× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার

বন্যা মোকাবিলায় সরকার চরম উদাসীন: ফখরুল

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, ৯:৩৬

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার চরমভাবে উদাসীন বলে অভিযোগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, দেশের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। একের পর এক জেলাগুলো বন্যা কবলিত হচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকারের তেমন কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করছি না। সাধারণ বন্যা পরিস্থিতিতে যে রকম সহায়তার উদ্যোগ নেয়ার কথা সেটাও দেখা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ত্রাণমন্ত্রী কোথাও ঘুরে আসেননি।
সরকারের চরম উদাসীনতা এই বন্যার ব্যাপারে। তারা বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে পারছে না। সরকারের পদক্ষেপগুলো মানুষ দেখতে চায় জানিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, আপনারা পত্রিকায় কি ছবি দেখছেন যে, কোনো মন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকাতে গেছেন? অথবা বন্যাকবলিত এলাকায় হেলিকপ্টার মুভ করেছে। দেখেননি। তার মানে জনগণের প্রতি সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তিনি বলেন, এখানে বিরোধী দলের তেমন কিছু করার নেই। তারা ত্রাণ কমিটি পাঠাতে পারে, সেখানে কিছু কিছু সাহায্য নিয়ে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু সরকারের দায়িত্ব বন্যাকবলিত মানুষকে রক্ষা করা। সেটা সরকার করছে না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলের পক্ষ থেকে ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি ত্রাণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আহবায়ক করা হয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও সদস্য সচিব ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াসীনকে। কমিটিতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, ও সংশ্লিষ্ট জেলার নেতৃবৃন্দও থাকবেন। এই ত্রাণ কমিটি অবিলম্বে তাদের কর্মকান্ড শুরু করবেন। তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি, দেশে ক্রমাগত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জনগণের নিরাপত্তা ও দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। মির্জা আলমগীর বলেন, আদালতের ভেতরে গিয়ে হত্যা করা হচ্ছে। ছোট্ট শিশুর মাথা কেটে ফেলা হচ্ছে। রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামী নয়ন বন্ডকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে, আবার সেই মামলার বাদী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেপ্তার করা হলো এবং তাকে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। পুরো বিষয়গুলো প্রমাণ করে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন এবং বিচার বিভাগে একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন- অধ্যাপক আনু মুহাম্মদকে অজ্ঞাত সুব্রত বাইন পরিচয় দিয়ে গুম করার হুমকি দিয়েছে। এই বিষয়গুলো অহরহ ঘটছে। অনেক মানুষই ভিকটিম হচ্ছেন। বিশেষ করে তুলে নিয়ে যাওয়া- এটা তো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আপনারা দেখেছেন, কয়েকদিন আগে একজন র‌্যাব সদস্য তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে জমির সমস্যার কারণে তিনি তাকে গোয়েন্দা দিয়ে তুলে নিয়ে হত্যা করেছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা মনে করছি রাজনীতিক দলগুলো যদি এখন সীমাবদ্ধ থাকে বা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো চুপ থাকে তাহলে দেশ চরম পরিণতির দিকে এগিয়ে যাবে। এই বিষয়ে একটা জাতীয় ঐক্যমত সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন। জাতীয় ঐক্যমত সৃষ্টি করতে হলে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথাবার্তা বলা প্রয়োজন। আমরা এ বিষয়ে চিন্তা করছি এবং বিষয়টাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। ডেঙ্গু প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ডেঙ্গু এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ডেঙ্গুর ভয়ে অফিসে যাচ্ছি না, মশা কামড়াতে পারে। একবার তার ডেঙ্গু হয়ে গেছে। অথচ একজন মেয়র বলেছেন, এখন পর্যন্ত নাকি কিছুই হয়নি। এখন পর্যন্ত ২১ জন মারা গেছেন, কয়েক হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। সবাই এখন দিনের বেলায় শিশুদের মশারীর নিচে রাখছেন। কখন এডিস মশা কামড় দেবে সেই ভয়ে বড়রা মোজা পরে থাকেন। সিটি করপোরেশনের কোনো উদ্যোগ নাই। আমি নিজে উত্তরায় থাকি এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ দেখতে পাইনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুলুল হুদার হজ্ব প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে অন্তুর্ভুক্তের বিষয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন হচ্ছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সরকারের একটি হজ্জ্ব দলের সদস্য হয়েছেন। যার প্রধান হচ্ছেন, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার একজন সদস্য। এটা পুরো হাস্যকর ব্যাপার। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং আমরা অবিলম্বে সরকারের কাছ থেকে একটা ব্যাখ্যা দাবি করছি। মির্জা আলমগীর বলেন, এই সরকার এবং নির্বাচন কমিশন সংবিধানকে একেবারে তোয়াক্কা করে না, সংবিধানের আশ-পাশ দিয়ে যায় না এবং রাষ্ট্রকে তারা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করে, এই ঘটনা সেটাই প্রমাণ করে। তিনি বলেন, সংবিধানের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা কারোরই নেই, সেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কোন আইনে, কোন ক্ষমতা বলে একটা হজ্ব ব্যবস্থাপনার তত্ত্বাবধায়ন ও দিক নির্দেশনা প্রদানের জন্যে একটি হজ্ব প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে যাচ্ছেন? বিএনপি মহাসচিব বলেন, চিন্তা করা যায় না যে নির্বাচন কমিশনার এরকম একটি কমিটিতে সোদি আরব যাচ্ছেন। সিইসি হজ্ব করতে চাইলে বাদশার বিশেষ মেহমান হয়ে যেতে পারতেন। ফখরুল বলেন, এই রকম আত্মসম্মান বিবর্জিত ব্যক্তিদেরকে নির্বাচন কমিশনের প্রধান করা হয় বলেই নির্বাচন ব্যবস্থার এই অবস্থা। এদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে তারা কোথায় নিয়ে গেছেন! সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপি মহাসচিব সংবিধানে বর্ণিত ১১৯ অনুচ্ছেদে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব ও কর্মকান্ড ও হজ্ব কমিটির গঠনের গেজেটের বিষয়টি তুলে ধরেন।
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন। লন্ডন থেকে স্কাইপে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও যুক্ত ছিলেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর