× প্রচ্ছদ অনলাইনপ্রথম পাতাশেষের পাতাখেলাবিনোদনএক্সক্লুসিভভারতবিশ্বজমিনবাংলারজমিনদেশ বিদেশশিক্ষাঙ্গনরকমারিপ্রবাসীদের কথাবই থেকে নেয়া তথ্য প্রযুক্তি শরীর ও মন চলতে ফিরতে ষোলো আনা ইলেকশন কর্নার
ঢাকা, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার

ফুলবাড়ীয়ায় ৬ দিন ধরে একঘরে একটি পরিবার

বাংলারজমিন

ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি | ২৩ আগস্ট ২০১৯, শুক্রবার, ৮:৫৫

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ভাবানীপুর গ্রামের ৯০ বছরের বৃদ্ধ জয়নাল আবেদীন। লাঠি ছাড়া চলতে পারেন না। বাড়ি থেকে ৫০ গজ দূরে সামাজিক মসজিদে তিনিসহ তার পরিবারের নামাজ পড়া নিষেধ। ওই পরিবারের সঙ্গে কেউ কথা বললে এক হাজার টাকা জরিমানার ঘোষণা দিয়ে মসজিদ কমিটি সামাজিকভাবে একঘরে করে রেখেছে গত শুক্রবার থেকে। একঘরে রাখার বিষয়টি শুধু মুখে নয় মসজিদ কমিটির প্রভাবশালীরা রেজুলেশন করে সবার স্বাক্ষরও নিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। বৃদ্ধ জয়নাল আবেদীনের ৫ ওয়াক্ত নামাজ বাড়িতেই আদায় করতে হচ্ছে এখন। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ভাবানীপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে।
উপজেলার ভবানীপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, সমাজের সকলেই মসজিদে নামাজ আদায় করছেন। আর বাড়ি মসজিদ দেখা বৃদ্ধ জয়নাল আবেদীন তার বাড়িতে জোহরের নামাজ আদায় করছেন। নামাজ শেষে কথা হয় জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে। তিনি জানান, আমাদের সামাজিক মসজিদ বাড়ি থেকে ৫০ গজ দূরে। মসজিদের প্রস্র্রাবখানা ও ল্যাট্রিন আমার জমিতে। আমার কাছে থাকা মসজিদের প্রস্রাব ও ল্যাট্রিনের চাবি ১০-১২ দিন আগে নিয়ে নেন মসজিদ কমিটির ক্যাশিয়ার হোসেন আলী। এ নিয়ে হোসেন আলীর সঙ্গে আমার কথাকাটাকাটি হয়। গত ১৬ই আগস্ট শুক্রবার আমি মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুছ ছালামসহ কমিটির লোকজন আমাকে গালমন্দ করে মসজিদ থেকে বের করে দেন। আমি সে দিন জুমার নামাজ আদায় করতে পারিনি। জুমার নামাজ শেষে আমার পুরো পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরেসহ সমাজের কেউ কথা বললে তাকে এক হাজার টাকা জরিমানার কথা উল্লেখ করে সকলের সই-স্বাক্ষর নিয়ে রেজুলেশন করা হয়। সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখার পর থেকে আমাকে মসজিদে নামাজ পড়তে দেয়া হচ্ছে না। ভয়ে সমাজের লোকজন কথা পর্যন্ত বলছেন না। বৃদ্ধ জয়নাল আবেদীনের পুত্র শফিক জানান, আমরা ৫ ভাই। আমার আব্বা বুড়া মানুষ। তাকে এভাবে প্রকাশ্যে সামাজিকভাবে একঘরে রাখা কি ঠিক হইছে? আমার বৃদ্ধ পিতা ভুলত্রুটি করে থাকলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ আছে সেখানে বিচার দিতে পারত। এতে করে আমাদের পরিবারের সকল শিশুর উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান কাঞ্চন একঘরে করে রাখার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আসলে ভয় দেখানোর জন্য একঘরে করা হয়েছে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুস ছালাম বলেন, বৃদ্ধ লোকটি আসলে ভালো না। তাকে সঠিক পথে আনার জন্য একঘরে করে রাখা হয়েছে। ভয় দেখানোর জন্য রেজুলেশন ও সকলের স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে।
ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীনুর মল্লিক জীবন বলেন, সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখার বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তিনি খোঁজ নেয়ার কথা বলেন।
ফুলবাড়ীয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ তালুকদার বলেন, সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখার বিষয়ে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি।

অবশ্যই দিতে হবে *
অবশ্যই দিতে হবে *
অন্যান্য খবর