× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০১৯, বুধবার
চলন্ত বাসে গণধর্ষণ শেষে নার্স হত্যা

৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল

বাংলারজমিন

আশরাফুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ থেকে | ৯ আগস্ট ২০১৯, শুক্রবার, ৯:২০

স্বর্ণলতা পরিবহনের চলন্ত বাসে কটিয়াদীর মেয়ে নার্স শাহিনুর আক্তার তানিয়াকে গণধর্ষণ শেষে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল মামুন-এর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাজিতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সারোয়ার জাহান। অভিযুক্তরা হলো- বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু, নূরুর খালাতো ভাই বোরহান, বাসের হেলপার লালন মিয়া, সুপারভাইজার আল আমিন, কটিয়াদীর কাউন্টার মাস্টার রফিকুল ইসলাম রফিক, লাইনম্যান মো. খোকন মিয়া, পিরিজপুর কাউন্টার মাস্টার মো. বকুল মিয়া ওরফে ল্যাংড়া বকুল, বাসমালিক আল মামুন এবং স্বর্ণলতা পরিবহনের এমডি পারভেজ সরকার পাভেল। উল্লেখ্য, নিহত শাহিনূর আক্তার তানিয়া কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের মেয়ে। তিনি ঢাকার ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কল্যাণপুর শাখায় সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মস্থল ঢাকা থেকে বাড়িতে আসার জন্য গত ৬ই মে বিকালে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে স্বর্ণলতা পরিবহনের একটি বাসে (ঢাকা মেট্রো ব-১৫-৪২৭৪) উঠেছিলেন শাহিনুর আক্তার তানিয়া। বাড়ির নিকটতম এলাকা বাজিতপুর উপজেলার বিলপাড় জামতলীতে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের শিকার হন তিনি। গণধর্ষণ শেষে তাকে বাস থেকে ফেলে হত্যা করা হয়।
পরে স্বর্ণলতা পরিবহনের কটিয়াদীর কাউন্টার মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম রফিক ও সুপারভাইজার আল আমিন নার্স তানিয়ার নিথর দেহ কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন তাকে।
তানিয়া হত্যাকাণ্ডের পরদিন ৭ই মে রাতে নিহত শাহিনুর আক্তার তানিয়ার পিতা মো. গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে বাসের চালক নূরুজ্জামান নূরু, হেলপার লালন মিয়া, হাসপাতালে তানিয়ার মরদেহ আনয়নকারী আল আমিন এবং পিরিজপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন- এই চারজনের নামোল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করে বাজিতপুর থানায় ধর্ষণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামির মধ্যে বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু ও হেলপার মো. লালন মিয়া এই দুজন ছাড়াও সন্দিগ্ধ আসামি কটিয়াদীর কাউন্টার মাস্টার মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, লাইনম্যান মো. খোকন মিয়া ও পিরিজপুর কাউন্টার মাস্টার মো. বকুল মিয়া ওরফে ল্যাংড়া বকুলকে ঘটনার রাতেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে গত ৮ই মে আদালত গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ আসামির প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৮ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুরের পর ওইদিন তাদের রিমান্ডে নেয়া হয়। তাদের মধ্যে বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু, বাসের হেলপার লালন মিয়া ও কটিয়াদীর কাউন্টার মাস্টার রফিকুল ইসলাম রফিক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের স্বীকারোক্তিতে বাসমালিক আল মামুনের নাম আসায় তাকে ১৭ই জুলাই গ্রেপ্তার করা হয়।
আসামিদের ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং তদন্তে ওঠে আসে, বাসচালক নূরুজ্জামান নূরু ও হেলপার লালন মিয়া, বাসের হেলপার লালন মিয়া এবং নূরুর খালাতো ভাই ও বাসটির অপর হেলপার বোরহান এই তিনজনে মিলে পালাক্রমে তানিয়াকে ধর্ষণ করে। তাদের মধ্যে প্রথম ধর্ষণকারী ছিল বোরহান। কিন্তু বোরহানকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ছাড়া চার্জশিটে অভিযুক্ত নয় আসামির মধ্যে বোরহান ছাড়াও সুপারভাইজার আল আমিন ও স্বর্ণলতা পরিবহনের এমডি পারভেজ সরকার পাভেল ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। এ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ, বিপিএম (বার) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, তানিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা। মামলাটির তদন্তে পুলিশকে নিবিড়ভাবে কাজ করতে হয়েছে। বাসের চালক নূরুজ্জামান নূরু, তার খালাতো ভাই বোরহান ও বাসের হেলপার লালন মিয়া তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ধর্ষণের আগে বাসের ভেতরে তাকে ফেলে দেয়ায় বনেটের সঙ্গে লেগে মাথায় প্রচণ্ড আঘাতপ্রাপ্ত হন তানিয়া। এতে তানিয়া নিস্তেজ হয়ে পড়েন। এ অবস্থাতেই তানিয়াকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের পর বাস থেকে ফেলে তাকে হত্যা করা হয়।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর