রেলক্রসিং পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় বরযাত্রীবাহি মাইক্রোবাসে থাকা ১০ জন নিহত হয়। আহত হন আরও ৪ যাত্রী।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর