× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
সৌদি গেজেটের সম্পাদকীয়

বাংলাদেশে আরেক ট্র্যাজেডি

এক্সক্লুসিভ

মানবজমিন ডেস্ক | ২১ আগস্ট ২০১৯, বুধবার, ৮:২৫

ছবিগুলো হৃদয়বিদারক। পরিবারগুলোর যৎকিঞ্চিত সম্পদ ছিল তার সন্ধানে তারা আগুনে পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তূপের মাঝে তন্ন তন্ন করে খুঁজছিলেন। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় তাদের ঘরগুলো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকায় চলন্তিকা বস্তিতে বিধ্বংসী আগুন সব ছারখার করে দিয়েছে। তার মধ্যে কোনো অবশেষ আছে কিনা সেই সন্ধান করছিলেন অধিবাসীদের কেউ কেউ। প্রায় ১৫০০ বস্তি পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এতে প্রায় ৫০,০০০ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। তাদের যা কিছু অবশেষ ছিল তার সবই শেষ হয়ে গেছে।

দয়াবশত, দৃশ্যত এই অগ্নিকাণ্ডে কেউ মারা যাননি। তবে এগিয়ে আসা আগুনের হাত থেকে নিজেদের সহায় সম্বল সরিয়ে নিতে গিয়ে অনেকেই অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। বাংলাদেশে অগ্নিকাণ্ডের এক অগ্রহণযোগ্য ইতিহাস রয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েক শত মানুষ মারা গেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার চকবাজারে আগুনের লেলিহান শিখা কেড়ে নেয় কমপক্ষে ৮০টি প্রাণ। একই রকম অগ্নিকাণ্ডে চট্টগ্রামে নিহত হয়েছেন ৯ জন।

এর শীর্ষে রয়েছে, সমৃদ্ধ গার্মেন্ট ব্যবসায় পরিচালিত বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে বিপর্যয়ের এক কলঙ্কজনক ইতিহাস। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসে কমপক্ষে ১১৩৪ জন নিহত হন। আহত হন ২৫০০। আধুনিক ইতিহাসে অবকাঠামোগত ব্যর্থতায় সবচেয়ে ভয়াবহতা হিসেবে র‌্যাকিং হয়েছে এটি। কিন্তু আন্তর্জাতিক ব্রান্ডগুলোর চাপে, যারা এসব ‘সোয়েটসোপ’ থেকে পণ্য উৎপাদন করায় এবং ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড মার্কেটে ভালো দামে তা বিক্রি করে তারা, কারখানা মালিকরা, দুর্নীতিগ্রস্ত পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তারা, যারা এসব ভবনকে নিরাপদ হিসেবে প্রত্যয়ন করেছিলেন, তারা নিজেদের অবস্থানকে পরিষ্কার করতে লাগলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশের বস্তিবাসীদের নিরাপত্তা বা তাদের ভালোভাবে বাঁচার বিষয়ে উপদেশ দেয়ার তেমন কেউ নেই।

সপ্তাহান্তে সর্বশেষ যে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে তা এতটা দ্রুত সময়ে ছড়িয়েছে এজন্য যে, এসব বস্তির ঘরগুলো একেবারে গায়ে গায়ে লাগা। তা তৈরি হয়েছে ফেলে দেয়া দাহ্য পদার্থ দিয়ে। উপরন্তু এসব দুর্বল অবকাঠামোগুলোতে অতিমাত্রায় গাদাগাদি করে থাকেন মানুষ। কারণ, স্থান সংকুলানের জন্য তারা এমনটা করেন। তাই যখন আগুন লাগে, তখন অগ্নিনির্বাপকদের ট্রাক কাছাকাছি যেতে পারে না। তাছাড়া কাছাকাছি এমন কোনো স্থান নেই যেখান থেকে তারা পানি সংগ্রহ করতে পারেন। এ কারণে তাদের ওই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা। এ সময়ের মধ্যে রান্নার কাজে ব্যবহৃত কয়েক শত গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে বাড়তি বিপদ সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশে মোট ১৬ কোটি মানুষের এক তৃতীয়াংশ বসবাস করেন দারিদ্র্যসীমার নিচে। ফলে এখানে বাসস্থানের মৌলিক অধিকার দীর্ঘ সময় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। মানুষের চাপ এতটাই বেশি যে, প্রতি বর্গ কিলোমিটারে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হচ্ছে কমপক্ষে ১১০০ মানুষকে। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। যদিও পর্যায়ক্রমিক সরকারগুলো বস্তি এলাকায় কমপক্ষে পরিষ্কার পানি সরবরাহের কথা বলেছে, কিন্তু এক্ষেত্রে সেবায় রয়েছে ভয়াবহ এক অবহেলা। কর্মকর্তারা আবাসন বিষয়ক বিধিবিধান কার্যকর করতে পারেন- এমন ধারণা এখানে হাস্যকর। কারণ, তাদের কাজ হবে সম্পূর্ণ অসম্ভব। যখন একটি পরিবার এমনিতেই ভয়াবহ দারিদ্র্যের মধ্যে তখন তাকে তার বাসস্থান উন্নত করতে কিভাবে কেউ নির্দেশ দিতে পারেন? ব্রাজিল ও মেক্সিকো একটি উদাহরণ হতে পারে। অবৈধ বস্তি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়ে সমস্যাকে শুধু অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়।
নতুন এমন ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে অগ্নি-নিরোধক সরঞ্জামাদি দিয়ে। পাশাপাশি থাকতে হবে পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, থাকবে বিদ্যুৎ এবং চলাচলের চওড়া রাস্তা। তুরস্কে মিউনিসিপ্যালিটিগুলো এটা করেছে অনেক বস্তি এলাকায়। সেখানে এমন বসতি বৈধ।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর