× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
এ জে ন্ট ব্যাং কিং

৫ বছরে আমানত ৫ হাজার কোটি টাকা

শেষের পাতা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ৯:১৯

কার্যক্রম শুরুর মাত্র ৫ বছরেই এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার আমানতের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৫ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। গ্রাহক সংখ্যা ৩৪ লাখ ১৬ হাজার ৬৭২ জন। এর মধ্যে নারীদের জমা করা আমানত বেড়েছে ৬০ শতাংশ। পুরুষদের আমানত বেড়েছে ৩৪.৭৫ শতাংশ। সাধারণত একটি ব্যাংকের শাখা পরিচালনা করতে যে লোকবল ও অর্থ ব্যয় হয় তার চেয়ে অনেক কম খরচে ব্যাংকিং কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারায় ব্যাংকগুলোর কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এজেন্ট ব্যাংকিং। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীসহ সমাজের সবার উপযোগী ও ব্যয়সাশ্রয়ী আর্থিক সেবা চালুর লক্ষ্যে ২০১৩ সালে এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সাধারণত এলাকার পূর্বপরিচিত দোকানদার, ব্যবসায়ী বা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেবা কেন্দ্রের এজেন্ট পয়েন্ট থেকে সেবা পাওয়ায় কোনো ভীতি কাজ করছে না মানুষের মধ্যে। সমাজের একটি অংশ কেমন খরচ হবে, কীভাবে কথা বলতে হবে- এসব কারণে ব্যাংকে যেতেন না। তারাই এখন এজেন্ট পয়েন্টে গিয়ে সঞ্চয় রাখছেন বা ক্ষুদ্রঋণ নিচ্ছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে নারীরা আমানত জমা করা ও হিসাব খোলার ক্ষেত্রে পুরুষদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। তিন মাসে (২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত) এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে পুরুষদের হিসাব খোলার সংখ্যা বেড়েছে ১৬.৩৩ শতাংশ। এক্ষেত্রে নারীদের সংখ্যা বেড়েছে ২০.৩৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার কল্যাণে বিদেশ থেকে প্রবাসী আয়ও সহজে পৌঁছে যাচ্ছে গ্রামের উপকারভোগীদের কাছে। যেসব ব্যাংক এই সেবায় জোর দিয়েছিল, তারাই বর্তমান তারল্য সংকটের সময়ে একটু ভালো অবস্থানে ও স্বস্তিতে আছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এজেন্টদের মাধ্যমে গত জুন পর্যন্ত মোট ৯ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকার প্রবাসী আয় এসেছে। এর মধ্যে ডাচ-বাংলা ৩ হাজার ৫১০ কোটি টাকা, ব্যাংক এশিয়া ২ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ১ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা, ইসলামী ব্যাংক ১ হাজার ১১২ কোটি টাকা এনেছে।

বর্তমানে এজেন্ট ব্যাংকিং করছে ১৯টি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের ৬ হাজার ১৩ এজেন্টের আওতায় ৮ হাজার ৬৭১টি আউটলেট রয়েছে। এজেন্ট ও আউটলেট বিস্তৃতিতে শীর্ষে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া। ব্যাংকটির ২ হাজার ৮৭৭টি এজেন্টের আওতায় বর্তমানে ২ হাজার ৯৬০টি আউটলেট রয়েছে। সেবা প্রসারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক। ব্যাংকটির ৭৪১টি এজেন্টের আওতায় আউটলেট রয়েছে ২ হাজার ৯৫৩টি। তৃতীয় অবস্থানে থাকা এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের ৫৬৭টি আউটলেটের ৫৩৭টিই গ্রামে।
যে ১৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে সেগুলো হলো- ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, আল-আরাফাহ ইসলামি ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড, এবি ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার যে কেউ যখন তখন ইচ্ছা করলেই লেনদেন করতে পারছেন। যেকোনও প্রয়োজনে দরকার হলে অল্প সময়েই টাকা পাচ্ছেন। তিনি বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ব্যয়ও সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর। তাই প্রতিনিয়ত-এর প্রসার ঘটছে।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর