× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার

অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি

বিনোদন

ফয়সাল রাব্বিকীন | ২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৮:১৪

বছরের সাতটি মাস চলে গেছে। এখন চলছে অষ্টম মাস, আগস্ট। কিন্তু চলতি বছরে সংগীতের অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। বরং গানের পরিসর ছোট হয়ে আসছে ক্রমশই। এরইমধ্যে বেশকিছু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান একদমই কমিয়ে দিয়েছে তারকা শিল্পীদের গান প্রকাশ। অন্যদিকে সিনিয়র শিল্পীরাও অনিয়মিত গানে। আর একেবারে নবীন শিল্পীরা নিজেদের গাটের অর্থ খরচ করে গান তৈরির সাহসই পাচ্ছে না। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, গানে ব্যবসা আগের মতো নেই। দিন দিন সেটা শূন্যের কোঠায় চলে আসছে। আর সব মিলিয়ে এখন ঘোর অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে সংগীতাঙ্গনে। কয়েক বছর ধরে ডিজিটালি গান প্রকাশ হচ্ছে। ইউটিউবে গান প্রকাশ করছেন শিল্পীরা। সেদিক থেকে গানের ইউটিউবের ভিউও কেবল  কমছে। গেল দুই ঈদের প্রকাশিত গানের ভিউ নিয়ে সন্তুষ্ট নন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, শিল্পী ও সংগীত সংশ্লিষ্টরা। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র গান দিয়ে কোম্পানি টিকিয়ে রাখতে পারছে না। যার কারণে প্রকাশ করছে নাটক, ওয়েব সিরিজ ও শর্টফিল্মও। এদিকে গেল ঈদে প্রকাশিত নাটকগুলোর ভিউ গানের ভিউ থেকে অনেক বেশি সন্তোষজনক। আর বছরের এ পর্যায়ে এসে তাই বড় বাজেটের গান প্রকাশে তেমন একটা সাহস পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানগুলো। গেল ঈদে সিনিয়র শিল্পীদের গান তেমন একটা প্রকাশ হয়নি। সব মিলিয়ে আসিফ আকবর, ইমরান ও কাজী শুভই সব থেকে সরব ছিলেন গান নিয়ে। তাদের বাইরে কারো গানই তেমন একটা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি। আর ঈদের পর যেখানে থার্টি ফার্স্ট নাইট কিংবা ভালোবাসা দিবসের গানের ব্যস্ততা শুরু হয়ে যাওয়ার কথা, সেখানে এখনও তেমন কাজই শুরু হয়নি। সব মিলিয়ে তথৈবচ অবস্থা বিরাজ করছে সংগীতাঙ্গনে। এদিকে চলতি বছরের সংগীতাঙ্গনের অবস্থা নিয়ে এমআইবি সভাপতি ও লেজারভিশনের চেয়ারম্যান একে এম আরিফুর রহমান বলেন, এখন যে অবস্থা খারাপ এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। খারাপ অবস্থা নিয়ে বলতেও খারাপ লাগে। কিন্তু একটি গানে বিনিয়োগ করে তার খরচ উঠিয়ে আনা সত্যিই খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া অডিওর পাশাপাশি এখন ভিডিও প্রকাশ করতে হয়। এর ফলে একটি গানে খরচ এখন আরো আগের তুলনায় বেড়েছে। কিন্তু আয় একেবারে কমে গেছে। ওয়েলকাম টিউন থেকে আগে বড় একটি আয় আসতো। কিন্তু সেটার অবস্থা এখন শুন্যের কোঠায়। শুধুমাত্র ইউটিউবের ওপর ভর করে গান থেকে আসলটা উঠিয়ে আনাই এখন কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি ভালো গান প্রকাশের। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এই চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াটাও বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। গানের সার্বিক অবস্থা প্রসঙ্গে ঐতিহ্যবাহী প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সাউন্ডটেকের কর্ণধার সুলতান মাহমুদ বাবুল বলেন, ক্যাসেট ও সিডির পর এখন ডিজিটালি গান প্রকাশ হচ্ছে। এই ধারায় আমরা গান প্রকাশ করছি। আগে যেখানে ক্যাসেট কিংবা সিডি বিক্রি হওয়ার হিসাবটি সহজে পেয়ে যেতাম। এখন তেমনটা নয়। দীর্ঘমেয়াদি হয়ে গেছে বিষয়টি। কিন্তু আমরা হতাশ নই। আমরা ভালো মানের গান প্রকাশের চেষ্টা করে যাচ্ছি। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ঈদে বেশ কিছু গান প্রকাশ করেছি। সামনেও আমাদের এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। গানের অবস্থা প্রসঙ্গে চলতি প্রজন্মের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ইমরান বলেন, আসলে নিজেরটা বলতে গেলে যে গানগুলো প্রকাশ করেছি ঈদে সেগুলোর অবস্থা ভালো। তবে সার্বিক অবস্থা এখন মোটামুটি। সব মিলিয়ে হয়তো এখন সময়টা সবার জন্য ভালো যাচ্ছে না। তবে আমি মনে করি এটা সব সময় থাকবে না। কারণ আমাদের দেশের মানুষ গানপাগল। অবশ্যই ভালো মানের গান হলে তারা শুনবে। আর ভালো ও খারাপ সময় থাকবেই। এটা মেনে নিয়েই আসলে কাজ করতে হবে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর