× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২১ আগস্ট ২০১৯, বুধবার

‘মশাভুক মাছ’ নিয়ে মাঠে মসিক

শেষের পাতা

মতিউল আলম, ময়মনসিংহ থেকে | ১০ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, ৮:২৩

রাজধানীসহ সারা দেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বর। মশা নিধনে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (মসিক) নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। যা সারা দেশে উদাহরণ হতে পারে। সমপ্রতি নালা-নর্দমায় মশার ডিম ও লার্ভা নিয়ন্ত্রণে সফলতা দেখানো ‘মশাভুক মাছ’ (মসকিউটো ফিশ) নিয়ে মাঠে নেমেছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। নগরীর নালা-নর্দমায় ছাড়া হচ্ছে মশাখেকো এ মাছ। বৃহস্পতিবার (৮ই আগস্ট) বিকালে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু নগরীর বিদ্যাময়ী স্কুলের পেছনের বড় নালায় ও স্কুলটির পুকুরে প্রায় ৭ হাজার ‘মশাভুক মাছ’ অবমুক্ত করেন। সপ্তাহখানেকের মধ্যে নগরীর প্রায় ৩শ’ কিলোমিটার নালা ও ১২টি নর্দমায় প্রায় লক্ষাধিক মাছ অবমুক্ত করার টার্গেট নেয়া হয়েছে। সারা দেশে ক্রমশ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগী সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক-নার্সদের। এ অবস্থায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে নগরজুড়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করেছে।

শুধু ফগার মেশিনে মশার ওষুধ ছিটিয়ে নয়, এবার করপোরেশন নজর দিয়েছে সব রকমের মশার প্রজননক্ষেত্র বিনষ্ট করতে। এজন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের গবেষকদের তারা দ্বারস্থ হয়েছে। পাশাপাশি স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে বিশ্ববিদ্যালয়টির একদল গবেষক আরেকটি বিশেষ প্রজাতির মাছ ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনকে দেবে বলে জানিয়েছেন মেয়র ইকরামুল। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এবি মো. শামসুজ্জামান সেলিম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সব মিলিয়ে হাসপাতালে ১৬১ জন ডেঙ্গু রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। জানা যায়, ডেঙ্গু মুক্ত ময়মনসিংহ মহানগরী গড়তে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নিয়ে মাঠে তৎপর রয়েছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। এজন্য পুরোদমে নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ফগার মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটাচ্ছেন পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, মশার ওষুধ ছিটিয়ে কেবল এডিস মশা নির্মূল সম্ভব নয়। এজন্য সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে করপোরেশন। ইতিমধ্যে নিজেই প্রায় ৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে ডেঙ্গু সতর্কবার্তা সম্বলিত প্রচারপত্র তুলে দিয়েছেন মেয়র। দিন কয়েক আগে ঢাকা থেকে আসা সব যানবাহনে এডিস মশা তাড়াতে বাসের চালকদের হাতে প্রায় তিন শতাধিক অ্যারোসল তুলে দিয়েছেন সিটি মেয়র।

সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ‘মশাভুক মাছ’ নিয়ে গবেষণা করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ। ২০১৭ সালে প্রথম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কয়েকটি ড্রেনে মশা নিয়ন্ত্রণে মসকিউটো ফিসের সফলতার পর এর দক্ষতা নিয়ে গবেষণা করেন। নর্দমার পানিতে মশার লার্ভা নিধনে মশাভুক মাছ কার্যকর ভূমিকা পালন করে। মশার জৈবিক নিয়ন্ত্রণে প্রথমে তাদের কাছ থেকে ৭ হাজার মাছ নেয়া হয়েছে। প্রথম দিনেই এ মাছগুলো নালা-নর্দমায় অবমুক্তের পাশাপাশি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরো লক্ষাধিক মাছ নগরীর প্রতিটি নালা-নর্দমায় অবমুক্ত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু বলেন, বছরজুড়েই মসকিউটো ফিশের মাধ্যমে নগরীর প্রতিটি নালা-নর্দমায় মশা নিধন কর্মসূচি চলবে। স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করার জন্য আরেক প্রজাতির বিশেষ মাছ আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু নির্মূলে নিজেদের উদ্যোগে নিজের বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার করারও আহ্বান জানান তিনি।।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর