× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৬ আগস্ট ২০১৯, সোমবার
ট্রাম্পের কাছে প্রিয়া সাহার নালিশ

নিন্দার ঝড় খতিয়ে দেখবে বাংলাদেশ

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, ৯:৪৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেত্রী প্রিয়া সাহার নালিশে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ট্রাম্পকে করা তার নালিশের ভিডিও এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সবাই এক বাক্যে বলছেন, এই বক্তব্য মিথ্যা। তারা এর প্রতিকার দাবি করেছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম  প্রিয়া সাহার বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন। বলেছেন, তিনি কেন এটা করলেন তা খতিয়ে দেখা হবে।

গত ১৮ই জুলাই বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার এমন ২৭ ব্যক্তির বক্তব্য শোনেন ডনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে প্রিয়া সাহাও কথা বলেন।
এ সময় প্রিয়া সাহা বলেন, আমি বাংলাদেশ থেকে এসেছি। বাংলাদেশে ৩৭ মিলিয়ন (৩ কোটি ৭০ লাখ) হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানকে বিলিন করা হয়েছে। দয়া করে আমাদের লোকজনকে সহায়তা করুন। আমরা আমাদের দেশে থাকতে চাই। তিনি বলেন, এখন সেখানে ১ কোটি ৮০ লাখ সংখ্যালঘু রয়েছে। আমরা আমাদের বাড়িঘর খুইয়েছি। তারা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে, তারা আমাদের ভূমি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বিচার পাইনি। একপর্যায়ে ট্রাম্প ওই নারীকে সান্ত্বনা দেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানতে চান, কারা এসব করছে। প্রিয়া সাহা বলেন, দেশটির মৌলবাদীরা এসব করছে। তারা সবসময় রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলাদেশের প্রায় সবাই প্রিয়া সাহার এ বক্তব্যের নিন্দা জানান। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, দুনিয়ার বেশিরভাগ দেশের তুলনায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপদে রয়েছেন। একজনও পাওয়া যায়নি যিনি প্রিয়া সাহার বক্তব্য সমর্থন করেন। এ বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। তিনি লিখেছেন, আমি জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থায় একাধিকবার ভরা হাউসে পৃথিবীর সব দেশের এবং বাংলাদেশ ও বাইরের দেশের এনজিওদের মানবাধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। যেখানে শ্রদ্ধেয় রানা দাশ গুপ্তর মতো মানুষেরাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দেয়া প্রিয়া সাহার অভিযোগের মতো কোনো অভিযোগ বা প্রশ্ন কাউকে করতে দেখিনি। তীব্র নিন্দা জানাই। তিনি কেন এটা করলেন তা খতিয়ে দেখা হবে। তার অভিযোগুলোও সরকার শুনবে এবং খতিয়ে দেখবে।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পও জানেন যে তার কাছেও মিথ্যা অভিযোগ করা হয়। মার্কিন প্রশাসন তাদের এখানকার দূতাবাসের মাধ্যমেই প্রতিনিয়ত তথ্য পেয়ে থাকে এবং আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখি। প্রিয়া সাহার সমালোচনা করতে গিয়ে অনেকে বিভিন্ন সমপ্রদায়ের সমালোচনা করছেন। এটাও ঠিক নয়। যেমনটি নয় প্রিয়া সাহার করা অভিযোগ। সমাজের সকল স্তরে যার বিচরণ এবং সরকারের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যার যোগাযোগ, তার এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্মীয় সমপ্রতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ। অনেকেই ব্যক্তি স্বার্থে বা না বুঝে এটার ক্ষতি করে ফেলেন। সবার উচিত এই ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশ গুপ্ত মানবজমিনকে বলেন, প্রিয়া সাহা ঐক্য পরিষদের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক। কিন্তু তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা একান্তই তার নিজের। এ বক্তব্য হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নয়। তিনি বলেন, প্রিয়া সাহা সংগঠনের পক্ষ থেকেও আমেরিকায় যাননি। এ ব্যাপারে সংগঠন কিছুই জানে না।

উল্লেখ্য, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে প্রিয়া সাহা বাংলাদেশের সরকারী প্রতিনিধি দলে ছিলেন না। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বা বেসরকারী প্রতিনিধি হিসেবে ওয়াশিংটন সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের নেতৃত্বে দেশের প্রধান ৪ ধর্মের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশের সরকারী প্রতিনিধি দল ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন সম্মেলনে অংশ নিয়েছে। ওই দলে হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধি হিসাবে আছেন অ্যাডভোকেট নির্মল চ্যাটার্জি। তিনি হিন্দু-বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা। খৃষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসাবে রয়েছেন খৃষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট্রের সচিব নির্মল রোজারিও। বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিনিধি হিসাবে গেছেন হিন্দু বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের নেতা অশোক বড়ুয়া এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঈদ-জামাত শোলাকিয়ার খতিব মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ তনয় মাওলানা জুনুদ উদ্দিন মাকতুম। তিনি জমিয়তুল উলামা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। বাংলাদেশ সরকারের ওই প্রতিনিধি দলে তরিকত ফেডারেশনের নেতা তৈয়বুল বশর মাইজভন্ডারিও অন্তর্ভূক্ত রয়েছেন। তিনি ওই সংগঠনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারির ছেলে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
রাতুল
২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, ৩:০২

অমিত শাহা ! প্রিয়া সাহা ! ভারতের অমিত শাহা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হবার পরথেকে নিয়মিত যে বিষয়টি বলে আসছে মিডিয়ায় - এই প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একই বিষয় বলে বুঝাতে চাইছে । ও আমার দেশপ্রেমি বাংলাদেশিরা বিষয়টি আপনারা গুরুত্তের সাথে বুঝার চেস্টা করুন । ( ভারত প্রেমি বাংলাদেশিদের বলিনাই )

Faruk Hossain
২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, ১১:৩৫

প্রিয়া সাহা বলেন, দেশটির মৌলবাদীরা এসব করছে। প্রিয়া সাহা সেখানে মুসলিম শব্দটা বলেছেন যা প্রতিবেদক এড়িয়ে গেছেন। আসলে আপনারাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে প্রিয়া সাহাদের পাশে থাকেন। আর তাই তাড়া এত স্পর্ধা দেখাতে পারে।

রাতুল
২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, ১১:২১

অমিত শাহা ! প্রিয়া সাহা ! ভারতের অমিত শাহা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হবার পরথেকে নিয়মিত যে বিষয়টি বলে আসছে মিডিয়ায় - এই প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একই বিষয় বলে বুঝাতে চাইছে । ও আমার দেশপ্রেমি বাংলাদেশিরা বিষয়টি আপনারা গুরুত্তের সাথে বুঝার চেস্টা করুন । ( ভারত প্রেমি বাংলাদেশিদের বলিনাই )

Kazi
১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, ৮:৫৭

বাংলাদেশে সংখ্যা লঘুরা সংখ্যাগুরুর চাইতেও সম্মানে ও নিরাপদে আছে । হিন্দুরা ভারতকে আদর্শ মনে করে। সে দেশে গোরক্ষার নামে মুসলমান পিটিয়ে প্রায়ই হত্যা করা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে সন্ত্রাসিরা সংখ্যাহলঘুকে নয় বরং সংখ্যাগুরুকে অহরহ হত্যা ও ধর্ষণ করছে। প্রিয়া সাহা রাষ্ট্রদ্রোহী । মিথ্যা বানোয়াট কাহিনী বানিয়ে দেশের ক্ষতিতে লিপ্ত। দেশে ফিরলে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসাবে বিচার কাম্য।

FOYEZ AHMED
১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, ১:৩০

প্রিয়া সাহা ডনালট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশের মুসলিমদের উপর যে মিথ্যা বানোয়াট মনগড়া বক্তব্য দিলেন আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। যেদে দেশে শতকরা ৯২% মুসলমানদের বসবাস সে দেশে ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সবাই শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করতেছে অথচ সে দেশের বিপক্ষে এই নর্দমায় থাকা কীট কি অশালীন বক্তব্য দিয়ে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের মান ক্ষুন্ন করলো। দেশে কোন অন্যায় অবিচার হলে আইন আছে সরকার আছে কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করেই দেশের সরকার ও আইন কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে এই নারী তার এদেশে থাকার কোনো অধিকার নাই

Abdul Kader Chowdhur
২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, ১:৩২

She(Prya Shaha) is representing (37+18) million minority people which is at least 32 to 35 % people of the country.So, she is representing more then the largest political party of Bangladesh.It should be taken seriously to solve the issue. Government should appoint her husband(Who is the DD of DUDOK ) as the investigation officer till then they shouldn't stay in the same house to avoid the conflict of interest .That"s the easy way she will get the asylum/refugee status for which she made the drama.We should empathize her situation Another way to settle down in States,she can apply for the immigration which she cannot, as she will never qualify in any category. এ ব্যাপারে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশ গুপ্ত মানবজমিনকে বলেন, প্রিয়া সাহা ঐক্য পরিষদের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক। কিন্তু তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তা একান্তই তার নিজের। এ বক্তব্য হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নয়। তিনি বলেন, প্রিয়া সাহা সংগঠনের পক্ষ থেকেও আমেরিকায় যাননি। এ ব্যাপারে সংগঠন কিছুই জানে না। In that case secretary of the association can take necessary action against her or help her if she is right. Abdul Kader chowdhury Calgary [email protected]

জাফর আহমেদ
১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, ১১:৫৬

আজ‌ কাল হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কিছু নেতা ও তাদের কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতা বেড়ে যাচ্ছে। এই যেমন ইসকান নামের সংগঠনটি মুসলিম শিশুদের প্রসাদ বিতরণ শুরু করেছে বিনিময়ে তারা রাম নামের শ্লোগান দিতে বাধ্য করছে। এখনি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

মো আলী হায়দার
১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, ১১:২৬

তার বিরুদ্ধে রাস্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগ আনা হোক, হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ঐক্য পরিষদকে নিষিদ্ধ করা হোক

অন্যান্য খবর