× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার

পিডিবির সিবিএ’র সেই দুই নেতার বিরুদ্ধে মামলা

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৮ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৮:৫৬

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন মিয়া। দুজনই দশ বছর ধরে অবৈধভাবে সরকারি পাজেরো গাড়ি ব্যবহার করে আসছিলেন। এই গাড়ি ব্যবহার করে চালকের বেতন, রক্ষণাবেক্ষণ ও তেল খরচ বাবদ সরকারের কোটি টাকা ক্ষতিসাধন করে আত্মসাৎ করেছেন তারা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের গাড়ি দুটি জব্দের পর থেকে অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেই ধারাবাহিকতায় ওই দুই সিবিএ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংস্থাটি। গতকাল দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য মানবজমিনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সরকারি গাড়ি অবৈধভাবে ব্যবহার ও চালক, তেল ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ কোটি টাকা ক্ষতিসাধন পূর্বক আত্মসাতের অভিযোগে সিবিএর সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। সহকারী পরিচালক খলিলুর রহমান সিকদার সংস্থাটির ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে-১ এ মামলাটি দায়ের করেন (মামলা নং -০৪)।


এজাহারে বলা হয়, পিডিবির সিবিএর দুই নেতার ব্যবহৃত গাড়ি দুটি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাজের স্বার্থে জরুরি প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জন্য ‘স্ট্যান্ডবাই’ (ভিআইপি) হিসেবে রাখার দপ্তরাদেশ দেয়া হয়। বোর্ডের কাজের স্বার্থে জরুরি প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জন্য ‘স্ট্যান্ডবাই’ (ভিআইপি) হিসেবে রাখার দপ্তরাদেশ থাকলেও নিজেদের ভিআইপি দাবি করে জহিরুল ইসলাম চৌধুরী এবং মো. আলাউদ্দিন ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের দখলে রাখেন। তারা গাড়ি দুটি ২৪ ঘণ্টা ব্যবহার করেন। ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গাড়ি ব্যবহার করে জ্বালানি, মেরামত ও সংরক্ষণ বাবদ সরকারি এক কোটি ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ২৭ টাকা ক্ষতিসাধনপূর্বক আত্মসাৎ করার বিষয়টি অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের গাড়ি ব্যবহারের নীতিমালায় প্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তিকে গাড়ি প্রদান করা যাবে না মর্মে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে একটি সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাদের নামে পাজেরো গাড়ি দুটি সরাসরি বরাদ্দ সংক্রান্ত কোনো পত্র পাওয়া যায়নি। শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তারা প্রভাব খাটিয়ে গাড়ি দুটি ব্যবহার শুরু করেন এবং প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত গাড়ি দুটি ব্যবহার করেন। ২০১৭ সালের ৩১শে আগস্ট আলাউদ্দিন মিয়া এবং ২০১৮ সালের ৬ই জুন জহিরুল ইসলাম চৌধুরী চাকরি থেকে অবসরে গেলও গাড়ি দুটি পরিবহন পুলে জমা দেননি।

এর আগে চলতি বছরের ১১ই ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারি আলাউদ্দিন মিয়ার কাছ থেকে অবৈধভাবে দখলে থাকা পাজেরো গাড়ি মতিঝিল এলাকা থেকে জব্দ করে দুদক। এ সময় জানা যায়, গত দশ বছর ধরে গাড়িটি ব্যবহার করছিলেন তিনি। চাকরিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় তিনি সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। আর সেই ক্ষমতা ব্যবহার করেই আলাউদ্দিন মিয়া তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারি হওয়া সত্ত্বেও যুগ্মসচিব পর্যায়ের কর্মকর্তার গাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করতেন। সূত্র জানায়, এসব বিষয় পিডিবির চেয়ারম্যান অবগত থাকার পরও তিনি নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। দুদকের অভিযানকালে জানা গেছে, দীর্ঘ সময়ে গাড়িটি ব্যবহার বাবদ সরকার থেকে প্রতিমাসে গাড়িটির জন্য ডিজেল বরাদ্দ হয় ৪৫০ লিটার, যার আর্থিক মূল্য ২৯ হাজার ২৫০ টাকা। এ হারে প্রতি বছরে জ্বালানি বাবদ ৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা খরচ হয়। এভাবে সিবিএ নেতা আলাউদ্দিন ২০০৯ সাল থেকে গত ১০ বছরে গাড়িটির জন্য পিডিবি থেকে ডিজেল খরচ তুলেছেন ৩৫ লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রতি মাসে ড্রাইভারের বেতন বাবদ ৪১ হাজার টাকা খরচ হয়। এ পর্যন্ত এ গাড়ির ড্রাইভারকে ৩৭ লক্ষাধিক টাকা বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিমাসে গাড়িটির পেছনে ১০ লিটার মবিল এবং মেরামত ব্যয় হয়েছে।

আলাউদ্দিন মিয়ার কাছ থেকে গাড়ি উদ্ধার অভিযানের পরদিনই (১২ই ফেব্রুয়ারি) পিডিবির কর্মকর্তারা স্বেচ্ছায় সিবিএ’র সভাপতি জহিরুল ইসলাম চৌধুরীর দখলে থাকা গাড়িটিও দুদকের হেফাজতে দিয়ে যান। জহিরুল ইসলাম পিডিবির অডিট পরিদপ্তরের হিসাবরক্ষণ পদে কর্মরত ছিলেন। তিনিও সিবিএ নেতা হওয়ায় ক্ষমতার জোরে ১০ বছর ধরে গাড়িটি ব্যবহার করেছেন বলে জানা গেছে। দুদক জানায়, জহিরুল ইসলাম চৌধুরীর কাছে থাকা গাড়িটি বাবদ দৈনিক ১৫ লিটার জ্বালানি তেল হিসেবে মাসিক ২৯ হাজার ২৫০ টাকা গাড়িটির পেছনে খরচ হয়েছিল। অর্থাৎ গত ১০ বছরে জ্বালানী বাবদ গাড়িটিতে খরচ হয়েছে ৩৫ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। এছাড়া গাড়িচালকের বেতন ও ওভারটাইম বাবদ প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা এবং মেরামত ও আনুষাঙ্গিক খরচ মিলিয়ে গত ১০ বছরে সর্বমোট প্রায় এক কোটি টাকা গাড়িটির জন্য ব্যয় করা হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর