× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
ট্রেনের বগিতে ছাত্রীর লাশ

ধর্ষণের পর হত্যা

প্রথম পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ২১ আগস্ট ২০১৯, বুধবার, ৯:১২

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের একটি পরিত্যক্ত বগির বাথরুম থেকে উদ্ধার মাদ্রাসা ছাত্রীর লাশের ময়না তদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান, ময়নাতদন্তের সময় মেয়েটির গলায় আমরা দাগ  পেয়েছি। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি জানান, হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এর আলামত আমরা  পেয়েছি।

হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১০ টার দিকে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের একটি পরিত্যক্ত বগিতে ওই ছাত্রীর লাশ দেখতে পান টহলরত এক আনসার সদস্য। খবর পেয়ে ঢাকা রেলওয়ে পুলিশের সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিহতের পরিচয় উদঘাটন করে। ঢামেক হাসপাতালে আসমার চাচা রাজু আহামেদ কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, আসমা গত রোববার সকাল থেকে নিখোঁজ ছিল। সোমবার পুলিশের মাধ্যমে তারা সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে এসে তার লাশ শনাক্ত করেন।

তিনি জানান, বাঁধন নামে স্থানীয় এক যুবক তাকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায় বলে জানতে পেরেছি। বাঁধনও একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। আসমা নিখোঁজের পর থেকে ওই ছেলেকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর সে পলাতক রয়েছে। বাঁধনই তাকে ফুসলিয়ে নিয়ে হত্যা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত থাকলে তাদেরকেও গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি। ঢাকা রেলওয়ে থানার এসআই মো. আলী আকবর জানান, ওই ছাত্রী কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ ছিলো বলে তার স্বজনরা পুলিশকে জানিয়েছেন।

ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি রুশো বনিক গতকাল রাতে মানবজমিনকে জানান, এ ঘটনায় নিহতের চাচা রাজু আহমেদ বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছে। মামলায় মারুফ হাসান বাঁধনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। স্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল কী-না প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, যে স্থান থেকে ওই যুবতীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ওই স্থানটি মূলত রেলওয়ের নিজস্ব বাহিনীর লোকজন দেখাশোনা করে থাকে।  আসমা পঞ্চগড় সদর উপজেলার শিংপাড়া এলাকার কনপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় মেয়ে। সে স্থানীয় খাঁনবাহাদুর মখলেছুর রহমান আলিম মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পাস করেছে। এরপর পরিবারের আর্থিক অনটনে তাকে আর কলেজে ভর্তি করা হয়নি বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানানোসহ খোঁজ খবর নেন। নিহত আসমার পরিবারের সদস্যরা জানায়, গত রোববার সকালে আসমা খাতুনের বাবা মা বাড়ির বাইরে কাজে যাওয়ার পর আসমা একটি কাপড়ের ব্যাগ নিয়ে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর সোমবার সকালে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারে কমলাপুর রেল স্টেশনের ময়মনসিংগামী বলাকা কমিউটার ট্রেনের একটি পরিত্যক্ত বগির শৌচাগার থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তার ব্যাগে তার বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র ও নিজের নাগরিকত্বের সনদপত্র থেকে পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। ঢাকায় থাকা গাড়ির চালক চাচা মো, রাজু তার লাশ শনাক্ত করেন। নিহত আসমা খাতুনের মা শেফালি বেগম বলেন, রোববার সকাল থেকে আসমার কোনো খোঁজ পাইনি। সোমবার সকালে জানতে পারি তার লাশ ঢাকার রেল স্টেশনে পাওয়া গেছে। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি পাশের  হেলিপ্যাড এলাকায় মারুফ হাসান বাঁধন নামের এক ছেলের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল।

মারুফ হাসান বাঁধনের মা বিলকিস বেগম বলেন, রোববার সকালে প্রতিদিনের মত বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে। এর পর আর ফিরে আসেনি বাঁধন। খাঁনবাহাদুর মখলেছুর রহমান মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুস সামাদ বলেন, আসমা আর বাঁধন এই মাদ্রাসায় পড়তো। তবে বাঁধন অষ্টম শ্রেণি পাশের পর অন্য মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেছে। আর আসমা এই মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেছে।  

পঞ্চগড় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী সাংবাদিকদের জানান, ‘অনাকাঙ্খিত ঘটনাটি ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘটেছে। নিয়ম অনুযায়ী সেখানকার রেল পুলিশ মামলা গ্রহণ ও তদন্ত করবে। যেহেতু নিহতের বাড়ি পঞ্চগড়ে, এজন্য তদন্তের সময় আমাদের সহায়তার প্রয়োজন হচ্ছে। আমরা ছায়া তদন্ত করাসহ তদন্ত কর্মকর্তাকে সহায়তা করছি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
পাঠকের মতামত
**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।
Kazi
২০ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার, ৮:৩৩

ধর্ষকেচ্ছুদের কাছেই বর্তমান শাস্তি তুচ্ছ। ধরা পড়ছে বিচারে প্রচলিত আইনে সাজা হচ্ছে। ধর্ষণ কি তাতে কমছে ? কমবে না কারণ ধর্ষনেচ্ছুরাই আইনের সাজাকে তূচ্ছ মনে করে। তাই মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর কাছে আবেদন মেয়েদের ইজ্জত বাঁচাতে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন করুন। আপনি একজন মা, দাদী নানী একজন মহিলা । হিজরা বানানোর আইন সর্বোকৃষ্ট । ভেবে দেখবেন।

অন্যান্য খবর