× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০১৯, রবিবার

রাজশাহী মৎস্য খামারে চুরির মহোৎসব

এক্সক্লুসিভ

আসলাম-উদ-দৌলা, রাজশাহী থেকে | ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, ৮:৩১

মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৩য়। আর মাছ উৎপাদনে রাজশাহীর বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে অত্র অঞ্চলের মাছ। এখানে মৎস্য চাষিরা রাজশাহী জেলা মৎস্য খামারের ওপর নির্ভরশীল। বেসরকারি খামার ও নিজস্ব উদ্যোগে পোনা উৎপাদিত হলে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সরকারি রেটের দ্বিগুণ রেটে পোনা বিক্রি খুদে চাষিদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। রাজশাহী নগরীর বর্ণালী মোড়ের বিভাগীয় মৎস্য ভবন ক্যাম্পাসের ভেতরে রয়েছে সরকারি মৎস্য খামার। প্রতি সোমবার সকাল ৭টা পর্যন্ত পোনা বিক্রি হয়।
এখানে কোনো সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করা হয় না। একদিকে যেমন সরকারি অর্থ লোপাট হচ্ছে, তেমনিভাবে মৎস্য চাষিদের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্ছিত হচ্ছেন।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রোববার গভীর রাতে মৎস্য চাষিদের কার কোন মাছের পোনা কতটুকু লাগবে সেটা সাদাকাগজে লিখে টোকেন দিয়ে টাকা জমা নিচ্ছেন, পরদিন ভোরে ফজরের নামাজের সময় থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত মাছ বিতরণ করছেন। মৎস্য চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদেরকে কোনো রশিদ দেয়া হয় না, বাটা মাছের রেনু পোনা কেজি প্রতি ৩০০০ টাকা, রুই-কাতলা মাছের রেনু পোনার জন্য কেজি প্রতি ৪০০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। যেখানে সরকারি হিসেবে সব ধরনের মাছ ১৬০০ টাকা নেবার কথা। বড় ধরনের ঝামেলা এড়াতে বসিয়ে রাখা হয়েছে কিছু স্থানীয় মাস্তান। তালাবদ্ধ চিংড়ি হ্যাচারির উল্টো দিকের গলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ফেনসিডিলের বোতল। পোনা নিতে আসা আব্দুল্লাহ আল তারিক নামে একজন জানালেন, সব ধরনের মাছের পোনার জন্য কেজিতে ৩০০০ টাকা এবং প্রতি শ’ গ্রামে ৩০০ টাকা ধরা হয়। একই কথা জানালেন টিকাপাড়া এলাকার সোহেল রানা। তিনি বলেন, রুই-কাতলার জন্য ৪০০০ এবং অন্য সব ধরনের মাছের পোনার জন্য ৩০০০ করে টাকা নেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খামার ব্যবস্থাপক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘অনেক ভিড় থাকার কারণে রশিদ দেয়া সম্ভব হয় না, তবে কেউ চাইলে তাকে দেয়া হয়। দামের ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, ভুল করে দু-একজনের কাছে বেশি নেয়া হতে পারে। তবে প্রতিবারে ২০/২৫ কেজি করে পোনা বিক্রি হয় বলে জানা গেছে। রাজশাহী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলক কুমার সাহা বলেন, আমার কাছে লিখিত অভিযোগ এলেই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর