× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৬ আগস্ট ২০১৯, সোমবার

রাজনগরের উত্তরভাগ চা বাগানে শ্রমিক ধর্মঘট

বাংলারজমিন

রাজনগর (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি | ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, ৮:২৬

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ চা বাগানে ধর্মঘট করেছে চা শ্রমিকরা। ধর্মঘট তুলে কাজে যাওয়ার ঘোষণার পর শ্রমিকদের দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় উভয়পক্ষে ৭ জন শ্রমিক আহত হয়েছে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বাগানে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের উত্তরভাগ চা বাগানের চৌকিদার অমৃতলাল পাশীকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বাগান কর্তৃপক্ষ অপসারণ করে ও বাগান ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে নোটিশ দেয়। পরে বাগানের পঞ্চায়েত নেতারা মামলা না করতে অনুরোধ করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেবেন বলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু ফ্যাক্টরি ম্যানেজার সাইদুর রহমান গত ১৩ই মে তার বিরুদ্ধে রাজনগর থানায় মামলা করেন।
অন্যদিকে অপরপক্ষের রশিদ মিয়া, মনির মিয়া, আমজদ আলী নামে তিন শ্রমিককে মাঠে কাজ করতে না দিয়ে অফিসে রাখা হয়েছে। তাদের ওভারটাইমের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বিভিন্ন ঘটনায় সাক্ষী করে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। পঞ্চায়েত কমিটি ও শ্রমিকরা যেকোনো দাবি তুললেই কর্তৃপক্ষ তাদের (অপর পক্ষের শ্রমিকদের) দিয়ে তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ শ্রমিকদের একাংশের। এসব ঘটনায় ক্ষিপ্ত ছিল পঞ্চায়েত সভাপতির পক্ষের শ্রমিকরা। তারা মানবিক বিবেচনায় বাগানের অব্যাহতি পাওয়া শ্রমিক অমৃতলাল পাশীর পরিবারের কোনো সদস্যকে কাজ দেওয়া, মন্দিরের কাজ দ্রুত শেষ করা, বাগান শ্রমিকদের লেখাপড়া জানা সন্তানদের চাকরিসহ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া, অমৃতলাল পাশীর বিরুদ্ধে করা মামলা আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি ও অফিসে কাজ করা অপরপক্ষের শ্রমিকদের মাঠের কাজে নিযুক্ত করার দাবি জানিয়ে গতকাল সকাল ৯টা থেকে শ্রমিক ধর্মঘট করে। বেলা ১১টার দিকে বাগান ম্যানেজার জয়নাল আবেদীন ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বলেন। পঞ্চায়েত সভাপতির পক্ষের শ্রমিকরা ধর্মঘট শেষ করে সেখান থেকে বেরিয়ে গেলে অপরপক্ষের শ্রমিকরা অফিসের দিকে যায়। এসময় উত্তেজনা দেখা দেয়। উভয় পক্ষের লোকজন বল্লম, রামদা, তীরধনুক ও লাঠিসোটা হাতে মুখোমুখি হয়। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি দুলাল বাগতি বলেন, বাগানের সাধারণ শ্রমিকরা কোনো ন্যায্য দাবি তুললেই কর্তৃপক্ষের সুযোগ-সুবিধা ভোগকারী একটি পক্ষ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়। শ্রমিকদের কথা না ভেবে তারা মালিকদের পক্ষ নেয়। এতে সাধারণ শ্রমিকরা তাদের উপর ক্ষুব্ধ রয়েছে। এছাড়া আমিসহ বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির নেতা ও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এই মামলায় ওই সুবিধাভোগী শ্রমিকদের সাক্ষী করা হয়েছে। ম্যানেজার সাহেব দাবী মেনে নিলে আমরা বেরিয়ে আসার সময় তারা আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে।
শ্রমিকদের অপরপক্ষের বিমল গড়াইত বলেন, আমরাও চাই অমৃতলাল পাশীর বিষয়টির সুন্দর সমাধান হোক। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে ম্যানেজারের কাছে তারা মিথ্যা নালিশ করেছে। আমারা ম্যানেজার সাহেবের কাছে বিষয়টি জানতে যাওয়ার সময় তারা আমাদের উপর হামলা করে। এব্যাপারে বাগান ম্যানেজার জয়নাল আবেদীন কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসিম বলেন, উত্তরভাগ চা বাগানে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের দু’পক্ষে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝামেলা চলছে। মারামারির ঘটনায় উভয়পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর