× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার

বিয়ের প্রলোভনে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ অতঃপর মৃত্যু

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে | ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার, ৯:৩৪

বিয়ের প্রলোভনে প্রতারিত হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিলেন যশোরের কলেজছাত্রী মাহমুদা খাতুন ঐশী (১৯)। তিনি যশোর সরকারি এমএম কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং নতুন উপশহর ডি ব্লকের ৩৭ নম্বর বাড়ির ভাড়াটিয়া আসাদুজ্জামানের মেয়ে।
ঐশীর পিতার দাবি, বিয়ের প্রলোভনে তার মেয়েকে ধর্ষণ করার ফলে আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ঐশী। পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর জন্য ওষুধ খাওয়ানোর ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার জন্য উপশহর এস ব্লকের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাড়ির মালিক সৈয়দ রওশন আলীর ছেলে সৈয়দ শামীমকে দায়ী করেছেন তিনি। সহযোগিতার অভিযোগে শামীমের অপর দুই ভাই নাসিম ও নাঈমের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ মামলার ২ নম্বর আসামি নাসিমকে আটক করেছে।
কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, নাসিম ও নাঈমের সঙ্গে ঐশী একই কলেজে লেখাপড়া করতো। তাদের মাধ্যমে বড়ভাই সৈয়দ শামীমের সঙ্গে পরিচয় ঘটে ঐশীর। পরিচয়ের সূত্র ধরে তার সঙ্গে ঐশীর কথাবার্তা চলতো।
একপর্যায়ে শামীম ঐশীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে তার কাছাকাছি আসার চেষ্টা করে। গত ৩রা মে ঐশীর কলেজ ছুটি হলে তাকে ফুসলিয়ে শামীম তাদের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং তাকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এভাবে একাধিকবার দৈহিক সম্পর্ক হয়েছে।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১২ই জুলাই ঐশী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু সে কাউকে কিছু বলতে চায়নি। ঐশী শামীমকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে তা অস্বীকার করে এবং জোর করে ঐশীকে গর্ভপাত ঘটানোর ওষুধ খাইয়ে দেয়। ১৭ই জুলাই খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে যশোরের কুইন্স হসপিটালে ভর্তি করা হয়।
ঐশীর মা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার বিকালে পরীক্ষা করে দেখা গেছে তার পেটে রক্তাক্ত অবস্থা। ডাক্তার নার্গিস আক্তার জরুরি ভিত্তিতে অপারেশনের জন্য পরামর্শ দেন। তাকে রাতেই ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ১২টার দিকে তার অপারেশন হয়। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। পরদিন রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঐশী মারা যান। সকালে তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়।
তিনি আরো জানিয়েছেন, ঐশী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিয়ের জন্য শামীমকে চাপ প্রয়োগ করে। ঐশীর মোবাইল ফোনের মেসেজে তা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু শামীম বিয়ে না করার জন্য তালবাহানা করতে থাকে। একপর্যায়ে শামীম জোর করে ঐশীকে গর্ভপাতের ওষুধ খাইয়ে দিলে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কাজল মল্লিক জানিয়েছেন, ঐশী আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল এটা সঠিক। তবে তার জরায়ুতে সমস্যা ছিল। বাচ্চা যেখানে কনসেপ্ট করার কথা সেখানে না করে পাশের নালীতে করে। ফলে নালী বড় হয়ে তা ফেটে যায়। এই ধরনের সমস্যা হলে কোনো নারী সন্তান জন্ম দিতে পারে না। বড় হওয়ার আগেই অপারেশন না করলে মায়ের মৃত্যু হয়। এ ক্ষেত্রে তাই হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে।
এই বিষয়ে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই ফারুক হোসেন জানিয়েছেন, গতকাল সকালে থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শামীমকে আটক করা যায়নি। তবে তার ছোট ভাই নাসিমকে আটক করা হয়েছে। সে এই মামলার দুই নম্বর আসামি।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) শামসুদ্দোহা জানিয়েছেন, ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ বৃহস্পতিবার রাতেই একটি মামলা রেকর্ড করে। এখন মৃত্যু হওয়ায় নতুন ধারা যোগ হবে। আর মূল আসামিকে আটকের জন্য অভিযান চলছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর