× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার
বিভাগীয় শহর হওয়ায় যাত্রী বেড়েছে

ডবল রেললাইনসহ ৬টি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি

এক্সক্লুসিভ

মতিউল আলম, ময়মনসিংহ থেকে | ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, ৮:৩২

ময়মনসিংহ বিভাগ ও সিটি করপোরেশন হওয়ায় ময়মনসিংহ-ঢাকা ট্রেন যাত্রী বেড়েছে কয়েক গুণ। কিন্তু বাড়েনি ট্রেনের আসন সংখ্যা। এ অবস্থায় ডাবল রেললাইন ও ময়মনসিংহ-ঢাকা ৪টি ময়মনসিংহ-সিলেট ও ময়মনসিংহ-রংপুর মোট ৬টি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবিতে আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। ময়মনসিংহ থেকে ঢাকাগামী সরাসরি কোনো আন্তঃনগর ট্রেন নেই। ৬টি আন্তঃনগর ট্রেন জামালপুর ও নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকা চলাচল করছে। এসব ট্রেনে প্রতিদিন ৫২১ জন যাত্রী ঢাকায় যেতে পারে। ময়মনসিংহ স্টেশনে আন্তনঃগর ট্রেনের প্রতিদিন ২ হাজার আসনের চাহিদা রয়েছে। ময়মনসিংহ স্টেশন সুপার জহুরুল ইসলাম জানান, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর তিস্তা ট্রেনে ময়মনসিংহ স্টেশনের জন্য বরাদ্দ আসন সংখ্যা ১৫৩টি, ব্রহ্মপুত্র ট্রেনে ৭৭টি, অগ্নিবীণায় ১০৭টি, যুমনা ট্রেনে ৯৯টি, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে হাওর এক্সপ্রেসে ৪৩টি ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে ৪২টি আসন বরাদ্দ রয়েছে।

বিভাগীয় নগর ও সিটি করপোরেশন হওয়ায় আগের চেয়ে গুরুত্ব বেড়েছে।
এর আগে থেকে চাহিদার তুলনায় আন্তঃনগর ট্রেনের আসন সংখ্যা কম হওয়ায় কালোবাজারে টিকিট বিক্রিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিভাগ হওয়ায় ভিআইপির যাত্রীর সংখ্যাও বেড়েছে। অনেক রোগী বাসে চলাচল করতে পারে না। বাধ্য হয়ে ট্রেনে যাতায়াত করতে হয়। ট্রেনে আসন না পেয়ে অনেকে খাবার গাড়ি সহ ট্রেনে দাঁড়িয়ে অতিকষ্টে যাতায়াত করছেন। এদিকে অনলাইনে ৫০% টিকিট বিক্রির ফলে এখন আরো অভিনব কায়দায় কালোবাজারিরা টিকিট নিয়ে যাচ্ছে। চরম ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে অতিবিলম্বে ময়মনসিংহ-ঢাকা ২টি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছেন ময়মনসিংহবাসী। জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত বলেন, সাধারণ মানুষের পরিবহন হচ্ছে ট্রেন। সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে ময়মনসিংহ-ঢাকা ডবল রেললাইন ও কমপক্ষে ২টি আন্তঃনগর ট্রেন চালু এখন জরুরি প্রয়োজন। সীমিত আসন বরাদ্দ থাকায় কালোবাজারে উচ্চ মূল্যে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমীন কালাম বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ ডাবল রেললাইন পর্যাপ্ত ট্রেন ও কোচ, আসন সংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন চলমান রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে আন্তঃনগর ট্রেন ও আসন সংখ্যাসহ শহরের মধ্যস্থল থেকে রেল স্টেশন বাইরে নেয়ার দাবি জানান ।
ময়মনসিংহ চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক প্রদীপ ভৌমিক ময়মনসিংহ-ঢাকা ডাবল রেল লাইন স্থাপন করে ১ ঘণ্টা পরপর ট্রেন চালুর দাবি জানান। এতে বাসের নির্ভরশীলতা কমবে। সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট কমবে ও সময় বাঁচবে।

ময়মনসিংহ জেলা জনউদ্যোগের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শিব্বির আহমেদ লিটন বলেন, ২ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত বৃহত্তর ময়মনসিংহের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার জনবান্ধব যোগাযোগ মাধ্যম হচ্ছে ট্রেন। ময়মনসিংহ থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক জনগণ নানা পথে যাতায়াত করে। ময়মনসিংহ-ঢাকা প্রতি ঘণ্টায় ট্রেন চলাচল করলে বাংলাদেশ রেলওয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হবে। এছাড়া প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাবে সম্ভাবনাময় প্রাণ এবং সময়। ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, ময়মনসিংহ-ঢাকা ২টি আন্তঃনগর ট্রেন চালু জরুরি হয়ে পড়ছে। আমাদের মতো অনেক ডায়বেটিকস রোগী বাসে যেতে পারে না। তাদের একমাত্র ভরসা ট্রেন। আসন সংকটের কারণে ট্রেনে টিকিট পায় না। আসন সংখ্যা কম থাকায় কালোবাজারে টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। পর্যান্ত কোচ বা আসন থাকলে সাধারণ মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারতো। এদিকে ১৮ই জুলাই বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে ‘আমরা ময়মনসিংহবাসী’র ব্যানারে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ হয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ডুয়েল গেজ ডাবল রেললাইন স্থাপন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং ময়মনসিংহ থেকে সিলেট ও রংপুরে আন্তঃনগর ট্রেন চালুসহ সাত দফা দাবিতে মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে আমরা ময়মনসিংহবাসীসহ বিভিন্ন সংগঠন।

‘সিলেট-ময়মনসিংহ রেলপথে আন্তঃনগর ট্রেন চালুকরণ বাস্তবায়ন কমিটি-সিলেট’ সংহতি প্রকাশ করে যোগদান করে। ময়মনসিংহবাসীর’র আহ্বায়ক জগলুল পাশা রুশো’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সিপিবি’র জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত, স্বেচ্ছাসেবক লীগের জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট এবিএম নুরুজ্জামান খোকন, মহানগর মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট শিব্বির আহমদ লিটন, পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন ‘প্রকৃতি’র আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুল মোত্তালেব লাল, ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক শংকর সাহা, ময়মনসিংহ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ময়মনসিংহ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত রায়, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম চক্রবর্তী রকেট, সুজন-এর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী ইউসুফ, নারী নেত্রী সৈয়দা সেলিমা আজাদ ও দীপ শিখা খান, কবি শামীম আশরাফ, সিলেট-ময়মনসিংহ রেলপথে আন্তঃনগর ট্রেন চালুকরণ বাস্তবায়ন কমিটি-সিলেট’র সংগঠক মাহবুবুল হক, ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম খান, মোস্তফা আমিনুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা ময়মনসিংহ-ঢাকা রেলপথে আরো চারটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু, ময়মনসিংহ হয়ে চলমান আন্তঃনগর সকল ট্রেনের অর্ধেক আসন ময়মনসিংহের জন্য বরাদ্দকরণ, ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি বন্ধ এবং ময়মনসিংহ রেলস্টেশনকে আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক রেলস্টেশনে রূপান্তরের দাবিও জানান। এর আগে আমরা ময়মনসিংহবাসীর ব্যানারে সাত দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর জেলা প্রশাসক ও স্টেশন সুপারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক কেএম গালিভ খান ও স্টেশন সুপার জহুরুল ইসলাম স্মারকলিপি গ্রহণ করেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর