× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
খারাপ অবস্থা শীর্ষ চার পেসারের

ফিটনেস টেস্টে সেরা ফরহাদ-অমি

খেলা

স্পোর্টস রিপোর্টার | ২০ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার, ৯:৩৭

২০১৪তে জাতীয় দলের হয়ে শেষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলেছেন ফরহাদ রেজা। এরপর সুযোগ এলেও জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামতে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে তাকে। বয়স ৩৪ ছোঁয়া এই পেস অলরাউন্ডার ২০১১তেই বাদ পড়েছেন টেস্ট দল থেকে। ওয়ানডেতে তো অভিষেকই হয়নি। অন্যদিকে ৩২ বছর বয়সী জহুরুল ইসলাম অমি ৩ ফরমেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বাদ পড়েছেন ২০১৩তে। তবে তারাই কিনা এখনো নিজেদের ফিটনেস ধরে রেখেছেন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। গতকাল শুরু হওয়া কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ছিলেন বয়স ৩০ পেরিয়ে যাওয়া এই দুই ক্রিকেটারও। সেখানে ফিটনেস পরীক্ষাতে তারাই ছাড়িয়ে গেছেন জাতীয় দলে নিয়মিত খেলা ক্রিকেটারদের। সিরিজের আগে ক্রিকেটারদের ফিটনেস কেমন আছে তা জানার পদ্ধতি ‘বিপ’ টেস্ট। এই পরীক্ষাতে সর্বোচ্চ ১২.২ লেভেল পয়েন্টে ছিলেন এই দু’জন। ১২.২ পয়েন্ট পেয়েছেন দলে আসা যাওয়াতে থাকা পেসার আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী। অন্যদিকে ১১.১১ লেভেল পয়েন্ট নিয়ে তাদের পরেই আছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীম। এই পরীক্ষায় ৯.০ লেভেল নিয়ে সবেচেয়ে খারাপ ফিটনেস পেসার রুবেল হোসেনের। সম্ভবত এই কারণেই জাতীয় দলের ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়নকে খুশি দেখা যায়নি। তিনি অবশ্য সত্য না লুকিয়ে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ দল টানা ক্রিকেট খেলছে সেই অক্টোবর থেকে। পরবর্তী কয়েক মাস খেলোয়াড়রা যেন ফিটনেস ধরে রাখতে পারে সেটি নিয়ে কাজ করছি। ফিটনেস দেখে সন্তুষ্ট তবে খুব খুশি হওয়ার মতো নয়। আরও উন্নতি করা যায়।’
গতকাল ৩৫ সদস্য নিয়ে শুরুর কথা ছিল কন্ডিশনিং ক্যাম্পের। কিন্তু সাকিব আল হাসান ও সাব্বির রহমান রয়েছেন ছুটিতে। এছাড়াও এইচপিতে থাকা ক্রিকেটাররাও আসতে পারেননি। ক্যাম্পের প্রথম দিনে ছিলেন ২৩ জন ক্রিকেটার। তবে তাদের মধ্যে বিপ টেস্ট দেননি ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সৌম্য সরকার। এই টেস্টে ব্যবহার করা হয় ভিওটুম্যাক্স নামের একটি পদ্ধতি। এই প্রক্রিয়াতে জানা যায়, কী পরিমাণ অক্সিজেন একজন ক্রিকেটার নিতে পারে, যা ক্রিকেটারদের প্রাণশক্তির নির্ণায়ক হয়। এর মধ্যে ইনজুরি আক্রান্ত মাহমুদুল্লাহ রিয়াদেরও বেশ উন্নতি হয়েছে। বিপ টেস্টে তিনি ১১.১ লেভেল পয়েন্ট তুলেছেন। এছাড়াও আরেক ইনজুরি আক্রান্ত পেসার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ঘোষিত ক্যাম্পের তালিকাতে না থাকলেও তিনি গতকাল যোগ দেন। বিপ টেস্টে তিনি তুলেছেন ১১.০ পয়েন্ট। এই দুই ইনজুরি আক্রান্ত ক্রিকেটারের ফিটনেস নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট ট্রেনার। তবে তাদের আরো উন্নতির জায়গা আছে বলেই জানান তিনি। মারিও বলেন, ‘মাহমুদুল্লাহ ও সাইফুদ্দিনের ফিটনেস ভালো । আমি খুশি তাদের নিয়ে, তবে এখনো তাদের কিছু জায়গায় উন্নতি করতে কাজ করতে হবে।’ এছাড়াও মাশরাফির বর্তমান অবস্থা নিয়ে ট্রেনার বলেন, ‘আমাদের ওয়ানডে ম্যাচ আগামী বছর। এই জন্য তার ফিটনেস এখনই জানার প্রয়োজন নেই। তিনি কাজ করছেন ফিটনেস ধরে রাখতে। যখন সময় হবে তখন জানাবো।’ তবে জানা গেছে চিকিৎসকের পরামর্শেই গতকাল মাশরাফি টেস্ট দেননি।
জাতীয় দলে দীর্ঘদিন না খেললেও ফরহাদ রেজা নিয়মিত খেলেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। শুধু তাই নয়, এই বয়সেও তিনি তার ফিটনেস ধরে রেখেছেন শুধু জাতীয় দলে ফেরার অপেক্ষায়। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলে আবারও খেলার সুযোগটা আসলে অন্যদের হাতে। আমার হাতে আছে ভালো খেলা। যে কারণে ফিটনেস ধরে রাখার কোনো বিকল্প নেই। আমি আমার এই ফিটনেস ধরে রাখার জন্য ধন্যবাদ দেবো দেশি ফিজিও তুষার কান্তিকে। তিনি আমাকে নিয়মিত রুটিন করে দেন। আমার খুব বেশি প্রয়োজন হলে আমি বিসিবির আরেক ফিজিও বায়জিদুল ইসলামেরও অনেক সাহায্য পাই। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।’ অন্যদিকে বয়স এখনো ৩০ ছোঁয়নি জাতীয় দলের পেসার রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, আবু হায়দার রনিদের। কিন্তু তাদের ফিটনেসের অবস্থা ভালো নয়। লেভেল পয়েন্ট ১০ ছুঁতেই তাদের কষ্ট হয়ে গেছে। তাই এই বয়সেও ফরহাদ এমন রেজার ফিটনেস ধরে রাখাটা তাদের জন্য উদাহরণ হওয়া উচিত। এ নিয়ে ফরহাদ বলেন, ‘আসলে শুধু আমার জন্যই নয় ক্রিকেটে খেলতেই না, টিকে থাকতে হলে ফিটনেসের বিকল্প নেই। এখানে যে যত ফিটনেস ধরে রাখতে পারবে তারা ততদিন টিকে থাকবে ক্রিকেটে। আমি এখনো ফিটনেসের কারণেই জাতীয় দলের ফেরার আশা করি। নিজেকে প্রস্তুত রাখি।’
‘চার দিনে ফিটনেসের উন্নতি কঠিন’
কন্ডিশনিং ক্যাম্পে খেলোয়াড়দের খুব একটা ফিটনেস উন্নতির সুযোগ পান না ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়ন। তার জন্য এই ক’দিন ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়ে কাজ করাই কঠিন হয়ে যায়। যা ক্যাম্পের প্রথম দিনেই অকপটে জানিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমকে। তিনি বলেন, ‘ফিটনেস ক্যাম্প ৪ দিনে হয় না। খুব কঠিন হয়ে যায়। তবে ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ হলে সেটি খুব কাজে আসে। তবে সেটি এখন সম্ভব নয়। কারণ সামনেই আন্তর্জাতিক সূচি। তবে ক্রিকেটারদের ফিটনেসের অবস্থা একদম খারাপ না, সেই দিক থেকে আমি কিছুটা হলেও খুশি।’

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর