× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার

শাস্তির মুখে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের ৮ বিদ্রোহী নেতা

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে | ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, ৯:২১

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় শাস্তির মুখে পড়ছেন চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের ৮ বিদ্রোহী নেতা। ২০শে জুলাইয়ের পর থেকে ধাপে ধাপে এসব নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ এর সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, গত ১২ই জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই মূলত এই কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। যদিও বিদ্রোহীদের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে এখনো কোনও সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে যত তথ্য উপাত্ত কেন্দ্র থেকে চাওয়া হবে আমরা তা দিতে বাধ্য। সূত্র জানায়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে গত উপজেলা নির্বাচনে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা থেকে অংশ নেওয়া বিদ্রোহী নেতা হলেন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও শ্রমবিষয়ক সমপাদক মো. খোরশেদ আলম।
বোয়ালখালী থেকে অংশ নিয়েছেন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সমপাদক মোহাম্মদ আবদুল কাদের সুজন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের এডহক কমিটির সহ সভাপতি শ্রমিক নেতা এসএম নুরুল ইসলাম। ফটিকছড়ি উপজেলা থেকে অংশ নিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সদস্য ও নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান হুসেইন মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, লোহাগাড়া উপজেলা থেকে অংশ নিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সদস্য ও নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বাবুল। এছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় কোনও পদে না থাকলেও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করেছেন, পটিয়া উপজেলার সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি মুহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন। চন্দনাইশ উপজেলায় এলডিপি থেকে এসে আওয়ামী লীগে ফুল দিয়ে যোগ দিলেও আনুষ্ঠানিক কোনো পদে না থাকা নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার। অন্যদিকে, স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত হলেও কোনও পদে নেই উপজেলা নির্বাচনের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুর হোসেন। তবে তাদের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না হলেও সরকারদলীয় রাজনীতির সঙ্গে সমপৃক্ত বলে তাদেরও শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে ধারণা করছেন নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীরা জানান, দলীয় পদে থাকার পরও সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করায় শাস্তির মুখোমুখি হতে যাওয়া বিদ্রোহী নেতাদের বিষয়ে গত ১২ই জুলাই দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে সিদ্ধান্ত হয়।
এতে শুধু আওয়ামী লীগের নয়, সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যেসব নেতা উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে চেয়ে পাঠানো হবে কারণ দর্শানোর নোটিশ। এছাড়া নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে গিয়ে যেসব মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালী নেতারা কাজ করেছেন, তাদেরও কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কারণ দর্শানোর জবাব যথার্থ না হলে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার হতে পারেন অভিযুক্তরা। ২০শে জুলাইয়ের পর ধাপে ধাপে এসব বিদ্রোহীদের কাছে বহিষ্কারাদেশের চিঠি পাঠানো হবে কেন্দ্র থেকে।এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সমপাদক ও পানিসমপদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমকে পাওয়া যায়নি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর