× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট

স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিকল হচ্ছে ফেরি

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ থেকে | ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, ৮:২৭

পদ্মায় তীব্র স্রোতে গত কয়েকদিন ধরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ রুটের ফেরি চলাচল। স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেশিরভাগ ফেরি চলাচল করতে হিমশিম খাচ্ছে। ঘন ঘন বিকল হয়ে পড়ায় দেখা দিয়েছে ফেরি সংকট। ফলে ৫ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাকসহ কয়েকশ যাত্রীবাহী বাস গতকাল সকাল থেকে ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় পাটুরিয়া ঘাটে আটকে রয়েছে। এতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া ঘাটের পরিস্থিতি জেনে যাত্রীদের যানবাহনে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছেন বিআইডাব্লিউটিসির চেয়ারম্যান প্রণয় কান্তি। গতকাল পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের মাধ্যমে জনসাধারণকে তিনি এ পরামর্শ দেন। সরজমিন গতকাল পাটুরিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী বাস আর ট্রাকে ভরপুর।
ট্রাক পারাপার বন্ধ থাকায় দুই দিন ধরে ৫ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক টার্মিলনালসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। দুপুর পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাসের সারি দুই থেকে তিন কিলোমিটার অতিক্রম করেছে। স্রোতের কারণে ফেরিগুলো পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে গেলেও ৩০ মিনিটের পথ যেতে সময় লাগছে প্রায় ২ ঘণ্টা। আবার স্রোতের সঙ্গে টেক্কা দিতে না পারায় কিছু কিছু ফেরি যানবাহনের লোড নিয়েও মাঝ পথ থেকে ফিরে আসতে হচ্ছে। দুই দিন ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাসগুলো পারাপার করা হচ্ছে। তবে, অতি জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক মাঝে মাঝে পার হতে দেখা যায়। এতে ট্রাকচালক ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘাটে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, রোজার ঈদের সময় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে মোট ২০টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন চলার পরপরই চারটি ফেরির ক্রটি দেখা দেয়ায় নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে মেরামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেগুলো এখানো মেরামত সম্পন্ন হয়নি। বর্তমানে কাগজে কলমে ১৫টি ফেরি এই রুটে চলাচল করলেও পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে প্রায় ১০টি ফেরি কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে পাটুরিয়া ভাসমান কারখানায় মেরামতের জন্য নেয়া হয়েছে চারটি ফেরি।
বাকি রয়েছে ১১টি ফেরি। কিন্তু এই ১১টি ফেরির মধ্যে বেশিরভাগ ফেরিই পুরাতন ও দুর্বল। বিশেষ করে রাতে আমানত শাহ, শাহ জালাল, খান জাহান আলী, সন্ধ্যা মালতি ও মাধবী লতাকে বন্ধ রাখা হয়। শুধুমাত্র মতিউর রহমান, গোলাম মওলা, কাবেরী ও কেরামত আলী ফেরি একটু শক্তিশালী হওয়ায় সেগুলো দিয়ে রাতে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। যার কারণে ফেরি সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করায় রাতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। রাতে ৪-৫টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করায় ঘাটে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায় অতিমাত্রায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাস যাত্রীদের রাতের বেলায় পাটুরিয়া ঘাটেই কাটিয়ে দিতে হয়। দৌলতদিয়া ঘাটেও একই অবস্থা। সেখানেও যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ফেরি মাস্টাররা জানায়, পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীতে দেখা দিয়েছে প্রবল স্রোত। আর এই স্রোতের প্রতিকূলে ফেরিগুলো চালাতে যে শক্তির প্রয়োজন তা বেশিরভাগ ফেরিরই নেই। কারণ এখানে বহু বছরের পুরানো কয়েকটি ফেরি রয়েছে। জোড়াতালি দিয়ে সেগুলোকে চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে না পারায় ঘন ঘন বিকল হচ্ছে ফেরি। ৪-৫টি ফেরি ছাড়া প্রায় সব ফেরিই অত্যন্ত দুর্বল। বিআইডাব্লিউটিসি আরিচা অঞ্চলের ব্যবস্থাপক সালাহ উদ্দিন জানান, চলমান বর্ষাকালে নদীতে প্রচণ্ড স্রোত এবং পানি বৃদ্ধির কারণে ফেরিগুলো চলাচলে নদী পার হতে সময় অনেক বেশি নিচ্ছে। যার কারণে ঘাটে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাচ্ছে। আর ঘন ঘন বিকল হয়ে পড়ায় দেখা দিচ্ছে ফেরি সংকট। সঙ্গে ফেরি ট্রিপও কমে যাচ্ছে। তাই আমরা যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসকে অগ্রাধিকার দিয়ে পারপার করছি। ট্রাক পারাপার এই মুহূর্তে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিআইডাব্লিউটিসি আরিচা অঞ্চলের ডিজিএম আজমল হোসেন জানান, নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় ফেরি চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। তবে এটা প্রাকৃতিক সমস্যা। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের ডকইয়ার্ডে যে চারটি ফেরি মেরামতের জন্য পাঠানো হয়েছে সেগুলো দুই-চার দিনের মধ্যে চলে আসবে। সে ফেরিগুলো চলে আসলেই ফেরি সংকট আর থাকবে না। পাটুরিয়া ঘাটে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আরাফাত হোসেন রাসেল জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে শৃঙ্খলা রক্ষায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও ঘাটে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না হয় সেদিকে আমাদের সদস্যরা সতর্ক রয়েছেন। আর ট্রাকগুলোকে বিকল্প পথ ব্যবহার করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এদিকে, গতকাল দুপুরে পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে আসেন বিআইডাব্লিউটিসির চেয়ারম্যান প্রনয় কান্তি। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ফেরি ঘাটের তথ্য জেনে চলাচলের জন্য আমরা জনসাধারণ ও বাস-ট্রাক মালিকদের সচেতন করার জন্য ইতিমধ্যে বিবৃতি দিয়েছি। সঙ্গে মোবাইল নাম্বার দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে যদি খুব বেশি গাড়ি না আসে তাহলে ঘাটে যানজট হবে না।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর