× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৩ আগস্ট ২০১৯, শুক্রবার

ঈদকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে আসছে কোরবানীর পশু

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে | ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, ৮:৩৪

কোরবানির বাকি আরো প্রায় এক মাস। বেচা-কেনাও তেমন নেই। তবুও চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারে আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশু। আগে-ভাগে মজুত গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পশু আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রামে এবার ৭ লাখ ২১ হাজারের মতো পশু কোরবানি দেয়া হতে পারে। এরমধ্যে খামারে উৎপাদিত সর্বমোট ৬ লাখ ১০ হাজার ২১৯টি কোরবানিযোগ্য পশু চট্টগ্রামের বাজারে তোলা হবে। সে হিসাবে ১ লাখ ১১ হাজারের মতো পশুর ঘাটতি হতে পারে। ঘাটতি মোকাবিলায় আগেভাগে কোরবানির পশু এনে মজুত করা হচ্ছে।

তবে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন অন্য কথা। তাদের হিসাবে মতে, চট্টগ্রামে ৭ হাজার ৫০টি খামার রয়েছে। যেখানে ৬ লাখ ১০ হাজার ২১৯টি কোরবানির পশু লালন-পালন করা হয়েছে। এরমধ্যে গরুর সংখ্যা ৪ লাখ ১৪ হাজার ৩৮৭টি, মহিষের সংখ্যা ৪৮ হাজার ২৮৪টি। ছাগল ও ভেড়া মোটাতাজাকরণ হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪৮টি।
দপ্তরের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে এবার ৭ লাখ ২০ হাজার ৯৫৭টি পশু কোরবানি দেয়া হতে পারে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল সর্বমোট ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৪১৫টি পশু। এরমধ্যে গরু কোরবানি হয়েছিল ৪ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩টি। মহিষ জবেহ করা হয়েছিল ৩ লাখ ৩০৯টি। জবাইকৃত ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৬৮০টি। সে হিসাবে আপাত দৃষ্টিতে ঘাটতি থাকে ১ লাখ ১০ হাজার ৭৩৮টি পশু। তবে এ জন্য দুশ্চিন্তার কিছুই নেই। দেশের নানা স্থানে এবার বিপুল সংখ্যক কোরবানির পশু রয়েছে। এসব পশুর একটি বড় অংশ চট্টগ্রামের বাজারে চলে আসবে। যা দিয়ে ঘাটতি পুরণ হয়ে যাবে। ফলে এবার দেশের বাইরে থেকে কোরবাানির পশু আনার প্রয়োজন নেই বলে জানান চট্টগ্রামের জেলা প্রাণী সমপদ কর্মকর্তা ডাক্তার রেয়াজুল হক। তিনি বলেন, আসন্ন কোরবানির ঈদে সারা দেশে এক কোটি ৮ লাখ পশুর চাহিদা রয়েছে। দেশে সর্বমোট ১ কোটি ১৮ লাখ পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রয়োজনের চেয়ে প্রায় ১০ লাখ পশু বাড়তি রয়েছে। এই পশু উদ্বৃত্ত থেকে যাবে।
তিনি আরো বলেন, প্রতিবছর কোরবানির ঈদে দেশের উত্তারাঞ্চল, নোয়াখালী ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে লালন-পালন করা অসংখ্য গরু, মহিষ ও ছাগল চট্টগ্রামের বাজারে আসে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। ফলে চট্টগ্রামের বাজারেও কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
চট্টগ্রামের সাগরিকা গরু বাজারের ইজারাদার মোহাম্মদ সাইফুল হুদা জাহাঙ্গীর বলেন, কোরবানির জন্য গরু-মহিষ আনার কাজ শুরু হয়েছে। চাঁপাই নবাবগঞ্জ, যশোর, ঝিনাইদহ, নওগাঁ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা বাজারে গরু আনা শুরু করেছেন। চট্টগ্রামের বিবিরহাটের গরু ব্যবসায়ী আকবর হোসেন জানান, ঈদুল আজহার প্রায় আরো এক মাস বাকি রয়েছে। তবুও আগে-ভাগে চট্টগ্রামের বাজারে গরু আসতে শুরু করেছে। কোরবানির বেচা কেনা শুরু না হলেও চট্টগ্রামের বাজারে গরুর মজুত গড়ে তোলার জন্যই মূলত দেশের নানা স্থান থেকে গরু মহিষসহ বিভিন্ন ধরনের পশু আনা হচ্ছে। আরেক ব্যবসায়ী মো. হারুন জানান, কোরবানির দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামের বাজারে পশু আসার মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। গরু মহিষ ছাগল ভেড়ার পাশাপাশি এবার বিপুলসংখ্যক উটও চট্টগ্রামের বাজারে আসবে বলে উল্লেখ করেছেন একাধিক ব্যবসায়ী। তারা বলেছেন, ঢাকা অঞ্চলে বেশ কয়েকটি উটের খামার গড়ে উঠেছে। এসব খামারে বেশকিছু উট কোরবানির বাজারে বিক্রি করা হবে। আগে ভাগে নিয়ে আসলে এগুলোর লালন-পালন কঠিন হবে বিধায় আনা হচ্ছে না। তবে কোরবানির চাঁদ ওঠার আগেই ঢাকা থেকে উটগুলোকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হবে। সাতকানিয়ার খামারি আরিফ আফজালি বলেন, দেশে পশু পালন খাতে নীরবে বিপ্লব ঘটে গেছে। এ বিপ্লবের ফসল ঘরে তুলতে হলে আমাদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে। তিনি বলেন, শত শত শিক্ষিত বেকার ছেলে আজ খামার প্রতিষ্ঠা করেছে। আমাদের দেশীয় এই খাতকে রক্ষা করতে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের সাগরিকা ও বিবিরহাটসহ ৮টি গরু মহিষের বাজারের পাশাপাশি ধনিয়ালাপাড়া পোস্তারপাড়ে একটি ছাগলের বাজার রয়েছে। এর বাইরে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে নগরীর নূরনগর হাউজিং, সল্টগোলা ক্রসিং, স্টিল মিল বাজার, পতেঙ্গা স্কুল মাঠ. কমল মহাজন হাট ও রাহাত্তারপুল এলাকায়ও গরু-ছাগলের অস্থায়ী বাজার বসে। এবার বড়পুল ও পতেঙ্গার বাটারফ্লাই পার্কের সন্নিকটে আরো দুইটি অস্থায়ী বাজার বসানোর চেষ্টা চলছে। তবে এই দুইটি বাজার বসানোর চেষ্টাকে উদ্দেশ্যমূলক বলে আখ্যায়িত করে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। মাত্র দুই কিলোমিটারের মধ্যে দুইটি করে বাজার দেয়া হলে ইতিপূর্বেকার বাজারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। যা বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ইলিয়াছ হোসেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর