× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
গলাচিপায় হামলার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে ভিপি নুর

আমাকে প্রাণে মারার হুমকি দেয়া হচ্ছে

এক্সক্লুসিভ

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার | ২০ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার, ৯:০৪

শুধু অন্যায়-অনিয়মের প্রতিবাদ করার কারণে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, সরকারের বিরোধিতা না করার জন্য আমি ও আমার সংগঠনের (বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ) নেতাকর্মীদের বারবার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এমনকি তারা প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দিচ্ছে। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ডাকসু ভিপি। পটুয়াখালীর গলাচিপায় ক্ষমতাসীনদের নেতাকর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এ সংবাদ সম্মেলন করেন নুর। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে তুলনা করেও বলা হয়েছে যে, সরকার ইচ্ছা করে তাকে জেলে রেখেছে। আমরাও যদি সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করি, আমাদের পরিণতিও সে রকম হতে পারে। এ রকম হীন হুমকিও তারা দিচ্ছে।’ এ পর্যন্ত আটবার বিভিন্ন জায়গায় হামলার শিকার নুরুল হক নুর প্রধানমন্ত্রীর কাছে হামলার বিচার চেয়ে বলেন, ‘কিছুদিন আগেও আপনি বলেছেন যে সরকারের সমালোচনা করতে কোনো বাধা নেই, ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। আপনার কাছে জোরালো অনুরোধ, ভিন্নমতের মানুষের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ করে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে আপনার দলের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে কার্যকর করুন। আমার সংগঠনের নেতাকর্মীদের অযথা হয়রানি বন্ধ করুন। আমাদের ওপর যারা বারবার হামলা করছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়ে আপনি দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন বলে আমরা আশা করছি।’ পটুয়াখালীতে হামলার বিষয়ে নুর বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্য এসএম শাহজাদা সাজু এবং চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ী গলাচিপা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন শাহের নেতৃত্বে তার ভাই নূরে আলমসহ- লিটু পেয়াদা, আব্বাস পেয়াদা, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল ইসলাম রনো, উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক, উলানিয়া যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল, যুবলীগ নেতা ইদ্রিস, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ফরিদ আহসান কচিন ও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শরীফ আহমেদ আসিফ, ছাত্রলীগ নেতা জাহিদসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের শতাধিক নেতাকর্মী আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রড, স্টিলের চেইন ও চাপাতি নিয়ে আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় আমিসহ ২০ থেকে ২৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে চার-পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। সন্ত্রাসীরা শুধু হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি, চিকিৎসার মতো মৌলিক সেবা থেকেও আমাদের বঞ্চিত করেছে। কোনো মিডিয়াকে ফুটেজ নেয়ার জন্য হাসপাতালে যেতে দেয়নি। কোনো রকম চিকিৎসা না দিয়ে জোর করে তারা আমাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। গলাচিপা হাসপাতালে অবস্থানকালেও তারা আমার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও সমর্থকদের গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত মোট আটবার ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দ্বারা হামলার শিকার হয়েছি। একটি ঘটনাতেও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পুলিশের নীরব ভূমিকা ছিল সন্ত্রাসীদের সহায়ক। সর্বশেষ ১৪ই আগস্টের ঘটনার আগে হামলার আশঙ্কায় গলাচিপা পুলিশের সহযোগিতা চাইলেও ওসি কোনো ধরনের সহযোগিতা করেন নি। এমনকি পুলিশের উপস্থিতিতে সন্ত্রাসীরা আমার ওপর হামলা চালায় এবং আমার স্বজন ও সমর্থকদের গ্রেপ্তারের হুমকি দেয়।
এমতাবস্থায় আমি নিজের প্রাণনাশের শঙ্কা বোধ করছি। হামলাকারীদের একটিই উদ্দেশ্য। সেটি হচ্ছে আমাকে হত্যা করা এবং আমার সংগঠনের নেতাকর্মীদের মনোবল দুর্বল করে দেয়া। তাই আমি ছাত্রসমাজ তথা দেশবাসীর কাছে অনুরোধ করব, আপনারা আমার তথা অন্যায়ের প্রতিবাদী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হোন।’

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর