× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০১৯, বুধবার
খুলনা জিআরপি থানায় গণধর্ষণ

ওসি উছমান ও এসআই নাজমুল ক্লোজড

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে | ৮ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৯:১২
অভিযুক্ত ওসি উছমান গণি পাঠান

খুলনা জিআরপি থানা হাজতে গণধর্ষণের ঘটনায় থানার ওসি উছমান গণি পাঠান ও এসআই নাজমুল হককে ক্লোজ করা হয়েছে। বুধবার তদন্ত কমিটির প্রধান কুষ্টিয়া সার্কেলের এএসপি ফিরোজ আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে, শুক্রবার খুলনার জিআরপি থানার ওসি উছমান গণি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তিন সন্তানের জননীকে (৩০) গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশে সোমবার দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।
এদিকে গণধর্ষণের অভিযোগে গঠিত তিন সদস্যের টিম তদন্ত শুরু করেছে। মঙ্গলবার বিকালে কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা খুলনা জিআরপি থানা পরিদর্শন এবং তদন্ত শুরু করেন। এ সময় তদন্ত কমিটির সদস্যরা বলেন, আমরা কেবল তদন্ত শুরু করেছি। এখনই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা সম্ভব না।
অপরদিকে, থানা হাজতে গণধর্ষণের ঘটনায় খুলনার বিভিন্ন মহলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
পাকশি রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, ‘ঘটনার সঠিক তথ্য উদঘাটনের লক্ষ্যে তিন সদস্যের কমিটি তদন্ত শুরু করেছে। কমিটিকে ঘটনাটি সরেজমিন অনুসন্ধান করে সুস্পষ্ট মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন সাত দিনের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূকে আদালত ফেনসিডিল মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছেন। ২/১ দিনের মধ্যে আবারো তার জামিনের আবেদন করা হবে। তবে ধর্ষণের ফরেনসিক রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনার জিআরপি থানায় একটি মাত্র হাজতখানা রয়েছে। এখানে নারী হাজতি রাখার জন্য পৃথক সেল নেই। ঘটনার রাতে ভিকটিমকে থানার একমাত্র হাজতখানায়ই রাখা হয় বলে পুলিশ দাবি করছে।
ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা খুলনা জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উছমান গণি দাবি করেন, ‘থানায় হাজতখানা একটিই। পুরুষ হাজতি থাকলে মহিলা হাজতিদের থানার অন্য কক্ষে রাখা হয়। ২রা আগস্ট ঘটনার রাতে থানায় ওই নারীই একমাত্র হাজতি ছিলেন। আর তাই তাকে থানার হাজতখানায়ই রাখা হয়েছিল।’ তিনি দাবি করেন, ‘ওই রাতে থানায় দুই জন নারী কনস্টেবল, সেন্ট্রি হিসেবে দু’জন পুরুষ কনস্টেবল, ডিউটি অফিসারসহ নিয়মিত ডিউটির অন্যান্য কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যও ছিলেন। ধর্ষণের অভিযোগ সত্য নয়।
উল্লেখ্য, ২রা আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা ওই গৃহবধূকে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে আটক করে। পরদিন শনিবার তাকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ফুলতলায় পাঠানো হয়। ৪ঠা আগস্ট আদালতে জামিন শুনানিকালে ওই নারী অভিযোগ করেন, জিআরপি থানায় তিনি গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এরপর আদালতের নির্দেশে সোমবার তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর