× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার

শুধুই পোড়া টিনের স্তুপ, হাহাকার

অনলাইন

পিয়াস সরকার | ১৭ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, ১১:৪৩
ছবিঃ জীবন আহমেদ

‘এ আমার ভাংড়ি নেচে কেটা? এ আমার ভাংড়ি নেচে কেটা?’ এখন রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে আগুনে পোড়া বস্তির বাসিন্দা ইমন হাসান সব হারিয়ে এভাবেই চিৎকার আর আহাজারি করছিলেন।
রাজধানীর মিরপুর-৭ নম্বরে রূপনগর থানার পেছনে চলন্তিকা মোড়ে অবস্থিত বস্তিতে আকস্মিক লাগা আগুনে ৯৫ শতাংশ বস্তি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন বস্তির হাজার হাজার বাসিন্দা রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন।  বস্তির বাসিন্দা ইমন হাসানের মতো অনেকের শেষ সম্বলটুকু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পড়ে রয়েছে শুধু কিছু টিন। এই টিনও দিতে হচ্ছে পাহারা। তারপরেও সেটুকুও চুরি হয়ে যাচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বারবার হ্যান্ড মাইকে অন্যের জিনিসে হাত না দিতে বলার পরও সবাই চুরি ঠেকাতে ব্যস্ত। আর যারা ঈদের ছুটিতে বাড়ি গিয়েছেন তাদের জিনিস দেখার কেউ নেই।
প্রায় ৫শ লোকের বাস এই বস্তির প্রায় সবাই খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। সব হারিয়ে নিঃস্ব তারা। পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সব। বেশ কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে অধিকাংশ লোকই ছিলো না বস্তিতে। আর আগুন লাগার এক ঘণ্টার মতো সময় নিয়ে ছড়িয়ে পড়ে পুরো বস্তিতে যার কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এখন শুধুই পোড়া গন্ধ। ধংসস্তুপের মাঝে আছেন আশে পাশের মানুষ। নেই বাড়ির মালিক। যারা ছিলেন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয়রা দিয়েছেন খাবার
শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটের দিকে লাগা আগুন রাত সাড়ে ১০টায় নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেও পর্যায়ক্রমে তা বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ফায়ার সার্ভিসের ২৪টি ইউনিট সাড়ে তিন ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
আগুনের লাগার পর বস্তিবাসী তাদের ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও অধিকাংশ তাদের মালামাল বের করতে পারেননি। ঘরের ভেতরে টিভি, ফ্রিজ, জামা-কাপড়, টাকা সবই রয়েছে গেছে এবং তা পুড়ে ছাই হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বস্তিবাসীর কেউ কেউ রাস্তার নিজের সন্তানকে খুঁজছেন। আবার কেউ কেউ স্বামীর সন্ধান করছেন। সবার চোখে-মুখে ভয়ের ছায়া। ভয়াবহ আগুনে নিজেদের সবকিছু পুড়ে যেতে দেখে মানুষগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিলাপ করছিলেন।
আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তা করেছে র‌্যাব, পুলিশ, ওয়াসা, রেডক্রিসেন্ট। ওয়াসা তাদের নিকটবর্তী পাম্প থেকে পানি দিয়ে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি আসপাশের বাসাবাড়ির মালিকদের সহায়তায় রিজার্ভ ট্যাংক থেকে পানি নিয়ে ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার করে।
অগ্নিকাণ্ডে বস্তির ৯৫ শতাংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মেইনটেইন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিল্লুর রহমান।





অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Kazi
১৭ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, ৮:২০

ফায়ার মেইন ছাড়া বসতি ? পৃথিবীর সব শহরে বসতবাড়ির কাছে রাস্তার পাশে ফায়ার মেইন থাকে । ঢাকায় নাই?

অন্যান্য খবর