× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০১৯, বুধবার

জামিন মেলেনি মিন্নির

এক্সক্লুসিভ

স্টাফ রিপোর্টার | ৯ আগস্ট ২০১৯, শুক্রবার, ৯:২০

বরগুনায় প্রকাশ্যে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন আবেদন ফেরত দিয়েছেন হাইকোর্ট। হাইকোর্ট জামিন না দিয়ে আদালত রুল জারির ইচ্ছা প্রকাশ করলে মিন্নির আইনজীবীরা জামিন আবেদন ফেরত চান। গতকাল বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ জামিন আবেদন ফেরত দেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, আইনজীবী আইনুন নাহার সিদ্দিকা। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোমতাজ উদ্দিন ফকির। তাকে সহযোগিতা করেন এসএম গোলাম মোস্তফা তারা ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রেজাউল করিম।
শুনানিতে মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না আদালতকে বলেন, মামলার এক নম্বর সাক্ষী মিন্নি ঘটনার দিন জীবন বাজি রেখে স্বামীকে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছেন। তা মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। দেশবাসী দেখেছেন।
অথচ পুলিশ মিন্নিকে আটক করে আদালতে রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত একজন ১৯ বছরের মেয়েকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আসামিকে পুলিশ লাইনে নিয়ে জোড়পূর্বক নির্যাতন করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করা হয়। এর প্রমাণ তাকে যখন আদালত থেকে বের করে নেয়া হয় তখন পুলিশ মিন্নির মুখ চেপে ধরেন। এমনকি তার পক্ষে বরগুনার আদালতে কোনো আইনজীবী ছিল না। ইতিমধ্যে মিন্নি তার জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। তাছাড়া, মিন্নি জামিন পেলে এই মামলার কোনো ক্ষতি হবে না। মামলার কোনো ধরনের প্রভাবও ফেলতে পারবে না। সিআরপিসির ৪৯৭ ধারা আইন অনুযায়ী, অসুস্থ মহিলাদের জামিন দেয়ার বিধান রয়েছে। মিন্নি খুবই অসুস্থ। এসব বিবেচনায় নিয়ে আদালত আসামি মিন্নিকে জামিন দিতে পারেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোমতাজ উদ্দিন আদালতকে বলেন, এই ঘটনার ১৫ জন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এর মধ্য ৪ জন রিফাত শরিফ হত্যায় মিন্নির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এছাড়া রিফাত শরীফের হত্যা ঘটনার আগের সিসিটিভির একটি ফুটেজ রয়েছে। ওই ফুটেজে তার গতিবিধি সন্দেহ জনক। তাই আমরা তার জামিনের বিরোধিতা করছি।
এ পর্যায়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামি পক্ষের আইনজীবীর কাছে জানতে চায়, হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় মিন্নির দেয়া জবানবন্দির কপি আপনাদের কাছে আছে কি না? তখন জেড আই খান পান্না বলেন, জবানবন্দির কপি তাদের হাতে নেই, তাদেরকে তা দেয়া হয়নি। বিচারক তখন বলেন, আপনারা জবানবন্দির কপি নিয়ে আসেন, আমরা জামিন প্রশ্নে রুল দেব। এ সময় মিন্নির আইনজীবী বলেন, আমরা রুল চাই না, জামিন চাই। কিন্তু আদালত তাকে জানায়, জবানবন্দির কপি দাখিল না করলে জামিন হবে না। এ সময় আবার মিন্নির জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তাকে বলেন, আমরা এখন রুল দিতে পারি, অন্যথায় আপনারা আবেদনটি ‘টেক ব্যাক’ করতে পারেন। তখন মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, ওকে, আমরা জামিন আবেদনটি ‘টেক ব্যাক’ (ফেরত নিচ্ছি) করছি।
শুনানি শেষে জামিন না দেয়ায় মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মর্মাহত। তিনি বলেন, ‘জেলগেট থাকতে, পুলিশ লাইনে একজন নারীকে রিমান্ডে নেয়া যায় না। সারাদেশ জানে, মিন্নি নিজের জীবন বাজি রেখে স্বামীকে রক্ষা করতে প্রাণপন চেষ্টা করে গেছে। আমরা ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দি হাতে পাইনি। পুলিশের কাছে চেয়েছিলাম, তারা আমাদের দেয়নি।
তিনি জানান, মামলাটিকে ধ্বংস করার জন্য এক নম্বর চাক্ষুস সাক্ষী মিন্নিকে আসামি করা হয়েছে। জামিন না হওয়ায় তারা মর্মাহত। জামিনের আবেদন ফেরত নেয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘রুল দিলে এটি অনেক সময়ের বিষয়। জবানবন্দির কপি পেলে আমরা জামিন চাইবো। যদি কপি না দেয়া হয় তাহলে আদালতে যাব।
এর আগে গত ৬ আগস্ট জামিন আবেদন শুনানি পিছিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দিন নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট। ওইদিন আবেদনকারী আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলেন, মিন্নির জামিন আবেদন শুনতে বেশি সময় লাগবে; তাই সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার শুনানি করবেন। তার আগে গত ৫ আগস্ট হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় মিন্নির জামিন চেয়ে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের পক্ষে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না।
গত ২৬শে জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে। ওই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সাব্বির আহমেদ ওরফে নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী তাকে রামদা দিয়ে কোপাচ্ছেন। ঘটনার দিন থেকেই নিখোঁজ হন তারা। এর ছয়দিন পর ২ জুলাই নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। পরে রিফাত ফরাজীকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। এই মামলায় রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। পরে তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়। তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তবে তার বাবা বলেন, পুলিশ যা বলতে বলেছে, আদালতে তা-ই বলেছে মিন্নি। পরে জামিন চেয়ে আবেদন করলে গত ২১শে জুলাই বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালত তা নাকচ করেন। ২৩শে জুলাই বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মিন্নির পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হয়। গত ৩০শে জুলাই শুনানি নিয়ে তা নামঞ্জুর করেন আদালত।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর