× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৬ আগস্ট ২০১৯, সোমবার
রোহিঙ্গা নির্যাতনের তদন্ত

ঢাকায় আইসিসি প্রতিনিধিদলের সিরিজ বৈঠক-ব্যস্ততা

দেশ বিদেশ

কূটনৈতিক রিপোর্টার | ১৮ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৯:৩৮

ঢাকায় সিরিজ মিটিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে মিয়ানমারের রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশ সফরে আসা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত-আইসিসি’র প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার আসা দলটি গতকাল আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আজও তাদের বেশ ক’টি বৈঠক রয়েছে। বিকালে তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে বসবেন। সফরের সমাপনীতে তারা কক্সবাজারে কাটাবেন। সেখানে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন ছাড়াও বর্বরতার শিকার বিশেষতঃ নারী ও কিশোরীদের সঙ্গে তারা কথা বলবেন। তাদের সাক্ষ্য নেবেন। এর আগে, এক ই-মেইল বার্তায়, রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানো বর্বরোচিত অপরাধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তাদের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানাতে প্রতিনিধি দল কক্সবাজার তথা বাংলাদেশ সফর করবে বলে জানিয়েছিল আইসিসি।
এটি আইসিসির দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশ সফর। গত মার্চেও একটি দল কক্সবাজার ঘুরে যায়। সেখানে তারা ৭দিন কাটিয়েছিল। মূলত নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের বক্তব্য শোনাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। এবারে প্রতিনিধি দলটির সফরের লক্ষ্য ভিন্ন। এবারও তারা কক্সবাজার যাবেন, তবে সরকারের সঙ্গে আলোচনাই অগ্রাধিকারে থাকছে। সূত্র মতে, এখানে ৩দিন কাটাবে প্রতিনিধি দলটি। তাদের আলোচনার ফোকাসে রয়েছে রোহিঙ্গা নির্যাতন তদন্তে ঢাকার সঙ্গে একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়া। আইসিসির ডেপুটি একজন প্রসিকিউটরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি এসেছে। আইসিসি যে কোন তদন্তের আগে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে। এটি ঘটনার শিকার রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেই হয়ে থাকে। রোহিঙ্গা সঙ্কটের উৎপত্তি মিয়ানমারে হলেও এর শিকার বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ঘাড়ে পড়ে ১১লাখ রোহিঙ্গার বোঝা। ফলে তদন্ত কাজের সহায়তার জন্য তারা বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিতে আগ্রহী। রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় তদন্ত ও বিচারের লক্ষ্যে নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক আইসিসির কাজ করে চলছে। যদিও মিয়ানমার আইসিসির সদস্য নয়। তবে আইসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সদস্য না হলেও রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনার বিচারে কোন সমস্যা হবে না। ঢাকার কর্মকর্তারা বলছেন, আইসিসির তদন্তের পূর্বশর্ত হচ্ছে চুক্তি। ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে এটি হচ্ছে। এখানে একটি অফিস খোলার চিন্তাও তাদের রয়েছে। তবে সব কিছু নির্ভর করছে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার ফল কী হয়। এটি আজই হয়ত জানানো হবে। উল্লেখ্য, এর আগে, জুলাই-এর প্রথম সপ্তাহে আইসিসির প্রধান কৌঁশলি ফেতু বেনসুদা মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের নির্বাসন ও তাদের বিরুদ্ধে করা অন্যান্য অমানুষিক কাজকর্ম ও অত্যাচারের অর্থাৎ মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ তদন্ত করার অনুমতি চায়। রাখাইনে ৯ অক্টোবর ২০১৬ থেকে শুরু করে আজ অবধি যেসব ঘটনা ঘটেছে বিশেষ মানবতা বিরোধী অপরাধ হয়েছে সেটি এই তদন্তের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশে বর্তমানে ১১ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এরমধ্যে সাত লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচানোর জন্য ২০১৭ এর আগস্ট থেকে রাখাইনের নিজ ভূমি ত্যাগ করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। ২০১৭ থেকে গণহত্যার মতো জঘন্য অপকর্মের মাধ্যমে মিয়ানমার মিলিটারি রোহিঙ্গাদের মাতৃভূমি থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য করে। গণহত্যা আর মানবতাবিরোধী অপরাধ চালিয়ে রোহিঙ্গাদের যেভাবে রাখাইন থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, তার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পেয়েছে আইসিসির তথ্যানুসন্ধানকারী দল। তারা এ নিয়ে আরও তদন্ত করবে। প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের সত্যানুসন্ধানী দল ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে হত্যা, গণধর্ষণ ও বর্বরতা চালানোর মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ পরিচালনার অভিযোগে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংসহ ছয় জেনারেলকে আইসিসিতে বিচারের সুপারিশ করা হয়েছিল। এখন দেখার বিষয় আইসিসি নিজেরা কতটা অগ্রসর হতে পারে। ঢাকা অবশ্য এ নিয়ে আশাবাদী।





অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর