× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার

যে কারণে পুঁজিবাজারে পতন থামছে না

প্রথম পাতা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ১৭ জুলাই ২০১৯, বুধবার, ১০:১০

শেয়ারবাজার কেন্দ্রিক প্রণোদনা দেয়া হলেও কোনোভাবেই আশ্বস্ত হতে পারছেন না সাধারণ  বিনিয়োগকারীরা। বরং বাজারের প্রতি আস্থাহীনতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে তাদের। গত এক মাসে সূচক কমেছে ৩৮৪ পয়েন্ট এবং বাজারমূলধন কমেছে ২৪ হাজার কোটি টাকা। ফলে তিন বছর আগের অবস্থানে ফিরে গেছে ডিএসইর সূচক। লেনদেন নেমে এসেছে ৩০০ কোটি টাকার নিচে। অর্থাৎ নাজুক অবস্থায় দেশের শেয়ারবাজার।

এদিকে টানা দরপতনের প্রতিবাদে গতকালও মতিঝিলের রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচক কিছুটা বেড়েছে। অবশ্য সূচক বাড়লেও দেখা দিয়েছে লেনদেন খরা।
ফলে দুই মাসের মধ্যে ডিএসইতে সর্বোনিম্ন লেনদেন হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকটে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া তারল্য সংকট ও সাম্প্রতিক পিপলস লিজিং বন্ধ হওয়ার ঘটনায় আস্থা আরো চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বাজার মূলধনের ১১ শতাংশ দখল করে রাখা গ্রামীণফোনের শেয়ারের দাম পড়ে যাওযায় বড় ধরনের সূচকপতন হয়েছে বলে মনে করেন তারা। আস্থা অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা কাটবে না। তাদের মতে, চাহিদা ও সরবরাহ উভয় দিক থেকেই বাজারে সমস্যা দেখা দিয়েছে। চাহিদার দিক থেকে সমস্যা হল নতুন বিনিয়োগকারী আসছে না। আর সরবরাহের দিক থেকে সমস্যা হল ভালো কোনো কোম্পানি আসছে না।

এদিকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ডিএসই’র মাঝে একটি কোম্পানির তালিকাভুক্তি নিয়ে কিছুটা ভুল বুঝা-বুঝির কারণেও বাজার তার নিজস্ব অবস্থানে নেই বলে অভিযোগ অনেকের।

বাজার পর্যালোচানায় দেখা গেছে, দেশের অর্থনীতির সূচক উর্ধ্বমুখী হলেও পুঁজিবাজার উল্টোদিকে যাচ্ছে। ২০১০ সালের ধসের পর পুঁজিবাজার ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। ২০১৪ সালে কিছুদিন ডিএসই সূচকের ৫ হাজার ১০০ পয়েন্ট অতিক্রম করে লেনদেন হলেও ফের চার হাজার পয়েন্টে নেমে যায়। এরপর ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৪ হাজার পয়েন্টের ঘরে অবস্থান করে ডিএসই সূচক। ২০১৭ সালে পুঁজিবাজার ফের ঘুরে দাঁড়ায়। বিনিয়োগকারীরাও ফের নতুন আশায় বিনিয়োগ শুরু করেন। সূচকও ধীরে ধীরে ৫ হাজার পয়েন্টের মাইলফলক অতিক্রম করে। এর পর ২০১৭ সালের শেষের দিকে সূচক ৬ হাজার পয়েন্টের মাইলফলকও অতিক্রম করে। কিন্তু ২০১৮ সাল থেকে বাজার আবার নিম্নমুখী হতে থাকে। ২০১৯ সালের শুরু থেকে বাজারে বড় পতন শুরু হয়। যতই দিন যাচ্ছে, ততই বাজার নিম্নমুখী হচ্ছে। সূচক নামতে নামতে ফের ৫ হাজার পয়েন্টে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাজার সংস্কারে নানামুখী পদক্ষেপ নিলেও এখন পর্যন্ত কোনো ফলাফল দেখা যাচ্ছে না। বরং বিনিয়োগকারীরা বাজার নিয়ে চরম আস্থাহীনতায় থেকে এখন তাদের মূল পুঁজি ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তাই লোকসান দিয়েও অনেকে বাজার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে ‘শেয়ারবাজার ঠিক করো, নইলে বুকে গুলি করো’, এমন স্লোগান সংবলিত ব্যানার নিয়ে মঙ্গলবার ডিএসইর সামনে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। গতকাল দুপুর আড়াইটার কিছু আগে ব্রোকারেজ হাউজ থেকে বের হয়ে ডিএসইর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বিক্ষোভ ও মানববন্ধন থেকে বিনিয়োগকারীরা বিএসইসির চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেনের পদত্যাগ অথবা অপসারণ দাবি করছেন।

বিনিয়োগকারীরা বলেন, শুটকির দোকানে যদি বিড়াল পাহারাদার হয়, তাহলে লাভ তো দূরের কথা, পুঁজিই টিকবে না। আমাদের পুঁজিবাজারের অবস্থাও তাই হয়েছে। বিএসইসির চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন তার স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যস্ত রয়েছেন। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের পক্ষে তিনি কোনো কাজই করছেন না। এমন চেয়ারম্যান দিয়ে পুঁজিবাজার ঠিক হবে না। তাই বিএসইসির চেয়ারম্যান পদ থেকে খায়রুল হোসেনকে পদত্যাগ করতে হবে অথবা তাকে অপসারণ করতে হবে।

বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান উর রশিদ চৌধুরী বলেন, আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। প্রতিনিয়ত পুঁজি হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হচ্ছি। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, বাজার ঠিক না হলে আমাদের সামনে আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় থাকবে না।

তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বিএসইসির চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেনের পদত্যাগসহ বেশকিছু দাবি জানাচ্ছি। কিন্তু কেউ আমাদের কোনো দাবি মানছে না। বিএসইসির চেয়ারম্যান খায়রুল হোসেন বিনিয়োগকারীদের পক্ষে না থেকে ইস্যুয়ারের (কোম্পানি) দালালি করছেন। এই চেয়ারম্যানকে দায়িত্বে রেখে শেয়ারবাজার ভালো করা যাবে না। তিনি বলেন, টানা দরপতনের পর সূচক কিছুটা উঠেছে। কিন্তু লেনদেন ২০০ কোটি টাকার ঘরে নেমে গেছে। এটা কিছুতেই স্বাভাবিক বাজার হতে পারে না।

বাজার পরিস্থিতি: গতকাল নানা পদক্ষেপে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৩২ পয়েন্ট। লেনদেন শেষে সূচক অবস্থান করছে ৫ হাজার ১২৪ পয়েন্ট। মোট লেনদেন হয়েছে ২৭১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক বেড়েছে ৮৩ পয়েন্ট। এর আগে টানা আট কার্যদিবসে ডিএসইএক্স সূচক কমে ২৮৯ পয়েন্ট। সাড়ে ৩১ মাসের মধ্যে নেমে আসে সর্বনিম্ন অবস্থানে। কেবল সোমবারই সূচকটি কমে ৮৮ পয়েন্ট। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ১১ কার্যদিবসের মধ্যে ৯ দিনই সূচক কমেছে। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২২২টি, কমেছে ৯৪টি ও অপরিবর্তিত আছে ৩৬টির দর।

অন্যদিকে সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫২টি, কমেছে ৮৯টি ও অপরিবর্তিত আছে ২৭টির দর।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পিপলস লিজিংয়ের অবসায়নকে কেন্দ্র করে আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সাধারণের আস্থা তলানিতে ঠেকেছে। ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই লোকসানি ও খেলাপি হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর আমানত ফেরতের বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। আবার এসব প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য অংশই পুঁজিবাজারে। তাই আমানত ফেরতের চাপ কমাতে এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে শেয়ার বিক্রি করছে। এতে করে সূচকের বড় পতন ত্বরান্বিত হচ্ছে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকটে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। আর আস্থা অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা কাটবে না। ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, পুঁজিবাজারে শেয়ারের দর হ্রাস-বৃদ্ধি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এখন বাজারে যে পরিস্থিতি চলছে এটা আশানুরূপ নয়। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর