× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার
নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠক

কাশ্মীর সঙ্কট গুরুতর উদ্বেগজনক, রাষ্ট্রদূতদের বাকযুদ্ধ

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১৭ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, ১০:২৮

অবরুদ্ধ কাশ্মীর। ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধংদেহী মনোভাব। এ অবস্থায় সব সময় কাশ্মীরিদের পক্ষে থাকার প্রত্যয় ঘোষণা করেছে পাকিস্তান। ভারত বলেছে, এটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু পাকিস্তান তা মানতে নারাজ। তারা বলেছে, অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। কারণ, ইস্যুটি এখন নিরাপত্তা পরিষদে উঠেছে। ফলে এটি আন্তর্জাতিক মাত্রা পেয়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে টানা ৯০ মিনিটের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে শুক্রবার। পরিস্থিতি নিয়ে সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা বিষয়ক জাতিসংঘের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অস্কার ফার্ন্দান্দেজ-তারাঙ্কো এবং শান্তিরক্ষা অপারেশনে সামরিক উপদেষ্টা কার্লোস হামবার্তো লোইটে’র বিবৃতি শুনলেন ১৫ সদস্যের পরিষদ। সেখানে কাশ্মীর সঙ্কটকে গুরুতর উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন পরিষদের সদস্যরা। এরই মধ্যে উত্তেজনায় ভরা ও অত্যন্ত বিপদজনক পরিস্থিতিতে উস্কানি বা প্ররোচণা না দিতে ভারত ও পাকিস্তান উভয়ের কারো উচিত হবে না বলে মন্তব্য করা হয়েছে। সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়াও। ওদিকে নিরাপত্তা পরিষদের বাইরে বাকযুদ্ধ হয়েছে জাতিসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মালিহা লোদি ও ভারতের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ আকবর উদ্দিনের মধ্যে।

এ খবর দিয়ে অনলাইন আল জাজিরা বলছে, কাশ্মীর নিয়ে বিরল রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলো নিরাপত্তা পরিষদ। এ বৈঠকের পর দুই দেশের রাষ্ট্রদূতরা একে অন্যকে ঘায়েল করে বক্তব্য রেখেছেন পরিষদের বাইরে। কাশ্মীরকে যখন টানা ১২তম দিনের মতো ভারত অবরুদ্ধ করে রাখে শুক্রবার, তখন নিরাপত্তা পরিষদে ওই বৈঠক হয়। হিমালয়ের পাদদেশে কাশ্মীরে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে তখন পরিষদ দেড় ঘন্টার ওই বেঠক করে। এই কাশ্মীর হলো ভারত ও পাকিস্তানের দ্বন্দ্বের মূল। দুই দেশই এই অঞ্চলের পুরোটাই নিজেদের বলে দাবি করে। কিন্তু তারা এর অংশবিশেষ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এরই মধ্যে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে তিনটি যুদ্ধ হয়েছে। এ ছাড়া জম্মু ও কাশ্মীরে তিন দশক ধরে বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই করছে ভারত। এতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ গেছে।
 
গত ১৩ই আগস্ট পাকিস্তান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক আহ্বান করে চিঠি লেখে। এরপরই পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীনও একই আহ্বান জানায়। রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে মালিয়া লোদি বলেন, ৫০ বছরেরও বেশি সময় পরে কাশ্মীর ইস্যুতে প্রথম বৈঠক করল পরিষদ। এটা কেবল প্রথম পদক্ষেপ। এর মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের জনগণকে সমর্থন দিয়ে যাবে ইসলামাবাদ। তিনি বলেন, ভারত দাবি করেছে কাশ্মীর বিষয়টি তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের এই বৈঠক তাদের সেই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে। এখন সারা বিশ্ব দখলীকৃত রাজ্য ও তাদের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। তিনি আরো বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষদের হয়তো অবরুদ্ধ করে রাখা যাবে। তাদের কথা শোনা হবে না নিজের দেশে এবং নিজেদের ভূমিতে। কিন্তু তাদের কণ্ঠ পৌঁছে গেছে জাতিসংঘে। তাদের কথা সবসময়ই শোনা হবে। কারণ, সব সময়ই তাদের পাশে থাকবে পাকিস্তান।
 
এর কয়েক মিনিট পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভারতের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ আকবরউদ্দিন। তিনি বলেন, ভারতের জন্য কাশ্মীর হলো একটি আভ্যন্তরীণ বিষয়। সেখান থেকে সব বিধিনিষেধ আস্তে আস্তে তুলে নেয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি আস্তে আস্তে স্বাভাবিক হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো একটি দেশ ও এর নেতারা জিহাদিদের উস্কে দিচ্ছে এবং ভারতে সহিংসতা অনুমোদন দিচ্ছে। তবে কোনো দেশ এমনটা করছে সুনির্দিষ্ট করে তিনি তা উল্লেখ করেননি।

ওদিকে জাতিসংঘে চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জুন সাংবাদিকদের বলেছেন, কাশ্মীর সঙ্কটে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ভারত বা পাকিস্তান কারো প্ররোচণা দেয়া উচিত হবে না। তাদেরকে বিরত থাকতে হবে। জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত দমিত্রি পোলিয়ানস্কি বলেছেন, সঙ্কটের বিষয়ে মস্কো উদ্বিগ্ন। তবে এটি একটি দ্বিপক্ষীয় ইস্যু। ইসলামাবাদ ও নয়া দিল্লিই সরাসরি উত্তমভাবে এর মোকাবিলা করতে পারে।

নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে তা তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের দিকে তাকালে কিছুটা অনুমান করা যেতে পারে। যথারীতি ভারতকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র। আর পাকিস্তানকে সমর্থন করে চীন। বাকি সদস্যদের সবারই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশের সঙ্গে।

ওদিকে কাশ্মীরের জনগণের মানবাধিকারের জন্য ‘সেফগার্ড’ প্রয়োজন নিরাপত্তা পরিষদের- এমন মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল কুমি নাইদু। শুক্রবার তিনি বলেছেন, কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের জীবনকে টালমাটাল করে দিয়েছে ভারত সরকার। তাদেরকে বিনা কারণে পীড়া ও হতাশায় ভুগতে হচ্ছে। রাজনৈতিক সঙ্কটে জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। তাদের মানবাধিকারের প্রতি যাতে সম্মান দেখানো হয় এ জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে একত্রিত হতে হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Kaydul jamali
১৮ আগস্ট ২০১৯, রবিবার, ৬:৫৩

কাস্মির কে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই। উচিৎ হবে বিশ্বের সকল শক্তি একত্রিত হয়ে ভারতকে রুখে দিয়ে একটি স্বাধীন কাস্মির রাষ্ট্র গঠনে সহায়তা প্রদান করা।

অন্যান্য খবর