× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার

গাজীপুরে স্ত্রীর মরদেহের ৫ টুকরা উদ্ধার, পাষণ্ড স্বামী গ্রেপ্তার

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর থেকে | ১৫ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৮:১৯

গাজীপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ ১৫ টুকরো করে গুম করার ঘটনায় পুলিশ পাষণ্ড স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘাতক স্বামী ইলেক্টট্রিক মিস্ত্রি মামুন মিয়ার বাড়ি জেলার কাপাসিয়া উপজেলার বড়ইবাড়ি গ্রামে। বুধবার দুপুরে গাজীপুর পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার প্রেস ব্রিফিং এ তথ্য জানান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুস সবুর ও শ্রীপুর থানার ওসি লিয়াকত আলী উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার জানান, গাজীপুরের শ্রীপুরের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক নেত্রকোনার বাসিন্দা সুমা আক্তারকে তার স্বামী মামুন মিয়া (২৫) পরিকল্পিতভাবে ঘুমের ওধুষ খাইয়ে গত ৯ই আগস্ট হত্যা করে। পরে মরদেহ বাথরুমে নিয়ে সে ১৫টি টুকরো করে। মরদেহের মূল অংশ নিয়ে সিংহস্রী ব্রিজ থেকে শীতলক্ষা নদীতে ফেলে দেয়। বাকি ৫টি টুকরো গত ১২ই আগস্ট নিহতের স্বজনদের সহায়তায় তাদের বাসার ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে পলিথিন ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এসময় একটি বড় আকারের ছোড়া ও ট্রাভেল ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঢাকার আশুলিয়া থেকে ঘাতক স্বামী মামুন মিয়াকে ১৪ই আগস্ট গভীর রাতে তার আত্মীয়ের বাস থেকে গ্রেপ্তার করে। সে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। পারিবারিক কলহ ও সুমার জমানো ৪০ হাজার টাকা ভোগ করার জন্য গার্মেন্ট কারখানা ছুটির দিনে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মতো ঘটনার সন্ধ্যায় হালিমের সাথে ঘুমরে ওষুধ মিশিয়ে অচেতন করা হয় এবং রাত ১টার দিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় শরীরের মূল অংশ ট্রাভেল ব্যাগে ভরে নদীতে ফেলে দেয়। বাকি ৫টি টুকরো নদীতে ফেলার জন্য পলিথিনে মুড়িয়ে ড্রয়ারে রেখে দেয়। পরদিন সকালে ভিকটিমের ছোটবোন ওই বাসায় এসে গেলে তা ফেলতে পারেনি, বরং তাদের উপস্থিতির কারনে ঘাতক মামুন বাসা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
 এদিকে, শ্রীপুর থানায় নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানার দেবকান্দা গ্রামের নিজাম উদ্দিনের দায়ের করা মামলার বিবরণে জানা গেছে, প্রায় দু বছর আগে কাপাসিয়ার মামুনের সঙ্গে তার মেয়ে সুমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে তাদের দুজনের মধ্যে ঝগড়া-ঝাটি ও কথা কাটাকাটি হতো। গত ৯ই আগস্ট সকালে মামুন তার শাশুড়ির মোবাইল নাম্বারে ফোন দিয়ে জানায়, সুমাকে তাদের বাড়ি যেতে গাড়িতে উঠিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সে বাড়িতে না গেলে স্বজনরা খোঁজাখুজি করতে থাকে। এক পর্যায়ে ১২ই আগস্ট সুমার বোন বৃষ্টি তার এক বান্ধবীকে নিয়ে বোনের ভাড়া বাসায় যায়। ঘরের দরজা খুঁজে মালামাল গুছানোর এক পর্যায়ে দুর্গন্ধ ও ড্‌্েরসিং টেবিলের ড্রয়ারে রক্তযুক্ত মাংস সদৃশ্যবস্ত দেখতে পেয়ে চিৎকার দিতে থাকে। এতে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৫টি টুকরা উদ্ধার করে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর