× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার

চিদাম্বরমকে রাতভর জেরা, আজ তোলা হবে আদালতে

ভারত

কলকাতা প্রতিনিধি | ২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ১২:৪৩

দীর্ঘ ৩০ ঘন্টা লুকোচুরির পর বুধবার রাতে ভারতের কংগ্রেস নেতা এবং সাবেক অর্থ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমকে হেফাজতে নিয়ে রাতভর জেরা করেছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। সিবিআই সূত্রের খবর, আজ বৃহস্পতিবার তাকে সিবিআই আদালতে পেশ করা হবে। সর্বাধিক ১৪ দিনের জন্য চিদাম্বরমকে হেফাজতে নেবার জন্য আবেদন জানাবে সিবিআই। বুধবার রাতে  পি চিদাম্বরমকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে সন্ধ্যের পর থেকে নাটকের পর নাটক হয়েছে।  এদিন রাতে চিদাম্বরম ২৪ আকবর রোডের কংগ্রেস দপ্তরে আইনজীবীদের নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। তবে এ খবর জানার পরই সিবিআই  আধিকারকরা সেখানে ছুটে যান। কিন্তু তার আগেই চিদাম্বরম বাড়ি চলে গিয়েছিলেন। এরপর সিবিআই আধিকারিকরা জোড়বাগে চিদাম্বরমের বাড়িতে গিয়ে গেট খোলার অনুরোধ জানালেও গেট খোলা হয়নি। তবে গেট না খোলায় দেওয়াল টপকে বাড়িতে ঢুকে তারা রাত পৌনে দশটা নাগাদ চিদাম্বরমকে গ্রেপ্তার করেছেন। তবে দলীয় দপ্তরে সাংবাদিক সম্মেলনে চিদাম্বরম বলেছেন, আমার নাম এই মামলার এফআইআরে নেই। মিথ্যেবাদীরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে কথা বলে চলেছে। আমি গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচের দাবি করেছিলাম। দিল্লি হাইকোর্ট তা মঞ্জুরও করেছিল। ফলে আমি গত ১৫ মাস জামিনে ছিলাম। কিন্তু মঙ্গলবার আদালত সেই জামিন খারিজ করে দিয়েছে। তবে আমি পালিয়ে যাইনি। বুধবার সুপ্রিম কোর্টেও উপস্থিত ছিলাম। গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে আমার আবেদন, আইনকে সম্মান করুন। গণতন্ত্রে আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। বর্তমানে ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভার সদস্য চিদাম্বরম অতীতে বিভিন্ন সময় অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পেনশনবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নির্বাচিত হয়েছিলেন সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভার সদস্য হিসেবেও। .চিদাম্বরমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রথম  ইউপিএ সরকারের আমলে অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন পিটার ও ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়ের আইএনএক্স মিডিয়া গোষ্ঠীকে বেআইনিভাবে বিদেশি লগ্নি আনার ছাড়পত্র দিয়েছিলেন। তার বিনিময়ে চিদাম্বরম তার ছেলে কার্তির সংস্থাকে সাহায্য করতে বলেছিলেন। পিটার-ইন্দ্রাণী কার্তিকে তিন কোটি রুপি ঘুষ দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ। এর আগে চিদাম্বরমের পুত্র কার্তিকে এই আইএনএক্স মিডিয়া মামলাতেই সিবিআই গ্রেপ্তার করেছিল। প্রায় তিন সপ্তাহ সিবিআই হেফাজতে ছিলেন কার্তি। গত মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট চিদাম্বরমের আগাম জামিন বাতিল করে দেওয়ার পর থেকে তার কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই ও ইডি  দাবি করেছিল। একটি দুর্নীতি মামলায় সিবিআই ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের গোয়েন্দারা হন্যে হয়ে তাকে খুঁজছিলেন। তবে বুধবার সারাদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টে চিদাম্বরমের গ্রেপ্তারি ঠেকাতে জামিনের চেষ্টা করার পরও আবেদনের শুনানি হয়নি। সন্ধ্যার পরে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার তার জামিন আবেদনের শুনানি হতে পারে। ফলে চিদাম্বরমের গ্রেপ্তারি একরকম নিশ্চিত হয়ে উঠেছিল। বুধবার সকালেই চিদাম্বরমের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস জারি করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ফলে দেশের বাইরে যাওয়ার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।  বুধবার সুপ্রিম কোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করে চিদাম্বরমের আইনজীবীরা জানিয়েছেন,  ‘বেপাত্তা’ বলে তদন্তকারী সংস্থা দু’টি যে দাবি করছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি পালিয়ে যাননি এবং বিচার প্রক্রিয়াকেও এড়াচ্ছেন না। তবে আদালতকে সিবিআই পাল্টা জানায়, যে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ চিদাম্বরমের বিরুদ্ধে উঠেছে তা নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত।  মঙ্গলবারই আইএনএক্স মিডিয়া মামলায় দিল্লি হাইকোটের্র বিচারপতি সুনীল গৌর চিদাম্বরমের জামিন খারিজ করে দিয়ে রায়ে বলেছেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, সাবেক অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমই আইএনএক্স মিডিয়া আর্থিক কেলেঙ্কারি মামলার ‘কিংপিন’ অর্থাৎ প্রধান ষড়যন্ত্রী। আইএনএক্স মিডিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগে অসঙ্গতির অভিযোগে চিদাম্বরমের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে ইডি এবং সিবিআই। তবে এদিন চিদাম্বরমকে হেফাজতে নেবার পর কার্তি চিদাম্বরম বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সব করা হচ্ছে। এই মামলায় চিদাম্বরমকে যেভাবে জড়ানো হয়েছে তার নিন্দা করে কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, ইডি, সিবিআই এবং মেরুদন্ডহীন সংবাদ মাধ্যমের একাংশকে কাজে লাগিয়ে চিদাম্বরমের চরিত্রহননের চেষ্টা করেছে মোদী সরকার। ক্ষমতার এই নির্লজ্জ অপব্যবহারের তীব্র নিন্দা করেছেন রাহুল। চিদাম্বরম ইস্যুতে সরব হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। কংগ্রেস চিদাম্বরমের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছে, অর্থনীতির দুর্দশা থেকে অনুচ্ছেদ ৩৭০ রদ করার মতো বিষয়ে চিদাম্বরম গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী স্বর ও মস্তিষ্ক হিসেবে কাজ করতেন। রাজ্যসভাতে সরকারকে আক্রমণে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কংগ্রেসের অভিযোগ, এই কারণেই চিদাম্বরমকে নিশানা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন, দুর্নীতির সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলকে জড়ানো উচিত নয়। দুর্নীতির তদন্তে আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা করা উচিত সকলের।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর