× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২৬ আগস্ট ২০১৯, সোমবার

চামড়া শিল্প হুমকিতে পড়বে - ট্যানার্স এসোসিয়েশন

দেশ বিদেশ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ১৫ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৮:৫০

কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ দিলে দেশের চামড়া শিল্প ‘হুমকির মুখে পড়বে’ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)। পাশাপাশি দেশীয় শিল্প রক্ষায় কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল ধানমণ্ডিতে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান ট্যানারি মালিকরা। এর আগে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিটিএ’র সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ, সিনিয়র সহসভাপতি ইলিয়াছুর রহমান বাবু, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান ও ট্যানারি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম।
সংবাদ সম্মেলনে বিটিএ’র সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, আমরা জেনেছি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ দিতে যাচ্ছে। কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ দিলে শতভাগ দেশীয় এই শিল্প হুমকির মুখে পড়বে। এছাড়া চামড়া শিল্প নগরীতে ৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকির সম্মুখীন হবে।
সাভারস্থ আধুনিক শিল্প নগরী প্রয়োজনীয় কাঁচা চামড়ার অভাবে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়বে। এতে করে এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত বিস্তর জনগোষ্ঠী বেকার হয়ে পড়বে। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান ট্যানারি মালিকদের এ নেতা। শাহীন আহমেদ বলেন, যেসব মৌসুমী ব্যবসায়ী কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছে তাদের আশ্বস্ত করছি, লবণযুক্ত কাঁচা চামড়া আমরা ন্যায্য মূল্যে তাদের কাছ থেকে নেব। তাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সরকার নির্ধারিত দামে আগামী ২০শে আগস্ট থেকে চামড়া সংগ্রহ শুরু হবে। চামড়ার দাম না পাওয়া ও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য আড়তদারদের ওপর দায় চাপালেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন।
গত দুদিন কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার বাজারে ব্যাপক ধস নামে। লাখ টাকার গরুর চামড়া ৩০০ টাকাতেও বিক্রি হয়নি। চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অনেকে রাস্তায় ফেলে চলে যান। কোথাও কোথাও চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার খবরও আসে। এ প্রসঙ্গে ট্যানারি মালিকরা বলেন, আড়তদারেরা নিজেরা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে দিয়েছেন। এতে তারাই লাভবান হবেন। আর আড়তদারদের অভিযোগ, ট্যানারি মালিকেরা গতবারের চামড়ার দাম পরিশোধ না করায় এবার বেশির ভাগ আড়তদার বা ব্যবসায়ী চামড়া কেনা থেকে বিরত থেকেছেন। ফলে চামড়ার দাম কমে গেছে।
শাহীন আহমেদ বলেন, কাঁচা চামড়া রপ্তানির সুযোগ দেয়া হলে লাভবান হবে আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা। এ কারণ তারা কম মূল্যে চামড়া কিনেছে। তাই কাঁচা চামড়া রপ্তানির এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত। তিনি বলেন, সিনথেটিক ও ফেব্রিক্স দিয়ে পাদুকা মানিব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করায় বিশ্ববাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা কমে এক-তৃতীয়াংশে দাঁড়িয়েছে। দেড় ডলারের কাঁচা চামড়া এখন ০.৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ডসহ অনেক দেশের ছাগল ও ভেড়ার চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্যানারি মালিকরা অব্যাহতভাবে লোকসান গুনছেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর