× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৪ আগস্ট ২০১৯, শনিবার
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

পানির নিচে শেরপুর-জামালপুর মহাসড়ক

বাংলারজমিন

শেরপুর প্রতিনিধি | ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, ৮:৪৪

শেরপুরে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বৃদ্ধির কারণে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পুরনো ভাঙন অংশ দিয়ে বন্যার পানি দ্রুতবেগে প্রবেশ করায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শেরপুর-জামালপুর মহাসড়কের পোড়ার দোকান কজওয়ের (ডাইভারশন) ওপর দিয়ে প্রায় আড়াই ফুট উচ্চতায় প্রবলবেগে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ওই সড়কে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করলেও যেকোনো সময় শেরপুর থেকে জামালপুর হয়ে রাজধানী ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতীসহ অন্যান্য অঞ্চল থেকে পানি নেমে আসতে থাকায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সদরের নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি বাড়ায় প্লাবিত হচ্ছে চরাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এদিকে বন্যায় জেলায় কৃষিবিভাগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা না গেলেও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আনোয়ারা বেগম জানিয়েছেন, বিভিন্ন পুকুর, জলাশয়সহ খামারের মাছ ভেসে ও পাড় ভেঙে প্রায় ৫ কোটি ১৮ লাখ টাকার মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের তথ্যমতে, বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে সৃষ্ট বন্যায় শেরপুরের ৫ উপজেলার ৩৫টি ইউনিয়নের ১৭২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে অন্তত ৬৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি শেরপুর ফেরিঘাট পয়েন্টে ১ মিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।
সরজমিনে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে শেরপুর-জামালপুর মহাসড়কের পোড়ার দোকান কজওয়েতে (ডাইভারশন) গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২ ফুট উচ্চতায় বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
সিএনজি অটোরিকশা চলাচল এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু বাস-ট্রাক ঝুঁকি নিয়ে ডাইভারশনে চলাচল করছে। আবার কেউ কেউ নৌকায় করে ডাইভারশন অংশটুকু পারাপার হচ্ছেন। সেখানে কথা হয় স্থানীয় চরপক্ষীরী ইউনিয়নের পোড়ার দোকান এলাকার নির্মাণ শ্রমিক মোস্তফা মিয়া, নন্দিরজোত এলাকার আব্দুল বারি মিয়া, কৃষক ফারুক মিয়ার সঙ্গে। তারা বলেন, বুধবার সন্ধ্যায়ও আমাদের এলাকায় পানি ছিল না। হঠাৎ রাত ৮টার দিকে হু হু করে বন্যার পানি এলাকায় ঢুকে পড়ে। এমনকি শেরপুর-জামালপুর সড়কের ডাইভারশনের ওপর দিকে রাতের মধ্যেই হাঁটু উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হতে থাকে। বন্যার পানিতে তাদের বীজতলা, সবজি ও পাটের আবাদ তলিয়ে গেছে, বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকেছে। তারা বলেন, যেকোনো সময় ডাইভারশনের রাস্তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেখানে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বন্যার পানির যে অবস্থা, তাতে এবার প্রবল বন্যা হতে পারে।
এদিকে জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টির কারণে জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ৫৯টি ইউনিয়ন ও ৬টি পৌরসভা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার ১৬৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এসব  অঞ্চলের সাড়ে চার লাখ মানুষ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। বন্যার পানি প্রবেশ করায় সাত উপজেলায় মোট ৬৯৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৬০টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৮০টি মাদ্রাসা এবং ৪১টি কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী বলেন, বন্যা দুর্গতদের জন্য খোলা ইসলামপুরে ২০ আশ্রয় কেন্দ্রে ৪শ’ ১৫টি পরিবার এবং দেওয়ানগঞ্জে ১৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে ১৫৬০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। বন্যার পানিতে রেলপথ প্লাবিত হওয়ায় গত মঙ্গলবার হতে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ এবং গতকাল সকাল হতে জামালপুর-বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত  রেলপথে আন্তঃনগর ট্রেনসহ সকল ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্যার পানিতে এ পর্যন্ত ১৮ হাজার দুইশ’ ৩ হেক্টর জমির ফসল প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে রোপা আমন বীজতলা দুই হাজার ২২০ হেক্টর, আউশ ধান তিন হাজার ৯৫৫ হেক্টর, পাট আট হাজার ৩৫৭ হেক্টর, সবজি তিন হাজার ৩৪১ হেক্টর, মরিচ ১৭৮ হেক্টর, কলার বাগান ১০৭ হেক্টর, ভুট্টা ৩০ হেক্টর এবং আখ ১৫ হেক্টর।  

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর