× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার

কিশোরগঞ্জে ইউপি সদস্যকে অপহরণ, মুক্তিপণে ছাড়া

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে | ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, ৯:০৭

কিশোরগঞ্জ জেলা শহর থেকে ইটনা উপজেলার এক ইউপি সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার ছয় ঘণ্টা পর মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্তি পেয়েছেন। অপহরণের শিকার ইউপি সদস্যের নাম মো. জসিম উদ্দিন (৩৩)। তিনি ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য। গত বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের গেটের কাছ থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্রের মুখে তাকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অপহরণের পর দুর্বৃত্তরা ওই সদস্যেকে মারপিট করে তার স্বজনদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। পরে ইউপি সদস্যের এক আত্মীয় অপহরণকারীদের কাছে বিকাশে ২০ হাজার টাকা পাঠালে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিকাশ নম্বরের সূত্র ধরে এমাদাদুল হক সজল (৩০) নামে এক যুবককে বৃহস্পতিবার বিকালে আটক করেছে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার পুলিশ। অপহরণ ঘটনার বিবরণ দিয়ে শুক্রবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরের গৌরাঙ্গবাজার এলাকায় স্থানীয় একটি অনলাইন পত্রিকার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন অপহরণের শিকার ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন জানান, একটি মামলার কাজে বাড়ি থেকে বুধবার সকালে কিশোরগঞ্জ শহরে এসে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে তিনি কিশোরগঞ্জ আদালতের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অটোরিকশাটি আদালতের অদূরে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের গেটের সামনে আসা মাত্রই অস্ত্র হাতে দশ-বারো জনের একটি দুর্বৃত্তের দল তার অটোরিকশাটিকে ঘিরে ফেলে। অস্ত্রধারীরা আগে থেকেই টার্গেটে রাখা জসিম উদ্দিনকে টেনে-হিঁচড়ে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে অন্য একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাতে নিয়ে তুলে নিয়ে যায়। পরে চোখ বেঁধে সদর উপজেলার নীলগঞ্জ এলাকার দিকে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে তাকে (জসিমকে) আটকে রাখা হয়। এ সময় জসিম উদ্দিনের কাছে থাকা ১৭ হাজার ৫০০ টাকা ও অপ্পো ব্র্যান্ডের এনড্রয়েড একটি মোবাইল সেট অপহরণকারীরা নিয়ে যায়। অপহরণের পর জসিমের এনড্রয়েড মোবাইল ফোন থেকে বাড়িতে ফোন করে মুক্তিপণের ৫০ হাজার টাকা চাইতে বলা হয় জসিমকে। অপহৃতের পরিবারের লোকজন মুক্তিপণের এ টাকা দিতে দেরি করায় তারা জসিমকে মারধর শুরু করে এবং তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। পরে অপহরণকারীদের দেয়া বিকাশ নম্বর ০১৯২৭৮৭০৫৬৭-এ জসিম উদ্দিনের এক ব্যবসায়ী বন্ধুর মাধ্যমে তার পরিবারের লোকজন ২০ হাজার টাকা পাঠালে বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে তাকে (জসিমকে) মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তিপণে ছাড়া পাওয়ার পর বুধবার রাতে ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। থানায় অভিযোগ দায়েরের পর বিকাশ নম্বরের সূত্র ধরে শহরতলির মুকসেদপুর এলাকার কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনের একটি দোকান থেকে মুক্তিপণের টাকা উত্তোলনকারী এমাদাদুল হক সজলকে আটক করে পুলিশ। এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আবুবকর সিদ্দিক জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তারা তদন্ত করে দেখছেন। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর