× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার

আদালতের নিরাপত্তায় নেয়া ব্যবস্থা জানাতে হাইকোর্টের নির্দেশ

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১৮ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৯:৫৩

কুমিল্লায় বিচারকের এজলাস কক্ষে খুনের ঘটনার পর বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের গাফিলতি খতিয়ে দেখে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা আগামী ৩০শে জুলাইর মধ্যে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বিচারপতি এফআর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপ?তি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।

আদালত বলেছেন, কুমিল্লার আদালতের এজলাসে ছুরি নিয়ে ঢুকে যায় লোকজন। সেটা ধরা পড়ে না। তাহলে পুলিশের কাজ কী? পুলিশ কী করে? এ সময় আদালত প্রশ্ন তুলেন, আদালতে কী নিরাপত্তা দিচ্ছে পুলিশ। জজ সাহেবদের নিরাপত্তা কোথায়? বিচারক, আইনজীবী ও আদালতের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। কুমিল্লার পর সুপ্রিম কোর্ট বারেও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় কোর্টে আইনজীবী, জাজ ও কর্মকর্তাদের সিকিউরিটির জন্য কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদ বাশার বলেন, কুমিল্লা এবং সুপ্রিম কোর্ট বারের দুটি ঘটনাই ব্যক্তিগত। এ সময় বিচারক বলেন, ব্যক্তিগত হোক আর যাই হোক, কোর্টের ভেতরে ছুরি নিয়ে কীভাবে যায়? পুলিশ কী করে? ডেফিনেটলি এটা পুলিশের গাফিলতি। রিট আবেদনকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান তখন বলেন, নিরাপত্তা তো সবার জন্য। উনিও (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন।

তাই আইনজীবী, বিচারকসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর আদালত ৩০শে জুলাইয়ের মধ্যে দেশের আদালতগুলোতে আইনজীবী, বিচারক ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং কুমিল্লার আদালতে ঘটনার দিন সেখানে যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা জানাতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দেন। আদেশের পর রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান সাংবাদিকদের বলেন, বিচার বিভাগ, বিচারাঙ্গন ও বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রলায় থেকে একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের। সেসব চিঠি বা নোটিশে বিচারাঙ্গন ও বিচারকের বাসভবন সুরক্ষিত রাখতে বলা হয়েছে। তার মানে হচ্ছে, তাদের (পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) দায়িত্বটা ছিল বিচারাঙ্গন ও বিচারকের বাসভবন সুরক্ষিত রাখা। কিন্তু তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে তারা ব্যর্থ হয়েছেন বলেই কুমিল্লায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি সোমবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গনেও আইনজীবী ও এক আসামির উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

গত ১৫ই জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফাতেমা ফেরদৌসের আদালতে বিচারিক কার্যক্রম চলার সময় হত্যা মামলার আসামি আবুল হাসান সহযোগী আসামি ফারুক হোসেনকে ছুরকাঘাত করে খুন করে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার দেশের সব আদালত অঙ্গন ও বিচারকদের যথাযথ নিরাপত্তা দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান এ রিট দায়ের করেন। রিটে বিচার বিভাগ, বিচারাঙ্গন ও বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং বিচার বিভাগ, বিচারাঙ্গন ও বিচারকদের যথাযথ নিরাপত্তা দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না- সেই মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ, আইন, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক ও  র‌্যাব মহা পরিচালককে সেখানে বিবাদী করা হয়েছে। রুল ছাড়াও বিচারাঙ্গনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, প্রত্যেক বিচারকের জন্য গানম্যান দেওয়া, বিচারকদের বাস ভবন ও চেম্বার সুরক্ষিত করার বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া, আদালত প্রাঙ্গণে মেটাল ডিটেকটর ও দুই স্তরের পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা অর্থাৎ পুরো আদালত অঙ্গনকে নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রত্যেক আদালত কক্ষের সামনে ভারি অস্ত্রসহ দক্ষ ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী তিনজন পুলিশ নিয়োগের নির্দেশনা চান রিটকারী।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর