× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার

জয়শঙ্কর ঢাকায়

শেষের পাতা

কূটনৈতিক রিপোর্টার | ২০ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার, ৯:৪৪

ভারতের বিদেশমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর তিন দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন। রাত সোয়া নয়টার পর তিনি ঢাকা পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষেপে কথা বলেন দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ড. জয়শঙ্কর বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম ঢাকা সফরে আমি সত্যিকারভাবে আনন্দিত। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার মতো অনেক ইস্যু আছে যা আগামীকাল (মঙ্গলবার) কার্যকরভাবে আলোচনায় আসবে।   চলতি বছরের মে মাসে ভারতের ৩৮তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর এটি তার প্রথম বাংলাদেশ সফর। গুড উইল ভিজিট হলেও জয়শঙ্করের তাৎপর্যপূর্ণ এই সফরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। আগামী অক্টোবরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর নিয়েও আলোচনা করবেন তিনি। একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জয়শঙ্করের বাংলাদেশ সফর বিষয়ে জানিয়েছে, ঢাকা-দিল্লি বিদ্যমান সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করাই তার সফরের লক্ষ্য। সফরে অবৈধ অভিবাসন ও অনুপ্রবেশ, কানেক্টিভিটি, রোহিঙ্গা সংকট এবং যৌথ নদীগুলোর পানির বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনায় তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলোও স্থান পেতে পারে। তাছাড়া দু’দেশের মধ্যকার ব্যবসা-বাণিজ্য তথা রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারই তার সফরের মূল উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে। অতি সম্প্রতি সৃষ্ট কাশ্মির সঙ্কট, সীমান্ত হত্যা, ত্রিপুরা বিমানবন্দর সম্প্রসারণে বাংলাদেশের কাছে জমি চাওয়া এবং আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থার উত্থান চেষ্টা ঠেকানোর বিষয়ে দুই বন্ধু রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এজেন্ডা চূড়ান্তকরণের কোন আগাম কথাবার্তা হয়নি বলে দাবি সেগুনবাগিচার । ঢাকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অক্টোবরের শুরুতে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়া ইকোনমিক সামিটে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সামিটের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার বৈঠক হবে। দিল্লির ওই বৈঠক নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল  মোমেন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলবেন এস জয়শঙ্কর। বাংলাদেশে আসার এক সপ্তাহ আগে চীন ঘুরে এসেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি এমন এক সময়ে ঢাকায় এসেছেন, যখন চীনের মধ্যস্থতায়  রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য নতুন করে সময় নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। এস জয়শঙ্কর ঢাকা ছাড়ার পরদিন অর্থাৎ ২২শে আগষ্ট  রোহিঙ্গা প্রত্যাবসন শুরুতে রাজি হয়েছে দুই দেশ। খুব স্বাভাবিকভাবেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবসনে ভারতের সহযোগিতার বিষয়টিও তাঁর ঢাকা সফরের সময় আলোচনায় আসতে পারে বলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তখনো দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে নিউইয়র্কের আরেক দফা  বৈঠকের আয়োজন করা যায় কি না, তা নিয়েও কথা বলতে পারেন জয়শঙ্কর। এ মাসের শুরুতে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের মধ্য দিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরকে আলাদা করেছে বিজেপি সরকার। এ নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে নিজের অবস্থান তুলে ধরছে ভারত। বাংলাদেশ সফরের সময় এ বিষয়ে কথা বলবেন এস জয়শঙ্কর। দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রগুলোয় যোগাযোগ করে এটি জানা গেছে। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়া স্যাটেলাইটে যুক্ততার (রিসিভিং  সেন্টার স্থাপন) জন্য ঢাকা সফরের সময় বাংলাদেশকে অনুরোধ জানাতে পারেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। খসড়া সফরসূচি অনুযায়ী, জয়শঙ্কর আজ মঙ্গলবার সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে যাবেন। এরপর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ  কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে  বৈঠক করবেন। তাঁর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছেন আব্দুল  মোমেন। বিকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার সঙ্গে তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। রাতে ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাসের দেয়া  নৈশভোজে যোগ দেবেন। এস জয়শঙ্কর তিন দিনের সফরে শেষে আগামীকাল সকালে কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে যাবেন।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর