× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার

ঈদের নাটকে নতুন মোড়

বিনোদন

এন আই বুলবুল | ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার, ৮:০৮

শেষ হলো টিভি চ্যানেলগুলোর সাত দিনব্যাপী ঈদ আয়োজন। এই আয়োজনে দর্শকের চোখ ছিল টিভি নাটক ও টেলিছবির দিকে। এরইমধ্যে ঈদের নাটক-টেলিছবি নিয়েও অঙ্ক কষা শুরু হয়েছে। কোন নির্মাতার নাটক-টেলিছবির ভিউ কেমন? কার নাটকের দিকে দর্শকের চোখ বেশি ছিল? কে এগিয়ে আছেন ঈদের নাটকে? এমন অনেক কিছুর হিসাবনিকাশ করছেন সবাই। তবে গেল কয়েক বছরের চেয়ে এবারের ঈদের নাটক কিছুটা ব্যতিক্রম বলে অনেকে মন্তব্য করছেন। ঈদের নাটকে নতুন মোড় নিয়েছে বলেও নাট্য নির্মাতাদের অভিমত। এবারো ঈদে প্রায় ছয় শতাধিক নাটক নির্মাণ হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অনেক নাটক ছিল অফট্র্যাক ও সিরিয়াস গল্পের। কিছু নাটকের গল্প ছিল সমসাময়িক। ঈদের নাটক-টেলিছবিগুলোর মধ্যে নির্মাতা সাগর জাহানের ‘মায়া সবার মতো হয় না’, অনিমেষ আইচের ‘ফেরা’, মারুফ মিঠুর ‘সেই রকম বাকী খোর’, মাবরুর রশিদ বান্নার ‘লেডি কিলার-২’ ও ‘আশ্রয়’, মহিদুল মহিমের ‘প্রশংসায় পঞ্চমুখ’ ও ‘গোলাপি কামিজ’, আশফাক নিপুণের ‘এই শহরে’ এবং মিজানুর রহমান আরিয়ানের ‘রঞ্জনা আমি আবার আসবো’সহ বেশ কিছু নাটক দর্শকের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে। এ ছাড়া শিহাব শাহিন, সুমন আনোয়ার, তপু খান, অনন্য ইমনসহ অনেক নির্মাতার নাটকও ছিল গতানুগতিক ধারার বাইরে। ঈদের নাটক নিয়ে নির্মাতা সাগর জাহান বলেন, ঈদের সময় প্রত্যেক নির্মাতা চেষ্টা করেন ভালো কিছু নির্মাণের জন্য। এবার সেই চেষ্টা বেশি ছিল বলে আমি মনে করি। আমার নাটকের বাইরে আরো কয়েকজনের নাটক দেখেছি। তারা প্রত্যেকে গতানুগতিক  গল্পের বাইরে কাজ করেছেন। কমেডি থেকে বের হয়ে নির্মাতারা নতুন কিছু দর্শকদের দিতে চান এবার ঈদের নাটক সেটিই বলে দেয়। একজন নির্মাতা হিসেবে আমার চাওয়া থাকবে এই ধারাটি যেন চলতে থাকে। আমাদের নির্মাতাদের একটু প্রচেষ্টায় আমরা নাটকের দিকে দর্শকদের ফেরাতে পারবো বলে বিশ্বাস করি। নির্মাতা অনিমেষ আইচ বলেন, গেল কয়েক বছরের চেয়ে এবার ঈদের নাটকে বেশ পরিবর্তন এসেছে বলা যায়। খুব বেশি অন্য নির্মাতাদের নাটক দেখা হয়নি। তবে যেগুলো দেখেছি সেখানে বৈচিত্র্য ছিল। এভাবে নির্মাণ হলে আমাদের নাটক নিয়ে দর্শকদের নেতিবাচক মন্তব্য কমে যাবে বলে আমি মনে করি। দর্শক বরাবরই ভালো কিছু দেখতে চায়। কিন্তু আমরা দর্শকদের সেই ভালোর কতটুকু দিতে পারি? ঈদের নাটকের মতো যদি বছরের অন্য সময়েও এমন নাটক-টেলিছবি নির্মাণ হয় তাহলে নাটকে সুদিন ফিরবে। নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ বলেন, ঈদে আমি এবার নতুন কয়েকজন নির্মাতার নাটক দেখেছি। আমাদের দর্শকদের কাছ থেকে শুনে আসছি এখন নাটকে ভাঁড়ামি আর কমেডি থাকে বেশি। গল্প দেখতে পান না দর্শক। কিন্তু ঈদের নাটকগুলো দেখে মনে হলো দর্শকদের এবার আগের অভিযোগগুলো থেকে সরে আসতে হবে। আমি বলবো না,  এবার সব নাটক ভালো হয়েছে। তবে এটা বলতে পারি, তুলনামূলক আগের চেয়ে ভালোর সংখ্যা এবার বেশি। নির্মাতা মহিদুল মহিম বলেন, আমাদের দর্শক অফট্র্যাক ও সিরিয়াস গল্পের নাটক খুব কম দেখে। এসব নাটকে ভিউ কম হয়। কিন্তু দিন শেষে ভালো নাটকের বিকল্প কিছু হতে পারে না। নির্মাতারা সেই ভালো নাটক নির্মাণের জন্য এবার ঈদে জোর প্রচেষ্টা করেছেন বলে আমি মনে করি। একটা ঈদে আমাদের কয়েকশ’ নাটক নির্মাণ হয়। এত নাটকের মধ্যে ভালো নাটক খুঁজে নেয়া কষ্টকর। তবে অন্য বছরগুলোর চেয়ে এবার গতানুগতিক ধারার বাইরের নাটকের সংখ্যা বেশি। ঈদের নাটক নিয়ে বাংলাভিশনের অনুষ্ঠান প্রধান তারেক আখন্দ বলেন, আমি সব সময় বলে আসছি বেশি কাজ হোক। তাহলে বেশি কাজের মধ্য থেকে ভালো কাজ বের হয়ে আসবে। এবার ঈদে ভালো নাটকের সংখ্যা বেশি ছিল। আমি মনে করি একটা গল্পের মধ্যে কমেডি থাকতে পারে। কিন্তু সেই কমেডির মধ্য দিয়ে দর্শকদের কি বোঝানো হচ্ছে? হাসির গল্পের মধ্যেও অনেক সামাজিক বার্তা দেয়া যায়। নির্মাতারা ঈদের নাটকের মতো বছরের অন্য সময়েও যদি নাটকের দিকে একটু বেশি মনোযোগী থাকেন তাহলে আমাদের ভালো নাটকের সংখ্যা বাড়বে। একুশে টিভির অনুষ্ঠান প্রধান জাহিদ হোসেন শোভন বলেন, আমাদের চ্যানেলের বাইরে অন্য চ্যানেলের কিছু নাটক আমি দেখেছি। আমার কাছে এবারের নাটকগুলো গল্পভিত্তিক মনে হয়েছে। অন্যবারের চেয়ে এবারের ঈদের নাটক এদিক থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম। আমরা সব সময় এমন গল্পনির্ভর নাটক চাই। কিন্তু অনেক সময় নানা কারণে সেটি হয়ে ওঠে না। আমি মনে করি ঈদের নাটকের মতো নির্মাতাদের বছরের অন্য সময়েও নাটকের দিকে একটু বেশি মনোযোগী হলে ভালো নাটকের সংখ্যা বাড়বে। আমাদের চ্যানেলে আমরা সব সময় ভালো নাটককে প্রাধান্য দিয়ে আসছি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর