× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার

কাঁচাবাজারে বন্যার প্রভাব

শেষের পাতা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, ৯:২৯

দেশজুড়ে বন্যার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারে। প্রায় সব সবজির দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। আর কাঁচামরিচের কেজি এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। টানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহ সংকটে সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। একই কারণ দেখিয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ। রাজধানীর কাওরানবাজার, সেগুনবাগিচা, মালিবাগ হাজীপাড়াসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে এক কেজি কাঁচামরিচের দাম উঠেছে ১৬০ টাকা। কোনো কোনো বাজারে ২০০ টাকা কেজি চাইছেন বিক্রেতারা।
বিক্রেতা মতিন জানালেন, এক সপ্তাহ আগেও এই কাঁচামরিচ ছিল ৬০ টাকা। সে হিসেবে মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্রেতাদের এখন এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচামরিচে ব্যয় হচ্ছে ৪০ টাকা। বেড়েছে সব ধরনের সবজির দাম। কিছুদিন আগেও যে সবজি ৩০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা কিনতে ৫০ টাকা লাগছে। পাশাপাশি বাজারে রসুনের দাম আরো বেড়েছে। বেড়েছে দারুচিনি ও এলাচির দামও। আদা ও ডিম আগের মতো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে কেজিতে ৫ টাকা কমেছে পিয়াজের দাম।

কাওরানবাজারে ভালো মানের দেশি পিয়াজের পাল্লা ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি কেজি পিয়াজের দাম পড়ছে ৩২ থেকে ৩৪ টাকা। গত সপ্তাহে পিয়াজের পাল্লা বিক্রি হয় ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম পড়ে ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা। এ হিসাবে পাইকারি বাজারে পিয়াজের দাম কেজিতে ৪ টাকা কমেছে। আর খুচরা বাজারে গত সপ্তাহে দেশি পিয়াজের কেজি ৪৫ টাকা বিক্রি হচ্ছিল, তা এখন কমে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ সব বাজারে দেশি পিয়াজের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫ টাকা কমেছে।

এদিকে সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহের মতো সব থেকে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে টমেটো, শসা ও গাজর। বাজার ভেদে পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে টমেটোর দাম কেজিতে বেড়েছে ৪০ টাকা। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে গাজরের দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে শসা আগের সপ্তাহের মতো ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

শসা, টমেটো ও গাজরের মতো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ সবজি। গত সপ্তাহে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া করলার দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। ঝিঙ্গা, ঢেঁড়স, উসি ও ধুন্দুলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। কাকরোল গত সপ্তাহের মতো ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০ থেকে ৩০ টাকা। দাম বাড়ার এ তালিকায় রয়েছে বেগুনও। গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া বেগুনের দাম বেড়ে হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। অপরিবর্তিত থাকা সবজির মধ্যে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি। বরবটির কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুর লতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস।

সবজির বাজার এত চড়া কেন, এ বিষয়ে ব্যবসায়ী আনিস বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যায় সবজির খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে। এছাড়া এখন টমেটো, শসা ও গাজরের মৌসুম না, তাই এগুলোর দাম বেশ চড়া। আর অন্য সবজি ও কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে বৃষ্টির কারণে। বৃষ্টি থামলে দু-একদিনের মধ্যে কিছু সবজির দাম কমে যাবে বলে আমাদের ধারণা।

এদিকে মাংসের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগির আগের সপ্তাহের মতো ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে লাল লেয়ার মুরগি। গরুর মাংস বাজার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর