× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার

হরমুজ প্রণালিতে ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে মার্কিন নৌবাহিনী: ট্রামপ

দেশ বিদেশ

মানবজমিন ডেস্ক | ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, ৯:৩০

ইরান নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রামপ। তিনি জানান, ড্রোনটি বৃহসপতিবার নৌবাহিনীর জাহাজের ১০০০ গজের ভেতর চলে আসায় প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এটিকে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইরান জানিয়েছে, ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, চলতি বছর হরমুজ প্রণালিতে চারটি সৌদি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, হামলাগুলো ইরান চালিয়েছে। তবে ইরান ওই অভিযোগ অস্বীকার করে। হামলার পরপরই অঞ্চলটিতে একটি রণতরী ও অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করে। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে গত মাসে হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করে ইরান।
এরপর ওই অঞ্চলে ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করলেন ট্রামপ।
হোয়াইট হাউসে দেয়া এক বক্তব্যে ট্রামপ বলেন, আমি সবাইকে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস বক্সার সংশ্লিষ্ট একটি ঘটনার কথা জানাতে চাই। একটি ইরানি ড্রোন একাধিক সতর্কতা অগ্রাহ্য করে বক্সারের খুব কাছাকাছি, প্রায় ১০০০ গজের মতো নিকটে চলে আসে। এতে জাহাজটি ও এর কর্মীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ড্রোনটি তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করে দেয়া হয়। তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় সক্রিয় জাহাজগুলোর ওপর সমপ্রতি ইরানের আক্রমণাত্মক ও উসকানিমূলক একাধিক পদক্ষেপের একটি ছিল এটি। ওই অঞ্চলে নিজেদের কর্মী, স্থাপনা ও স্বার্থ রক্ষার অধিকার রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, বৈদ্যুতিক জ্যামিং সরঞ্জাম ব্যবহার করে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়। এদিকে, রোববার ইরান জানায়, পারস্য উপসাগরে তেল পাচারের অভিযোগে তারা পানামার পতাকাবাহী একটি ট্যাংকার ও এর ১২ কর্মীকে আটক করেছে। ওয়াশিংটন ওই ট্যাংকারটি তাৎক্ষণিকভাবে ছেড়ে দেয়ার আহ্বান জানায় ইরানের প্রতি। ইরানের রেভুলিউশনারি গার্ডকে উদ্ধৃত করে তাদের রাষ্ট্র পরিচালিত গণমাধ্যম জানায়, ওই ট্যাংকারটি ১০ লাখ লিটার জ্বালানি তেল পাচার করছিল। পরবর্তীতে পানামার পতাকাবাহী ‘রিয়াহ ট্যাংকার’ নামে একটি জাহাজ ঘিরে ইরানি সিপডবোট ঘুরতে থাকার একটি ভিডিও প্রকাশ করে স্থানীয় গণমাধ্যম। ট্যাংকারটি ইরানের লারাক দ্বীপের দক্ষিণাংশ থেকে আটক করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তি থেকে বের হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। আরোপ করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সমপর্কের তীব্র অবনতি ঘটে। চরম মন্দাবস্তায় পড়ে ইরানের অর্থনীতি। সমপ্রতি ওই চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরো বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা জানান, দুই দেশের মধ্যে যেকোনো সময় সামরিক যুদ্ধ লেগে যেতে পারে। গত মাসে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার পর ইরানে হামলার নির্দেশও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করে দেন। এদিকে, ইরানের মিত্র বাহিনী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায় তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অন্যতম মিত্র ইসরাইলকে ধ্বংস করে দেয়া হবে। এমতাবস্থায় নতুন এই ঘটনা ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় আরো উত্তাপ সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ইরান নিয়ন্ত্রিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে পশ্চিমা দেশগুলোয় রপ্তানি হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান একাধিকবার হুমকি দিয়েছে তারা ওই প্রণালি দিয়ে বিদেশি জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড প্রধান জেনারেল কেনেথ ম্যাককেনজি বৃহসপতিবার সৌদি আরব সফর থাকাকালীন সময়ে জানান, তিনি পারস্য উপসাগর দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের একটি সমাধান খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর