× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার

পর্নোগ্রাফি ও ব্ল্যাকমেইল নেশা সিলেটের এহিয়ার

শেষের পাতা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে | ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার, ১০:৩৮

এহিয়ার পর্নোগ্রাফি ও ব্ল্যাকমেইল নিয়ে সিলেটে তোলপাড় চলছে। তার নেশা হচ্ছে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণীদের পটানো। এরপর প্রেম, বিছানা সবকিছু করা। অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করে পরে ব্ল্যাকমেইল করতো সে। এভাবে একাধিক মেয়ের সঙ্গে সে সম্পর্ক গড়েছে। তাদের সঙ্গে দৈহিক মিলন করে ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে ওই ভিডিও দিয়ে সে ব্ল্যাকমেইল করে। এহিয়ার এমন কয়েকটি ঘটনা পুলিশের কাছে আসার পর অনুসন্ধানে নামে পুলিশ।
তরুণী দিয়ে ডেকে এনে আটক করা হয় এহিয়াকে । কিন্তু তার মোবাইল ফোন থেকে পর্নোগ্রাফির ফুটেজগুলো উদ্ধারের পর তা দেখে পুলিশ কর্মকর্তারা হতবাক। এমন কাণ্ড করতে পারে কেউ- এ প্রশ্নও ছুড়েন পুলিশ কর্মকর্তারা। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে পর্নোগ্রাফি, ব্ল্যাকমেইল অনেক ঘটনা স্বীকার করেছে এহিয়া। তবে- কৌশলে এড়িয়ে গেছে অনেক কিছু। এ কারণে সিলেটের কোতোয়ালি থানা পুলিশ এখনই তাকে বিশ্বাস করতে পারেনি। গতকাল পর্নোগ্রাফি ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হওয়া এক তরুণীর মামলার প্রেক্ষিতে তাকে আদালতে পাঠিয়েছে। সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খোকন দেবনাথ ৫ দিনের রিমান্ডেরও আবেদন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন- আদালত এহিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। পরবর্তীতে রিমান্ডের শুনানি অনুষ্টিত হবে। সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য তৌহিদুর রহমান এহিয়ার মূল বাড়ি ছাতক উপজেলার বুড়াইয়া এলাকায়। ওখানে বাড়ি হলেও পিতা মাহমুদুর রহমানসহ তারা বসবাস করেন সিলেট নগরীর শেখঘাটের শুভেচ্ছা আবাসিক এলাকায়। সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সে। ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের সক্রিয় সদস্য বলে পরিচিত এহিয়া। সম্প্রতি এহিয়ার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করেন নগরীর শাহী ঈদগাহ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। তিনি অভিযোগে জানান- ৫-৬ মাস আগে তৌহিদুর রহমান এহিয়া নামে ওই ব্যক্তির সঙ্গে তার ফেসবুকে পরিচয় হয়। এই পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। আর এ প্রেম থেকে এহিয়া তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে। পরবর্তীতে তার প্রেম প্রত্যাখ্যান করলে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এরপর গত ১৭ই জুলাই এহিয়া তাকে নগরীর সুরমা মার্কেটের একটি রেস্টুরেন্টে ডেকে নিয়ে তার সঙ্গে মিলনের ভিডিও দেখায়। এবং বান্ধবীদের মধ্য থেকে কাউকে রাজি করে নিয়ে না আসলে এই ভিডিওগুলো ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এহিয়ার এই ব্ল্যাকমেইলে আরো বেশি কাতর হয়ে পড়ে ওই ছাত্রী। বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করে। একই সঙ্গে ব্ল্যাকমেইলের বিচার দাবি করলে পরিবারের সদস্যদের সিদ্ধান্তক্রমে তারা কোতোয়ালি পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশের কাছে এহিয়ার মোবাইল নম্বর দিয়ে অভিযোগের পর পুলিশ এ নিয়ে তদন্ত শুরু করে। এরই মধ্যে তারা দেখতে পারে মদিনা মার্কেটের আরেক মেয়ে এহিয়ার ব্যবহৃত অন্য একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে ২৯শে জুন থানায় জিডি করেছে। একই বিষয় নিয়ে মোগলাবাজারের আরেক তরুণী কোতোয়ালি থানা পুলিশের দ্বারস্থ হয়। সব অভিযোগে অভিযুক্ত এই এহিয়াই। এই অবস্থায় মোগলাবাজারের তরুণীকে দিয়ে পুলিশ এহিয়াকে সুরমা মার্কেটে নিয়ে আসে। আর শুক্রবার দুপুরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ সুরমা মার্কেটের সামনে থেকে এহিয়াকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যায়। সেখানে ওসি সেলিম মিয়া প্রথমে এহিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ওসি নিজেই এহিয়ার মোবাইল ফোন নিয়ে তল্লাশি করেন। কোতোয়ালি থানার ওসি সেলিম মিয়া মানবজমিনকে জানিয়েছেন- এহিয়ার মোবাইল দেখে তো আমরা হতবাক। অনামিকা আবাসিক এলাকার যে তরুণীটি অভিযোগ করেছিল সেই অভিযোগ মতো তার ভিডিও ছবি সব পাওয়া গেছে। তরুণীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের সব দৃশ্য সে ধারন করে রাখে। এর বাইরে আরো দুই তরুণীর সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়েছিল এহিয়া। ওই তরুণীর সঙ্গে তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও পাওয়া যায়। এ ছাড়া অন্য দুই যুবক ও দুই তরুণীর পর্নো ভিডিও পাওয়া যায়। ওই ভিডিওগুলো দিয়ে সে তরুণীদের ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছিল। এ কারণে কোতোয়ালি থানায় আগেই জিডি করা হয়েছিল। সে এসব কেন করেছে প্রশ্ন করা হলে ওসি বলেন- ‘সে ব্ল্যাকমেইলার। তরুণীদের প্রেমে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ এবং ব্ল্যাকমেইল এটি তার নেশায় পরিণত হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে অনেক কিছুই স্বীকার করেছে। আবার কিছু কিছু বিষয় এড়িয়ে গেছে। এ কারণে আমরা তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করবো বলে জানান ওসি।’ এদিকে- এহিয়ার ফেসবুক, ইমো ও হোয়াটসআপ দেখেছে পুলিশ। প্রযুক্তির এই তিনটি মাধ্যম দিয়ে সে তরুণীদের ব্ল্যাকমেইল করতো। তার মেসেঞ্জারের অপসনে অশ্লীল কথাবার্তা, ছবি ও ফুটেজ ছাড়া আর কিছুই নেই। একই ভাবে হোয়াটসআপ ও ইমোতেও তাই। তার ফ্রেন্ডলিস্টের শতকরা ৯০ ভাগই হচ্ছে তরুণী। মেসেজের মাধ্যমে এই তরুণীদের ব্ল্যাকমেইল করে যাচ্ছিল।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Kazi
২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার, ৮:৪৪

এক হাতে তালি বাজে না। যে সব তরুণী প্রেমের নামে তার শয্যা সঙ্গিনী হয়েছে তাদেরও শাস্তি চাই।

অন্যান্য খবর